১০:১৩ পি.এম
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার চরভাটেরা ও মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চর দখল নিয়ে সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে এক গৃহবধূর মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। নিহত নারী হলেন, মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম, যিনি ৩৫ বছর বয়সী।
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরের দিকে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজের জন্য মেঘনা উপজেলার দিকে গেলে চর বিনতপুর এলাকার আলী আকবর ও তার কর্মীরা তাদের মারধর করে আটকে রাখেন। সেই খবর পাওয়ার পর, চরভাটেরা গ্রামের লোকজন মেঘনা নদী পার করে গিয়ে তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এই ঘটনার পর, বিকেল বেলায় মেঘনার আলীপুর ও চর বিনতপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাসের চরভাটেরাবাসীর মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের প্রায় ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিতাসের ১৫ জন এবং মেঘনার ২৫ জন রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে চরভাটেরা গ্রামের আহতদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং আলীপুর ও বিনতপুর এলাকার আহতদের মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজন বিনতপুর গ্রামের স্বপন (২৭), সাগর (৪০) এবং চরভাটেরা গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩৫) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের পর আলীপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় এক নারীর ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে মরদেহ উদ্ধার করায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। নিহত নারী আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তিতাস থানা থেকে ২৫ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অশান্তির ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
এতে উল্লেখ্য যে, মেঘনা নদীর এক পাশে তিতাস উপজেলা এবং অন্য পাশে মেঘনা উপজেলা অবস্থিত। নদীর বিভিন্ন চর নিয়ে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে গত ১৫ জুনেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে প্রায় ২০ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন