ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাসিক অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা আরএমপিকে হস্তান্তর করেছে


রাসিক অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা আরএমপিকে হস্তান্তর করেছে

রাজশাহী, ২৬ জুলাই, ২০২৬ : রাজশাহী মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অপরাধ দমন, যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটালি সিকিউরড সিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশকে (আরএমপি) মোট ১৫৫টি অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ (রোববার) দুপুরে আরএমপি কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সিসি ক্যামেরাগুলো তুলে দেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

অনুষ্ঠানে মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুশাসন বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে আমাদের কাজ করতে হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা প্রদান করা হলো। আমরা সম্মিলিতভাবে নিরাপদ ও শান্তির মহানগরী গড়তে কাজ করে যাব। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আরএমপিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

আরএমপি কমিশনার ফয়েজুল কবির বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরাগুলো পুলিশের প্রিভেন্টিভ ও ডিটেকটিভ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন করে ১৫৫টি স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে রাজশাহী নগরী আরও নিরাপদ হবে এবং যানজট মুক্ত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইট উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাইনুল ইসলাম, বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি) মো. আবুল কালাম সাহিদও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই সিসি ক্যামেরাগুলো রাজশাহী মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি, অপরাধ প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সংরক্ষণে বন বিভাগের উদ্যোগ জোরদারের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সংরক্ষণে বন বিভাগের উদ্যোগ জোরদারের দাবি

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

বারংবার ঝড়-জলোচ্ছ্বাস কিংবা ঘুর্ণিঝড়ের গ্রাসে থাকা জনপদ কলাপাড়ার গোটা উপকূলকে রক্ষা করে আসছে ম্যানগোভ প্রজাতির বনাঞ্চল। এই গাছপালা সবুজ দেয়ালের মতো জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা ঠেকিয়ে দেয়। মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলের বিকল্প নেই। বেচে থাকার অবলম্বন হিসেবে এই বনাঞ্চলের নিধনে অনিরাপদ উপকূলে ফের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনায়নের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় বনবিভাগ। এটি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে শুরু করা হয়েছিল। এর ফলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল বাড়তে শুরু করেছে। কোথাও প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এ প্রজাতির গাছের চারা যেমন ছইলা, কেওড়া, গোল, বাইনসহ অন্যান্য গাছের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বনবিভাগ কঠোর নজরদারি রাখছে। নতুন চরে নতুনভাবে লাগানো হয়েছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের লাখো চারা। গঙ্গামতির চরাঞ্চল ও আন্ধারমানিক নদী তীরের নতুন চরে এটি লাগানো হয়েছে। এটি ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় হিসেবে কলাপাড়া ও পায়রা বন্দরের মানুষকে রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের এবং তাদের সম্পদ রক্ষা হবে। ইতিবাচক এ উদ্যোগটিকে দুর্গতিতে মানুষকে নিরাপদ রাখবে এ বিষয়ে স্থানীয় ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতামত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ মহলটি বনাঞ্চলের আশপাশে নির্মিত স-মিল বন্ধের সুপারিশ করেছেন। উপকূলবাসীর দাবি, ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলে বাড়িঘর তোলা বন্ধ করতে হবে।

কলাপাড়া উপজেলায় বনবিভাগের মোট আয়তন ১০ হাজার ১৭৭ দশমিক ১১ একর। এর মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে তিন হাজার নয় শ’ ৭৮ দশমিক ৩৩ একর। এর মধ্যে কুয়াকাটা বিটে ১৯৩ একর, কুয়াকাটা ক্যাম্পে ১৮১৮ দশমিক ৯৩ একর, গঙ্গামতি ক্যাম্পে ১১২৮ একর, খাজুরা ক্যাম্পে ৩৪৬ দশমিক ৮৭ একর এবং ধুলাসার ক্যাম্পের অধীন ৪৬১ দশমিক ৫৩ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। এছাড়া ফুলবুনিয়া, বালিয়াতলী ও লালুয়া এলাকায় বনায়ন করা হচ্ছে।

বিভিন্ন তথ্যসূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ১৯৫৭ সাল থেকে সাগরপাড়ের এই জনপদে বনায়নের কাজ শুরু হয়। ম্যানগ্রোভ ও ননম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনায়ন করা হয়। ষাটের দশকের মাঝামাঝি কৃষিকাজের স্বার্থে নদী ও সাগরের পাড় ঘিরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। লোনা পানির কবল থেকে মানুষকে তাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। বেড়িবাঁধের ভিতরে খালের সংযোগস্থলে স্লুইসগেট করা হয়। এরপর বেড়িবাঁধের বাইরে সবচেয়ে বেশি গোলগাছের বাগান সৃজন করা হয়েছে। অধিকাংশই সৃজিত হয়েছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান। ওই সময় থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত হিসাব অনুসারে কলাপাড়ায় ৪৬ একর জমিতে সেগুন গাছ এবং ২১০ একর নারিকেল বাগান তৈরি করা হয়েছে। গোলপাতা ২৭৯৪ একর, কড়ই বাগান ৬২৭ একর, গেওয়া বাগান ৩২০ একর এবং হোগলা পাতা ৪০ একর। সুন্দরী পশুর কেওড়া গাছের জন্য ১০৫ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটিও দেখা গেছে যে ১৯২৯ একর ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ এবং ৩১২ একর ননম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছও লাগানো হয়েছে। পরবর্তীতে কমপক্ষে ১১৫ কিলোমিটার এলাকায় স্ট্রীপ সংযোগ সড়ক এবং বাগান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু একটি শ্রেণির বনদস্যু বনবিভাগের কর্মীদের প্রকাশ্য যোগসাজশে বনাঞ্চল নিধন ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, মানুষ নিজের নিত্যকাজে এবং জ্বালানির জন্য বন উজাড় করতে থাকে। বনাঞ্চলের আশপাশে স-মিল গড়ে তোলা হচ্ছে কোনও কিছু তোয়াক্কা না করেই। সরকারিভাবে এসব স মিলের অধিকাংশের বৈধ কাগজপত্র নেই এবং অভিযোগ রয়েছে যে মাসোহারায় চলছে এসব। ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মীর কারণে বনবিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেমন, মধুখালীর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলকে কৃষিজমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে, যেখানে প্রাচীন শত শত ছইলা, কেওড়া, বাইনগাছ কাটা হচ্ছে। বসতবাড়ি নির্মিত হচ্ছে এবং এটি চলতে থাকছে। বর্তমানে দৃষ্টিনন্দন মধুখালী লেকসহ দুই পাড়ের বনাঞ্চলটি ধ্বংসের মুখোমুখি রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান যে, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বনটিকে বনবিভাগ দেখভাল করে আসছে। গাছ কাটার ঘটনায় অসংখ্য বনদস্যুসহ সাধারণ মানুষকে আসামি করে মামলা পর্যন্ত করা হয়েছে। বিশাল এলাকা উজাড় করে অন্তত ছোট-বড় ১০টি মাছের ঘের করা হয়েছে। মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দূর্যোগেও সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণ হয়েছে। ধুলাসার ক্যাম্পের অর্ধেকটা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। একই দৃশ্য গঙ্গামতি, কুয়াকাটা ও খাজুরা লেম্বুরচর বনাঞ্চলের অবস্থা। বনবিভাগের মহীপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা আবুল কালাম জানিয়েছেন যে পাঁচ বছর আগে গঙ্গামতি এলাকায় তারা নতুন করে ২০০ একর বনায়ন করেছেন। কলাপাড়ার বনকর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তিনি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে আন্ধারমানিক ও টিয়াখালী নদীর তীরে ৩০ হাজার গোলগাছের চারা লাগিয়েছেন। লাগানো হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার কেওড়া গাছের চারা। সলিমপুর গ্রামের কাছে নীলগঞ্জের সুলতানগঞ্জ গ্রামের নদী তীরে এই গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। গাছগুলো ক্রমশ সতেজ হয়ে উঠছে। ফলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনবৃক্ষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ধুলাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম জানিয়েছেন যে, সুপার সাইক্লোন সিডরের সময় যেসব বেড়িবাঁধের বাইরে ম্য্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল ছিল, ওই এলাকার বেড়িবাঁধ খুবই কম বিধবস্ত হয়েছে। তাই তার দৃষ্টিতে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের বিকল্প নেই। স্থানীয়দের মন্তব্য, ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনায়ন নদীর পাড়ে জন্মায় এবং যা শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণ করলেই হয়, যাতে নষ্ট না হয়ে যায়। এ ছাড়া বেড়িবাঁধের বাইরের কোনো ভূমি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কৃষিজমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে বেড়িবাঁধ মেরামত কিংবা পুনরাকৃতিককরণ কাজে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল কেটে ফেলা হচ্ছে। স্কেভেটর মেশিনে বাঁধ মেরামতের জন্য মাটি কাটতে গিয়ে বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির ছইলা-কেওড়া, বাইন ও গোলগাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছে।

পরিবেশবাদীদের ভাষ্য হলো, অন্যান্য প্রজাতির গাছের তুলনায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের কার্বণ শোষণ ক্ষমতা বহুগুণ বেশি। তাই উষ্ণায়ণ প্রতিরোধে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলের বিকল্প নেই। পরিবেশ কর্মী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় বেড়িবাঁধ মেরামত করতে গিয়ে মাইলের পর মাইল সর্বনাশ করা হয়েছে। ইতোপূর্বে লেবারদের দিয়ে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ করা হতো। এতে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান হতো, অন্যদিকে বাঁধটিকে জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা থেকে রক্ষা করার জন্য গাছটিও রক্ষা পেত। লেবাররা গাছের চারদিকের মাটি রেখে কাটত, ফলে কোন গাছ মারা পড়ত না। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড এই পদ্ধতি না মানায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির হাজারো গাছ গত ৫-৬ বছরে মারা পড়েছে। ফলে বাঁধ মেরামত কিংবা পুনরাকৃতিককরণে বাঁধ উচু করলেও জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। মূলত ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ রক্ষা এখন উপকূলের জন্য খুব জরুরি, কারণ সবুজ দেয়াল হিসেবে এটি ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় মানুষের জীবন ও সম্পদকে রক্ষা করে। ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। উপজেলায় বন ও পরিবেশ কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়ার ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান জানান, শীঘ্রই এ কমিটির সভা ডেকে অবৈধ করাতকল বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বন রক্ষায় পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যালয়ের জমির মালিকানা দাবি, খেপুপাড়ায় সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৬ পি.এম


বিদ্যালয়ের জমির মালিকানা দাবি, খেপুপাড়ায় সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের ১৮ একর ৯১ শতক জমির মালিকানা দাবি করে মোবারক আলী হাওলাদার গং পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের যুবক মাদ্রাসা শিক্ষক আবু তালেব ইভান মাতুব্বর। এই দাবি তিনি শনিবার দুপুরে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়র তৌহীদুর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে করেন।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের তৎকালীন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তমতে মোবারক আলী হাওলাদারকে এই জমি হস্তান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও আজ অবধি এই জমি স্কুল কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে দেয়নি। এমনকি উচ্চ আদালত থেকে এই বিরোধীয় জমির বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ আইন-কানুনের তোয়াক্কা না কওে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো তাঁদের অসংখ্য ওয়ারিশদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এখন বিষয়টি কলাপাড়ার আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ইভান দাবি করেন, স্কুলের অগণিত টাকা নিয়মনীতি উপেক্ষা করে খরচ করে আদালত উপেক্ষা করে জরিপ বিভাগের যোগসাজশে নিজেদের নামে করে নেয়। এমনকি এই জমির একটি অংশ সিক্সলেন সড়কের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। যার ক্ষতিপূরণের ৬৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে উত্তোলন করে বর্তমান প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আত্মসাৎ করেছেন।

ইভান মাতুব্বর আরও বলেন, ‘তার নানা মোবারক আলী হাওলাদার টিয়াখালী ইউনিয়নের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯৫০ সালের পরে এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট এন্ড ফিনান্স কর্পোরেশন (এডিএফসি) ব্যাংকের কাছে রজপাড়া মৌজার এসএ ৬৩, ৬৪, ১৪১, ১৪৩ ও ১৬৯ খতিয়ানের বিভিন্ন অংশের নিজের মালিকানা ৩৪ একর ৭৬ শতক জমি বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করেন। ওই অনাদায়ের জন্য ওই জমি নিলামে ওঠে। তখন খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯৫৯ সালে পাঁচ হাজার ৮০০ টাকায় নিলামে কিনে নেয়। বিষয়টি মোবারক আলী হাওলাদারের ওয়ারিশগণ জানতে পেরে বরিশাল সাবজজ আদালতে ১৬২/৬৭ মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ১৯৭৫ সালের ১৯ এপ্রিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মোবারক আলীর ওয়ারিশদের মধ্যে একটি যৌথ সভা বসে। সেখানে ১০ হাজার টাকায় ওই জমি ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তের চুক্তিমতে ১৯৭৭ সালের ২৮ মার্চ তিন হাজার ১৫০ টাকার বিনিময়ে প্রথম দফায় ১৫ একর ৮৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি দলিল করে বুঝিয়ে দেয়া হয়। চুক্তির মধ্যে বাকি ১৮ একর ৯১ শতক জমি ছয় হাজার ৮৫০ টাকা ১৩৯১ সনের মধ্যে পরিশোধ করলে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিলেও তারা জমি ফেরত দেয়নি এবং আজ-কাল বলে তালবাহানা করছিল। পরবর্তীতে ওয়ারিশদের পক্ষ থেকে জমি ফেরত পাওয়ার জন্য টাইটেল মামলা করেন (৯৪/১৯৯৫)। ওই মামলা খারিজ হলে রায়ের বিরুদ্ধে টাইটেল আপীল মামলা দাওয়া হয় (২৪৮/৯৯)। বিজ্ঞ আদালত মামলার মূলে ১৮ একর ৯১ শতক জমি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আদেশ প্রদান করেন।

এখানেই শেষ নয়, ইভান বলেন, ‘উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন (৫২৩৮/২০০২) মামলা করেন। তাও হাইকোর্ট বিভাগ খারিজ করে দেন এবং পটুয়াখালী সাব জজ (প্রথম) আদালতের আদেশ বহাল রাখেন। এরপরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিভিল রিভিশন (৫২৩৮/২০০২) এর আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল লিভ টু আপিল (২৫৯৭/২০১৯) দায়ের করেন। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লিভ টু আপিল মামলাটিও ২০২৫ সালের ২২ জুন হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে খারিজ করে দেন। ফলে ১৮ একর ৯১ শতক জমির মালিক এখন মোবারক আলী হাওলাদার গং।

এত কিছুর পরও সকল মামলায় পরাজিত হয়ে আদালতের ইতিপূর্বেকার সকল আদেশ গোপন করে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ফৌজদারী কার্যধারায় নির্বাহী আদালতে একটি বানোয়াট (এমপি কেস নং ৪৮/২০২৫) মামলা করেন বলে ইভানের দাবি। পরবর্তীতে ওই মামলা বেইজলেস ও ফলবিহীন হওয়ায় ২০২৬ সালের ৯ জুন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ স্টে অর্ডার দেন ও তাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন।

ইভান ও তার ওয়ারিশরা দাবি করেন, শুধুমাত্র গায়ের জোরে এখন তাঁদের প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ১৮ একর ৯১ শতক জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা আরও জানান, বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের ওয়ারিশদের হয়রাণি করার চক্রান্ত চলছে। বর্তমানে এই বিষয়টি কলাপাড়ার আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সব মিথ্যা। অধিগ্রহণের সমুদয় টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। জমি তাঁদের (বিদ্যালয়ের) দখলে রয়েছে। মোবারক আলী হাওলাদারের ওয়ারিশরা জবরদখল করে স্কুলের জমি নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তার। তবে তিনি এও বলেন যে, আদালতের দেয়া নির্দেশনা তারা যথাযথভাবে পালন করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবুগঞ্জে চুরি ও ডাকাতির তাণ্ডব, সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


বাবুগঞ্জে চুরি ও ডাকাতির তাণ্ডব, সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় চলতি জুলাই মাসজুড়ে একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং উদ্বেগ বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সংঘটিত এসব ঘটনায় নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান মালামাল এমনকি গুরুত্বপূর্ণ জমিজমার দলিল পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, বর্ষাকালে বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা বাড়লেও জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার ধারাবাহিকতা

২৬ জুলাই গভীর রাতে বাবুগঞ্জ কলেজ গেট এলাকার খান স্টোরস নামে একটি মুদি দোকানে টিনের চাল কেটে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। তারা ক্যাশ কাউন্টার ভেঙে নগদ অর্থসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। দোকানের মালিক মোশারফ হোসেন খান বললেন, বাবুগঞ্জ থানার মাত্র কয়েকশ গজের মধ্যে এমন ঘটনা সত্যিই উদ্বেগজনক। আমরা ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কে আছি।

এর আগে ১৯ জুলাই রাত তিনটার দিকে কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভুতেরদিয়া নতুন চর এলাকায় সুমন হাওলাদারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ তিন লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে। ২৪ জুলাই গভীর রাতে উপজেলার দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের মনির তামিদার, কবির তামিদার, কালাম হাওলাদার ও রুবেল মল্লিকের বাড়িতে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। চলতি মাসেই কেদারপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ি থেকে পুরোনো ও মূল্যবান ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী চুরি হয়েছে। ওই সময় বাড়িতে কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। ২৩ জুলাই কেদারপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি সাবেক সচিবের বাড়ির সামনের সাইক্লোন সেন্টারের পানির ট্যাংকের লোহার ঢাকনা চুরি হয়।

১৭ জুলাই রাতে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফয়সাল মুন্সির বাড়িতে সিঁধ কেটে দুর্বৃত্তরা নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল চুরি করে। এরও আগে ৯ জুলাই কেদারপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা কামাল হাওলাদারের ভাই এবং বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বাড়িতে দুর্ধষ চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নগদ অর্থ, মূল্যবান মালামাল এবং গুরুত্বপূর্ণ জমিজমার দলিলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যায় চোরেরা।

কী বলছে ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণ?

ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে আসে ; অধিকাংশ ঘটনাই গভীর রাতে সংঘটিত হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিঁধ কেটে বা টিনের হাজ দিয়ে ঘরে বা দোকানে প্রবেশ করা হয়েছে। নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রও চুরি হয়েছে। একই মাসে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে একই ধরনের কৌশলে চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দেয়।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে রাতের নির্জনতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে মিল থাকলেও সব অপরাধ একই চক্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

পুলিশের বক্তব্য

বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, ইদানীং বর্ষাকাল হওয়ার কারণে কিছু এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। সারাদেশেই বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি। আগের চেয়ে পুলিশের তৎপরতা এবং রাতের টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান বলেছেন, বাবুগঞ্জে সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

প্রশাসনের বক্তব্য

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। চুরি ও ডাকাতির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ

বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, এক মাসে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইউনিয়নে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি রাতের টহল আরও জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশিং এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও সময়ের দাবি। সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে এবং নিয়মিত টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করবে, যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসে।

জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় বাবুগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দারা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন, অনেকেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। তাদের দাবি, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে জনমনে বিরাজমান আতঙ্ক আরও বাড়বে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাবুগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সনদ ছাড়াও দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষায় অগ্রসর হতে হবে: ববি উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


সনদ ছাড়াও দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষায় অগ্রসর হতে হবে: ববি উপাচার্য

কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার জন্য দক্ষতা, প্রযুক্তি, সফট স্কিল ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে অংশগ্রহণকারী ‘শিক্ষা মেধাবৃত্তি প্রদান-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা উল্লেখ করেন।

উপাচার্য বলেন, যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হয়ে অধ্যবসায়, নিয়মিত পড়াশোনা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন, তারাই আজ মেধার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এই সম্মাননা একমাত্র একটি পুরস্কার নয়, এটি শিক্ষার্থীদের আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষাকে প্রযুক্তি, দক্ষতা ও ফলাফলভিত্তিক (আউটকাম-বেইজড) শিক্ষা সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশের তরুণরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. মামুন বলেন, কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হওয়ার দিকে এগোতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেশের সাধারণ মানুষের করের টাকায় তৈরি হয়ে থাকে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে বিভিন্ন বিভাগের ৬০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%