শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৪ এম
বার্সেলোনার সাফল্যের গল্পে লিওনেল মেসির নাম অবশ্যই উঠে আসবে। সেই সোনালী সময়ের সফলতার অন্যতম বিশেষ কারণ ছিল একটি অসাধারণ দল, যেখানে মেসি জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, কার্লেস পুয়োলসহ আরও অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারদের সঙ্গে ছিলেন।
২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের আগে, ওভিয়েদোর হোটেল দে লা রেকনকুইস্তায় স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি উল্লেখ করেন, তাদের দলের সাফল্য শুধুমাত্র ট্রফি জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; খেলোয়াড়রা খেলাটাকে আন্তরিকভাবে উপভোগ করতেন।
মেসি বলেন, "আমরা সৌভাগ্যবান ছিলাম যে সবকিছু জিততে পেরেছি এবং যেভাবে জিতেছি, সেটাও ছিল অসাধারণ। আমরা খেলতে, জিততে এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করতে উপভোগ করতাম। তবে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতাম প্রতিদিনের অনুশীলন আর একসঙ্গে কাটানো সময়। আমরা সত্যিই দারুণ সময় কাটিয়েছি।"
আর্জেন্টাইন তারকা জানান, ওইসব খেলোয়াড়দের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়া তাঁর জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। তিনি এমন এক সময়ের কথা স্মরণ করেন, যখন জয় আর খেলায় আনন্দ একসঙ্গে চলত।
‘আমার জীবনের ক্লাব’ বার্সেলোনা
বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা মেসি, এর আগে পিএসজিতে খেলেছেন। ৩৯ বছর বয়সী কিংবদন্তি স্বীকার করেন যে বার্সেলোনার গুরুত্ব কয়েকটি কথায় ব্যাখ্যা করা কঠিন।
মেসি বলেন, বার্সেলোনা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি “আমার জীবনের ক্লাব”।
প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন লিওনেল মেসি
ফুটবলের বাইরেও শহরটির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বার্সেলোনাতেই তাঁর তিন সন্তানের জন্ম হয়েছে এবং সেখানেই জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কেটেছে। সেই কারণেই শহর ও ক্লাবটির প্রতি তাঁর “খুব, খুব বিশেষ ভালোবাসা” এখনও রয়ে গেছে।
কাতার ২০২২: ক্যারিয়ারের পূর্ণতা
বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব পর্যায়ে সম্ভাব্য সব শিরোপা জয়ের পর, মেসি বলেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ই তাঁর ক্যারিয়ারের পূর্ণতা এনে দিয়েছে।
তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপ জেতা ছিল “স্বপ্নেরও বেশি কিছু”।
ফাইনালে করা গোলগুলোকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলোর মধ্যে রেখেছেন। কারণ সেসব গোলের গুরুত্ব, প্রেক্ষাপট এবং ম্যাচটির তাৎপর্য ছিল অসাধারণ।
তিনি এগুলোকে বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল এবং এল ক্লাসিকোর স্মরণীয় গোলগুলোর সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আগামী বছরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মশাল প্রজ্বালনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সময়ে, বিমান দুর্ঘটনা প্রতিরোধকারী পাইলট স্মিত মাচ্ছরকেও আমন্ত্রণ করা হয়েছে।
মোদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন কিনা, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মোদি যে পোস্ট করেছেন, তাতে আমন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। সরকারি বিবৃতিতেও এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গে মোদি এক্সে লিখেছেন, ‘ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকে একটি ফোন পেয়েছি। আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছি এবং অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি। এ ছাড়া পশ্চিম এশিয়ার (মধ্যপ্রাচ্য) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দিয়েছি।’
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি সংকট সমাধানের পথ হিসেবে আলোচনা ও কূটনীতির ওপর ভারতের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
‘এক্স’-এ নিজের পোস্টে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি মোদিকে ‘ইসরাইলের স্বাধীনতা দিবসে একজন সাহসী ভারতীয় পাইলটের সঙ্গে মশাল প্রজ্বলন করার’ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘মোদি এই আমন্ত্রণের জন্য আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং বলেছেন, স্থলপথ ও আকাশপথ—উভয় ক্ষেত্রেই ভারত ও ইসরাইল একসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তিনি আমাদের মধ্যকার শক্তিশালী ও কয়েক দশকের পুরনো সম্পর্কেরও প্রশংসা করেছেন।’ সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যার ফলস্বরূপ ৪ লাখ ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ১২০ পিস চায়না দুয়ারি জব্দ করা হয় এবং পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এই জব্দকৃত সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
পাটুরিয়া নৌ-থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাটুরিয়া নৌ-থানা এবং শিবালয় উপজেলা মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া নৌ-থানার আওতাধীন অন্বয়পুর, আরিচা, তেওতা এবং আলোকদিয়ার অংশের যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ১২০ পিস চায়না দুয়ারি এবং ৭ কেজি ইলিশ মাছ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগীর উপস্থিতিতে জব্দকৃত অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়াও, বৃহস্পতিবার অপর একটি অভিযানে মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনিরের নেতৃত্বে শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর তেওতা, জাফরগঞ্জ, চরশিবালয় ও আলোকদিয়ার চর অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে ৮০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮ লাখ টাকা এবং ২০ কেজি ইলিশ মাছও জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে, জব্দকৃত সকল অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি নদীর তীরে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। প্রাপ্ত ২০ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানায় ও নদী তীরবর্তী দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী নিয়োগী। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও নৌ-থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দও সহায়তা প্রদান করেন। মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য সদস্যবৃন্দও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, "মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ উপলক্ষে মা ইলিশ রক্ষা করুন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করুন।" তিনি আরও জানান, দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে অবৈধ মৎস্য আহরণবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সে মানুষের শরীরে গবাদিপশুতে ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি মারা যান। তবে, তার মৃত্যুর সঙ্গে ভাইরাসটির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
লিঁও শহরে চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল ছিল। গুরুতর অসুস্থতার কারণে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তদন্তকারীরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন, শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ তার মৃত্যুর কারণ ছিল কি না, অথবা মৃত্যুর পেছনে ভাইরাসটির কোনো ভূমিকা ছিল কি না।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের জন্য ভাইরাসটি নিয়ে কোনো জনস্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত হয়নি। এত দিন শামোন্ডা ভাইরাসকে এমন একটি ভাইরাস হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যা মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে না।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ধারণা, পূর্ব ফ্রান্সে রক্তচোষা মাছির মতো ক্ষুদ্র পতঙ্গের কামড়ে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলের প্রাণীদের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। বিশেষ করে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল একজন ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শামোন্ডা ভাইরাস সাধারণত ডাঁশ বা কামড়ানো মাছিজাতীয় ক্ষুদ্র পতঙ্গের মাধ্যমে প্রাণীদের মধ্যে ছড়ায়। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নাইজেরিয়ায় প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং জাপানে গবাদিপশুর মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা গেছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপের গবাদিপশুর খামারেও প্রথমবারের মতো ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।
এদিকে, ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলকে (ইসিডিসি) অবহিত করেছে।
তবে একজনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা থেকে ভাইরাসটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। জনস্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণে এ বিষয়ে আরও তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
থাইল্যান্ডে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সহায়তা প্রদান করছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন হেলথকেয়ার প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংককসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নামকরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের রোগীরা। ভিসার ব্যবস্থা, চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, যাতায়াত, আবাসন, এমনকি প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতেও এগিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রোগী ও তাদের স্বজনেরা তাদের সেবায় সন্তুষ্টির কথা জানাচ্ছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ড ভ্রমণ ও চিকিৎসা; দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। দেশটির স্বাস্থ্যখাতের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ চিকিৎসা নিতে থাইল্যান্ডে আসেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজারেরও বেশি।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানাচ্ছেন, এখানে রোগীর সমস্যা ও রোগের ধরনকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একজন রোগী মন্তব্য করেন, ‘পেশেন্টদের প্রবলেম অ্যান্ড তাদের ডিজিজ; সবকিছুকে প্রাধান্য দিয়ে এখানে ট্রিটমেন্ট দেয়া হয়। এখানে অনেক ভালো ভালো হাসপাতাল আছে। সেখানে গেলে একই ট্রিটমেন্ট সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে আগে থেকে জানতে হবে।’
রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজতর করতে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংককের প্রাণকেন্দ্র সুকুম্ভিতে অবস্থিত সুরা হেলথকেয়ার একটি উদাহরণ।
প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে, তারা থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় মেডিকেল ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকসহ ১২টি দেশের পাঁচ শতাধিক রোগী প্রতি মাসে তাদের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করছেন।
একজন রোগী জানান, ‘এখানে আসলে আলহামদুলিল্লাহ, কোনো ধরনের সহযোগিতার অভাব অনুভব করিনি। আমরা যে বিদেশ থেকে এসেছি, সে কারণে সেবার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি হচ্ছে-এমনটাও মনে হয়নি।’
সুরা হেলথকেয়ার জানিয়েছে, রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সেবা সহজ করতে প্রতিষ্ঠানটিতে আটজন দক্ষ থাই কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। প্রয়োজন হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা সম্ভব। রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ও ব্যয়ের পরিকল্পনা সাজাতে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে রোগীদের সরবরাহ করেন তারা।
ব্যাংককের সুরা হেলথকেয়ার ও সুরা ফার্মেসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘থাইল্যান্ডের সবচেয়ে স্বনামধন্য হাসপাতালগুলোর মধ্যে বারমনগাট হাসপাতাল, ব্যাংকক হাসপাতাল, সামিতা বেস, ইনথেরারাত ও পায়াথাইসহ প্রায় ১৫টি হাসপাতালের সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করেছি। তিন থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করি। পাঁচ দিনের মধ্যে ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা করি। যাতায়াত, আবাসন, হোটেল, খাবার ও অনুবাদক; সবকিছুর ব্যবস্থাই আমরা করে থাকি। প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করতে পারি।’
ব্যাংককসহ থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা নিতে দেশটিতে আসা বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য আসেন। পাশাপাশি লিভার ও কিডনির বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসা নিতেও থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন অনেকে।
চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করতে সুরা হেলথকেয়ারের মেডিকেল শপে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রায় সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রয়োজন হলে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ