প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
থাইল্যান্ডে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সহায়তা প্রদান করছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন হেলথকেয়ার প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংককসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নামকরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের রোগীরা। ভিসার ব্যবস্থা, চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, যাতায়াত, আবাসন, এমনকি প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতেও এগিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রোগী ও তাদের স্বজনেরা তাদের সেবায় সন্তুষ্টির কথা জানাচ্ছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ড ভ্রমণ ও চিকিৎসা; দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। দেশটির স্বাস্থ্যখাতের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ চিকিৎসা নিতে থাইল্যান্ডে আসেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজারেরও বেশি।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানাচ্ছেন, এখানে রোগীর সমস্যা ও রোগের ধরনকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একজন রোগী মন্তব্য করেন, ‘পেশেন্টদের প্রবলেম অ্যান্ড তাদের ডিজিজ; সবকিছুকে প্রাধান্য দিয়ে এখানে ট্রিটমেন্ট দেয়া হয়। এখানে অনেক ভালো ভালো হাসপাতাল আছে। সেখানে গেলে একই ট্রিটমেন্ট সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে আগে থেকে জানতে হবে।’
রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজতর করতে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংককের প্রাণকেন্দ্র সুকুম্ভিতে অবস্থিত সুরা হেলথকেয়ার একটি উদাহরণ।
প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে, তারা থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় মেডিকেল ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকসহ ১২টি দেশের পাঁচ শতাধিক রোগী প্রতি মাসে তাদের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করছেন।
একজন রোগী জানান, ‘এখানে আসলে আলহামদুলিল্লাহ, কোনো ধরনের সহযোগিতার অভাব অনুভব করিনি। আমরা যে বিদেশ থেকে এসেছি, সে কারণে সেবার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি হচ্ছে-এমনটাও মনে হয়নি।’
সুরা হেলথকেয়ার জানিয়েছে, রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সেবা সহজ করতে প্রতিষ্ঠানটিতে আটজন দক্ষ থাই কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। প্রয়োজন হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা সম্ভব। রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ও ব্যয়ের পরিকল্পনা সাজাতে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে রোগীদের সরবরাহ করেন তারা।
ব্যাংককের সুরা হেলথকেয়ার ও সুরা ফার্মেসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘থাইল্যান্ডের সবচেয়ে স্বনামধন্য হাসপাতালগুলোর মধ্যে বারমনগাট হাসপাতাল, ব্যাংকক হাসপাতাল, সামিতা বেস, ইনথেরারাত ও পায়াথাইসহ প্রায় ১৫টি হাসপাতালের সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করেছি। তিন থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করি। পাঁচ দিনের মধ্যে ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা করি। যাতায়াত, আবাসন, হোটেল, খাবার ও অনুবাদক; সবকিছুর ব্যবস্থাই আমরা করে থাকি। প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করতে পারি।’
ব্যাংককসহ থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা নিতে দেশটিতে আসা বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য আসেন। পাশাপাশি লিভার ও কিডনির বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসা নিতেও থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন অনেকে।
চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করতে সুরা হেলথকেয়ারের মেডিকেল শপে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রায় সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রয়োজন হলে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন