শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৫ এম
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যার ফলস্বরূপ ৪ লাখ ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ১২০ পিস চায়না দুয়ারি জব্দ করা হয় এবং পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এই জব্দকৃত সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
পাটুরিয়া নৌ-থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাটুরিয়া নৌ-থানা এবং শিবালয় উপজেলা মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া নৌ-থানার আওতাধীন অন্বয়পুর, আরিচা, তেওতা এবং আলোকদিয়ার অংশের যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ১২০ পিস চায়না দুয়ারি এবং ৭ কেজি ইলিশ মাছ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগীর উপস্থিতিতে জব্দকৃত অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়াও, বৃহস্পতিবার অপর একটি অভিযানে মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনিরের নেতৃত্বে শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর তেওতা, জাফরগঞ্জ, চরশিবালয় ও আলোকদিয়ার চর অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে ৮০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮ লাখ টাকা এবং ২০ কেজি ইলিশ মাছও জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে, জব্দকৃত সকল অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি নদীর তীরে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। প্রাপ্ত ২০ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানায় ও নদী তীরবর্তী দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী নিয়োগী। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও নৌ-থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দও সহায়তা প্রদান করেন। মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য সদস্যবৃন্দও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, "মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ উপলক্ষে মা ইলিশ রক্ষা করুন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করুন।" তিনি আরও জানান, দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে অবৈধ মৎস্য আহরণবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সে মানুষের শরীরে গবাদিপশুতে ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি মারা যান। তবে, তার মৃত্যুর সঙ্গে ভাইরাসটির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
লিঁও শহরে চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল ছিল। গুরুতর অসুস্থতার কারণে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তদন্তকারীরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন, শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ তার মৃত্যুর কারণ ছিল কি না, অথবা মৃত্যুর পেছনে ভাইরাসটির কোনো ভূমিকা ছিল কি না।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের জন্য ভাইরাসটি নিয়ে কোনো জনস্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত হয়নি। এত দিন শামোন্ডা ভাইরাসকে এমন একটি ভাইরাস হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যা মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে না।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ধারণা, পূর্ব ফ্রান্সে রক্তচোষা মাছির মতো ক্ষুদ্র পতঙ্গের কামড়ে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলের প্রাণীদের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। বিশেষ করে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল একজন ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শামোন্ডা ভাইরাস সাধারণত ডাঁশ বা কামড়ানো মাছিজাতীয় ক্ষুদ্র পতঙ্গের মাধ্যমে প্রাণীদের মধ্যে ছড়ায়। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নাইজেরিয়ায় প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং জাপানে গবাদিপশুর মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা গেছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপের গবাদিপশুর খামারেও প্রথমবারের মতো ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।
এদিকে, ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলকে (ইসিডিসি) অবহিত করেছে।
তবে একজনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা থেকে ভাইরাসটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। জনস্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণে এ বিষয়ে আরও তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
থাইল্যান্ডে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সহায়তা প্রদান করছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন হেলথকেয়ার প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংককসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নামকরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের রোগীরা। ভিসার ব্যবস্থা, চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, যাতায়াত, আবাসন, এমনকি প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতেও এগিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রোগী ও তাদের স্বজনেরা তাদের সেবায় সন্তুষ্টির কথা জানাচ্ছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ড ভ্রমণ ও চিকিৎসা; দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। দেশটির স্বাস্থ্যখাতের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ চিকিৎসা নিতে থাইল্যান্ডে আসেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজারেরও বেশি।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানাচ্ছেন, এখানে রোগীর সমস্যা ও রোগের ধরনকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একজন রোগী মন্তব্য করেন, ‘পেশেন্টদের প্রবলেম অ্যান্ড তাদের ডিজিজ; সবকিছুকে প্রাধান্য দিয়ে এখানে ট্রিটমেন্ট দেয়া হয়। এখানে অনেক ভালো ভালো হাসপাতাল আছে। সেখানে গেলে একই ট্রিটমেন্ট সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে আগে থেকে জানতে হবে।’
রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজতর করতে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংককের প্রাণকেন্দ্র সুকুম্ভিতে অবস্থিত সুরা হেলথকেয়ার একটি উদাহরণ।
প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে, তারা থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় মেডিকেল ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকসহ ১২টি দেশের পাঁচ শতাধিক রোগী প্রতি মাসে তাদের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করছেন।
একজন রোগী জানান, ‘এখানে আসলে আলহামদুলিল্লাহ, কোনো ধরনের সহযোগিতার অভাব অনুভব করিনি। আমরা যে বিদেশ থেকে এসেছি, সে কারণে সেবার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি হচ্ছে-এমনটাও মনে হয়নি।’
সুরা হেলথকেয়ার জানিয়েছে, রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সেবা সহজ করতে প্রতিষ্ঠানটিতে আটজন দক্ষ থাই কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। প্রয়োজন হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা সম্ভব। রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ও ব্যয়ের পরিকল্পনা সাজাতে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে রোগীদের সরবরাহ করেন তারা।
ব্যাংককের সুরা হেলথকেয়ার ও সুরা ফার্মেসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘থাইল্যান্ডের সবচেয়ে স্বনামধন্য হাসপাতালগুলোর মধ্যে বারমনগাট হাসপাতাল, ব্যাংকক হাসপাতাল, সামিতা বেস, ইনথেরারাত ও পায়াথাইসহ প্রায় ১৫টি হাসপাতালের সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করেছি। তিন থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করি। পাঁচ দিনের মধ্যে ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা করি। যাতায়াত, আবাসন, হোটেল, খাবার ও অনুবাদক; সবকিছুর ব্যবস্থাই আমরা করে থাকি। প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করতে পারি।’
ব্যাংককসহ থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা নিতে দেশটিতে আসা বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য আসেন। পাশাপাশি লিভার ও কিডনির বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসা নিতেও থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন অনেকে।
চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করতে সুরা হেলথকেয়ারের মেডিকেল শপে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রায় সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রয়োজন হলে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘটিত একটি দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু প্রাণ হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও একজন, যার অবস্থা গুরুতর এবং আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ের ভূঁইয়াবাড়ী ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন রূপগঞ্জ উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকার আক্তার মিয়ার ছেলে রুদ্র মিয়া এবং অন্যজন বেল্লারটেক এলাকার কামালের ছেলে ইয়াছিন। আহত শ্রাবণ মিয়া বাঘবের সিটি মার্কেট এলাকার জিল্লুরের ছেলে।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, তিন বন্ধু একটি নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলে পূর্বাচল এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তারা ভূঁইয়াবাড়ী ব্রিজের পশ্চিম পাশে সার্ভিস লেন দিয়ে উল্টো পথে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই রুদ্র ও ইয়াছিন নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন শ্রাবণ মিয়া।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটির চালক পালিয়ে যায়। ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আটকের জন্য চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের টেকসইতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোতে ব্যাপক বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলস্বরূপ, এশিয়ার শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এটি গত ৫ জুনের পর সূচকটির সবচেয়ে বড় এক দিনের পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ওই দিন নাসডাকের দর ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। অন্যদিকে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ২১ শতাংশ কমে গেছে, যা ২৯ জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় পতন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের শীর্ষ সাত প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান, যেগুলো ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ নামে পরিচিত, তাদের মধ্যে অ্যাপল ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। এআই খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম মুনাফার খবরের প্রেক্ষিতে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়।
মেটা জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তাদের মূলধনি ব্যয় ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, এনভিডিয়ার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, টেসলা ও অ্যালফাবেটের ৩ দশমিক ১ শতাংশ করে এবং মাইক্রোসফটের ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, অ্যাপলের শেয়ারের দাম বেড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেল ও এএমডির শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ করে কমেছে। ব্রডকমের শেয়ারও ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। গত ৬ অক্টোবর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর নাসডাক সূচকটি এখন প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে।
সিপোর্ট রিসার্চ পার্টনার্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জে গোল্ডবার্গ আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, বাজারের ওঠানামায় মৌলিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চেয়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।
এআই খাতে বিপুল ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, প্রযুক্তি খাতের এই উত্থান কি কোনো আর্থিক বুদ্বুদের দিকে এগোচ্ছে। ২০০০ সালের ডটকম ধসের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন কেউ কেউ। তাঁদের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টার ও এআই চিপে বিপুল বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা না এলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি ও ব্যবসায় এআইয়ের সম্ভাব্য পরিবর্তন এতটাই বড় যে এই বিনিয়োগের যৌক্তিকতা রয়েছে।
গার্টনারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে এআই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।
এদিকে, জ্বালানি বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার সকালে প্রতি ব্যারেলের দাম ১১৪ ডলার ২০ সেন্ট ছাড়িয়ে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এশিয়ার বাজারেও শুক্রবার দরপতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শুরুতে ২ শতাংশের বেশি কমলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক একপর্যায়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ