বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:০৬ পি.এম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নের পুর্ব নতুন পাড়া গ্রামে ১১ বছরের এক শিশুকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছরের নুর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার শিশুর দায়ের করা মামলায় মহিপুর থানা পুলিশ রাতে অভিযান চলাকালে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও শিশুর স্বজনদের কাছে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই নতুন পাড়া গ্রামের নিজ ঘরে শিশুটি তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। এ সময় শিশুর মা কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। এই অবস্থায় বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ ঘরে ঢুকে শিশুটির ওপর শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টা করে। এব্যাপারে শিশুটির ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে নুর মোহাম্মদ পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর নুর মোহাম্মদের পক্ষ থেকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি চক্র সালিশের আশ্বাস দিয়ে শিশুর পরিবারকে মামলা না করতে চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু ১৫ দিনেও তাদের সাথে কোনো সমাধান না হওয়ায় ২২ জুলাই কলাপাড়ার মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিম হোসেন বলেছেন, শিশুর দায়ের করা মামলায় নুর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রকৃত জন্মনিবন্ধনে যে কিশোরীর বয়স ১৪ বছর আট মাস, সব কিছু ঠিক থাকলে তার অষ্টম অথবা নবম শ্রেণিতে পড়ার কথা ছিল। জন্ম তারিখ ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর। জন্মনিবন্ধন আইডি নম্বর (২০১১৭৮১৬৬৫৯১০১৪২৯) এবং জন্মনিবন্ধন করা হয় ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর। তবে নাম, বাবা-মায়ের নাম এবং নিবন্ধন আইডি নম্বর সব ঠিক রেখে সালটি বদলে ২০০৭ লিখে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আখতারকে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মনিবন্ধনের একটি ফটোকপি পাঠানো হয়। সেখানে বয়স ১৮ বছর আট মাস দেখানো হয়েছে। বিষয়টি যাচাই বাছাই না করেই আর এগোয়নি। ওই অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক কিশোরীর বাবা রহিম আকন ধুমধাম করে স্থানীয় চৌকিদারের সহায়তায় বাল্যবিয়েটি সম্পন্ন করেন। পরিকল্পিতভাবে জেনেশুনেই এই বালবিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশাসনকে মুলা ঝুলিয়ে অন্যায় কাজটি অতি সম্প্রতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মেলাপাড়া গ্রামের ঘটনা। জনশ্রুতি রয়েছে, জন্মনিবন্ধনের ফটোকপিটি করাতে পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে চৌকিদার তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন।
কলাপাড়ায় এভাবে ভুয়া এবং জাল কাগজপত্রে অহরহ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। কখনো প্রশাসন বন্ধ করছে, আবার কখনো আয়োজকদের কাউকে ডেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে এর আর কোন ফলোআপ মনিটরিং নেই। ফলে সরকারের বাল্যবিয়ে বন্ধের পথটি বন্ধ হয় না। সরকারি আইনে বলা হয়েছে, যদি জন্মতারিখ পরিবর্তনের জন্য জাল কাগজপত্র তৈরি করা হয় অথবা সরকারি রেকর্ডে প্রতারণামূলক পরিবর্তন আনা হয়, তাহলে ধারা ৪৬৫ (ঋড়ৎমবৎু) জালিয়াতির জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ধারা ৪৬৬ (ঋড়ৎমবৎু ড়ভ ঢ়ঁনষরপ ৎবমরংঃবৎ) জন্মনিবন্ধন একটি সরকারি রেকর্ড। এ ধরনের রেকর্ড জাল করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।
এ ছাড়া বলা হয়েছে, যদি প্রমাণিত হয় যে বাবা ইচ্ছাকৃতভাবে জন্মতারিখ পরিবর্তনে মিথ্যা তথ্য অথবা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেছেন এবং উদ্দেশ্য ছিল মেয়েকে আইনসিদ্ধ বয়সের আগেই বিয়ে দেয়া, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭, এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির জালিয়াতি (ঋড়ৎমবৎু) সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী মামলা হতে পারে। পরিস্থিতিভেদে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক অথবা অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। কিন্তু এর মধ্যে কোনটাই করা হয়নি।
কলাপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আখতার জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছেন। তিনি আরও জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধে তারা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁদের দেয়া তথ্যানুযায়ী ২০২৫ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে এ বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত মোট ২৭টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করেছেন।
এ প্রতিবেদনকারীর দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলাপাড়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৭টি বিদ্যালয়ের দেয়া তথ্যানুসারে ২০২২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া মোট ছাত্রী সংখ্যা ছিল ১১৬৬ জন। যারা এ বছর দশম শ্রেণিতে পড়ছে, তাঁদের সংখ্যা বর্তমানে ৭৭৭ জন। কমেছে ৩৮৯ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দাবি, এদের ৭০ শতাংশের বাল্যবিয়ে হয়েছে। এভাবে শতকরা ৩৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ শুধুমাত্র বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ ঝরে পড়ছে অষ্টম শ্রেণিতে উর্ত্তীর্ণ হওয়ার আগেই। কারণ ষষ্ঠে অধ্যয়নরত ১১৬৬ জনের থেকে ২০২৫ সালে নবমে উর্ত্তীর্ণ হয়েছে ৯০০ জন। বাল্যবিয়ের ধকল যেন কাটানো যাচ্ছে না। কিছু বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পার হতে ঝরে পড়ছে অর্ধেকেরও বেশি। উত্তর পূর্ব পাটুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৩৫ জন। যারা এবছর দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রয়েছে। কিন্তু সংখ্যা কমে পৌঁছেছে ১৭ জনে। এখানে ৫১ শতাংশ ঝরে গেছে। ধুলাসার ইউনিয়নের চরচাপলী ইসালমিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২২ সালে ষষ্ঠে ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৫৮ জন। যা বর্তমানে দশমে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। নেই ২৩ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আহম্মেদ জানিয়েছেন, শতকরা ৯৫ শতাংশের বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে লেখাপড়ার পাঠ চুকে গেছে। মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার আগেই শিক্ষাজীবন এদের থমকে গেছে। এছাড়া যেসব ছাত্রীরা শিক্ষাজীবনে আছে, তাঁদেরও একটা অংশ বিয়ে হয়ে গেছে। মাদ্রাসায় বাল্যবিয়ের সংখ্যা আরও বেশি। এভাবে কলাপাড়ায় বাল্যবিয়ের ধকল যেন কোন কিছুতেই কাটছে না।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। জাল কাগজপত্রে কেউ বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অতিবৃষ্টির ফলে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বরিশাল অঞ্চলে অনেক ফসলি জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের অনেকেই বলছেন, এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন হবে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বরিশাল অঞ্চলের ৪১ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন বীজতলা। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানির প্রবাহ ফসলি জমিতে প্রবেশ করায় বরগুনা জেলার ৬ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। তবে আংশিক ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি পিরোজপুরে, যেখানে ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই জেলায় সর্বোচ্চ ২৫৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
অন্য দিকে আর্থিক ক্ষতির দিক থেকে বরিশাল অঞ্চলে ভোলা জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পিরোজপুরে ২৩ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন আমন বীজতলা এবং ১ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৬৪৩ মেট্রিক টন, পটুয়াখালীতে ২৪৪ মেট্রিক টন, বরগুনায় ৪৯৮ মেট্রিক টন এবং ভোলায় ১ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বরিশাল অঞ্চলে ফসলের ক্ষতির মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টনে। অপরদিকে, আর্থিক ক্ষতি হিসাবে বরিশাল অঞ্চলের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিরোজপুরে ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ঝালকাঠিতে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪ হাজার টাকা, পটুয়াখালীতে ১ কোটি ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯০০ টাকা, বরগুনায় ৮৪ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ভোলায় প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার খাসেরহাট এলাকার কৃষক নারায়ণ চন্দ্র মন্তব্য করে বলেন, টানা বৃষ্টির ফলে তার জমির আমন বীজতলা বর্তমানে পানির নিচে। তার দাবি, মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকাই একমাত্র উপায়। অন্যদিকে, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানান, তিনি এক একর জমিতে মরিচ চাষ করছিলেন এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে নদীর জল বেড়ে গিয়ে পুরো মরিচক্ষেত তলিয়ে গেছে।
বরিশাল অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতির জন্য বরিশাল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পিরোজপুরের ২৫ হাজার ৮০০ কৃষক। এছাড়া ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৭১৫ জন, পটুয়াখালীতে ৮ হাজার ৭৭০ জন, বরগুনায় ১ হাজার ১২৫ জন এবং ভোলায় ৩ হাজার ৮০০ জন কৃষক ক্ষতির মোকাবেলা করছেন।
তিনি আরও জানান, বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টিপাত এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং নদ-নদীর পানি প্রতিদিনের মতো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। এই কারণে, ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বরিশাল অঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির চাষ করেছেন। যদি এইভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও কয়েক কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর টাউন হলের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমীন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম আব্বাস। যুগ্ম আহবায়ক হারুন-অর রশিদের সঞ্চালনায় বক্তব্য প্রদান করেন বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার শিকদার, মাহাবুবুল আলম বাবুল, তুহিন পন্ডিত, আব্দুল হক শিকদার, অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান, কাজী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন চান্দু, খোকন মুন্সী প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের একসঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, যারা পদপদবি পায়নি, তারা ক্ষোভের বশীভূত হয়ে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন এবং নেতাদেরকে জামায়াতের ট্যাগ লাগানোর চেষ্টা করছেন। বক্তারা আরও জানান, পদপ্রাপ্ত এবং পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি কাজ করে যাবে।
শেষে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের গৌরনদীতে নির্মাণাধীন ব্রিজের ঢালাই কাজ ধ্বসে পড়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে এই কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। উপজেলা খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আহম্মেদকাঠী গ্রামের মৃধাবাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ব্রিজে বুধবার দুপুরে এই ঢালাই ধ্বসের ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে প্রকাশ্যে এসেছে।
গৌরনদী উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৩৫ লাখ টাকায় আহম্মেদকাঠী গ্রামের মৃধাবাড়ির সামনে ব্রিজ নির্মাণের দরপত্র বিজয়ী হয়েছে ডায়নামিক আইটি শপ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে আবুল ফয়েজ শরীফ নামের একজন ঠিকাদার মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্রয় করে ব্রিজ নির্মাণ করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজ নির্মাণে পাটাতন (সাটারিং) পুরনো ও অনুপযুক্ত বাঁশ ব্যবহার করে পানির মধ্যে সাটারিং তৈরি করা হয়েছে। ওই সাটারিংয়ের ওপর বুধবার দুপুরে ব্রিজের ঢালাই দেওয়া হয়।
তবে এতে ঢালাইয়ের চাপ সহ্য করতে না পেরেই ঢালাইসহ পাটাতন খালের মধ্যে ধ্বসে পড়ে। ঠিকাদার আবুল ফয়েজ শরীফ বলেছেন, নিচের স্ট্রাকচার ভাল না থাকায় ঢালাই দেওয়ার শুরুতেই সাটারিং ভেঙ্গে পড়েছে। এটি আবার পুনরায় সাটারিং করে ঢালাইয়ের কাজ করা হবে। গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের কাউকে না জানিয়ে ঠিকাদার ঢালাই দিয়েছেন। এখন শুনেছি সেটা খালের মধ্যে ভেঙ্গে পড়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম জানিয়েছেন, কাজের গুণগত মানে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ