বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:১৩ পি.এম
অতিবৃষ্টির ফলে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বরিশাল অঞ্চলে অনেক ফসলি জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের অনেকেই বলছেন, এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন হবে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বরিশাল অঞ্চলের ৪১ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন বীজতলা। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানির প্রবাহ ফসলি জমিতে প্রবেশ করায় বরগুনা জেলার ৬ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। তবে আংশিক ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি পিরোজপুরে, যেখানে ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই জেলায় সর্বোচ্চ ২৫৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
অন্য দিকে আর্থিক ক্ষতির দিক থেকে বরিশাল অঞ্চলে ভোলা জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পিরোজপুরে ২৩ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন আমন বীজতলা এবং ১ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৬৪৩ মেট্রিক টন, পটুয়াখালীতে ২৪৪ মেট্রিক টন, বরগুনায় ৪৯৮ মেট্রিক টন এবং ভোলায় ১ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বরিশাল অঞ্চলে ফসলের ক্ষতির মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টনে। অপরদিকে, আর্থিক ক্ষতি হিসাবে বরিশাল অঞ্চলের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিরোজপুরে ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ঝালকাঠিতে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪ হাজার টাকা, পটুয়াখালীতে ১ কোটি ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯০০ টাকা, বরগুনায় ৮৪ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ভোলায় প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার খাসেরহাট এলাকার কৃষক নারায়ণ চন্দ্র মন্তব্য করে বলেন, টানা বৃষ্টির ফলে তার জমির আমন বীজতলা বর্তমানে পানির নিচে। তার দাবি, মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকাই একমাত্র উপায়। অন্যদিকে, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানান, তিনি এক একর জমিতে মরিচ চাষ করছিলেন এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে নদীর জল বেড়ে গিয়ে পুরো মরিচক্ষেত তলিয়ে গেছে।
বরিশাল অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতির জন্য বরিশাল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পিরোজপুরের ২৫ হাজার ৮০০ কৃষক। এছাড়া ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৭১৫ জন, পটুয়াখালীতে ৮ হাজার ৭৭০ জন, বরগুনায় ১ হাজার ১২৫ জন এবং ভোলায় ৩ হাজার ৮০০ জন কৃষক ক্ষতির মোকাবেলা করছেন।
তিনি আরও জানান, বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টিপাত এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং নদ-নদীর পানি প্রতিদিনের মতো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। এই কারণে, ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বরিশাল অঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির চাষ করেছেন। যদি এইভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও কয়েক কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর টাউন হলের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমীন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম আব্বাস। যুগ্ম আহবায়ক হারুন-অর রশিদের সঞ্চালনায় বক্তব্য প্রদান করেন বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার শিকদার, মাহাবুবুল আলম বাবুল, তুহিন পন্ডিত, আব্দুল হক শিকদার, অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান, কাজী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন চান্দু, খোকন মুন্সী প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের একসঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, যারা পদপদবি পায়নি, তারা ক্ষোভের বশীভূত হয়ে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন এবং নেতাদেরকে জামায়াতের ট্যাগ লাগানোর চেষ্টা করছেন। বক্তারা আরও জানান, পদপ্রাপ্ত এবং পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি কাজ করে যাবে।
শেষে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের গৌরনদীতে নির্মাণাধীন ব্রিজের ঢালাই কাজ ধ্বসে পড়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে এই কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। উপজেলা খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আহম্মেদকাঠী গ্রামের মৃধাবাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ব্রিজে বুধবার দুপুরে এই ঢালাই ধ্বসের ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে প্রকাশ্যে এসেছে।
গৌরনদী উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৩৫ লাখ টাকায় আহম্মেদকাঠী গ্রামের মৃধাবাড়ির সামনে ব্রিজ নির্মাণের দরপত্র বিজয়ী হয়েছে ডায়নামিক আইটি শপ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে আবুল ফয়েজ শরীফ নামের একজন ঠিকাদার মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্রয় করে ব্রিজ নির্মাণ করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজ নির্মাণে পাটাতন (সাটারিং) পুরনো ও অনুপযুক্ত বাঁশ ব্যবহার করে পানির মধ্যে সাটারিং তৈরি করা হয়েছে। ওই সাটারিংয়ের ওপর বুধবার দুপুরে ব্রিজের ঢালাই দেওয়া হয়।
তবে এতে ঢালাইয়ের চাপ সহ্য করতে না পেরেই ঢালাইসহ পাটাতন খালের মধ্যে ধ্বসে পড়ে। ঠিকাদার আবুল ফয়েজ শরীফ বলেছেন, নিচের স্ট্রাকচার ভাল না থাকায় ঢালাই দেওয়ার শুরুতেই সাটারিং ভেঙ্গে পড়েছে। এটি আবার পুনরায় সাটারিং করে ঢালাইয়ের কাজ করা হবে। গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের কাউকে না জানিয়ে ঠিকাদার ঢালাই দিয়েছেন। এখন শুনেছি সেটা খালের মধ্যে ভেঙ্গে পড়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম জানিয়েছেন, কাজের গুণগত মানে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাতের আঁধারে ছাত্রদল নেতার নির্মাণাধীন ভবনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে দরজা-জানালা ভাঙচুরের অভিযোগ এসেছে। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম শরিফাবাদ গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পশ্চিম শরিফাবাদ এলাকার বাসিন্দা কাওসার সিকদার অভিযোগ করে বলেন, বুধবার দিবাগত রাতে তিনি তার নতুন নির্মাণাধীন ভবনে মোটরসাইকেল রেখে পুরনো বাড়িতে ঘুমাতে যান। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের লোকজন নির্মাণাধীন ভবনের গ্লাস ভাঙার খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিনি দেখেন, কে বা কারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে দরজার দুটি থাইগ্লাস ভেঙে ফেলেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগেও নির্মাণের শুরুতে ভবনের দেয়াল ভেঙেছে দুর্বৃত্তরা। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজন সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের সময় একটি বিদেশি পিস্তল এবং গুলিসহ দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, কেএমপি, খুলনার গোয়েন্দা বিভাগের একটি টিম বৃহস্পতিবার ভোর রাতে নগরীর খালিশপুর থানার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মোস্তফা কামাল (৪৮) নামের একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়। মোস্তফা কামাল বৈকালি বাজারের পিছনের এবি সিদ্দিক লেনের আঃ খালেক মৃধার পুত্র। তার কাছ থেকে ০১টি বিদেশি পিস্তল, ০১টি ম্যাগাজিন এবং ০২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনের অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, কেএমপি'র খুলনা সদর থানার পুলিশ বুধবার রাত পৌনে ১টার সময় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানটির ফলস্বরূপ দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো-মিলন শেখ, মোঃ মনিরুল ইসলাম এবং মোঃ আসিফ গাজী (২০)। তাদের হেফাজত থেকে একটি স্টিলের চাপাতি, একটি ছুরি, একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, একটি নাইলনের দড়ি এবং একটি টেপের রোল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা ও নন-এফআইআর-এর তথ্য পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে মিলন শেখের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি নন-এফআইআর রয়েছে এবং আসিফ গাজীর বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ