প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
অতিবৃষ্টির ফলে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বরিশাল অঞ্চলে অনেক ফসলি জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের অনেকেই বলছেন, এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন হবে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বরিশাল অঞ্চলের ৪১ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন বীজতলা। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানির প্রবাহ ফসলি জমিতে প্রবেশ করায় বরগুনা জেলার ৬ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। তবে আংশিক ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি পিরোজপুরে, যেখানে ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই জেলায় সর্বোচ্চ ২৫৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
অন্য দিকে আর্থিক ক্ষতির দিক থেকে বরিশাল অঞ্চলে ভোলা জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পিরোজপুরে ২৩ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন আমন বীজতলা এবং ১ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৬৪৩ মেট্রিক টন, পটুয়াখালীতে ২৪৪ মেট্রিক টন, বরগুনায় ৪৯৮ মেট্রিক টন এবং ভোলায় ১ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বরিশাল অঞ্চলে ফসলের ক্ষতির মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টনে। অপরদিকে, আর্থিক ক্ষতি হিসাবে বরিশাল অঞ্চলের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিরোজপুরে ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ঝালকাঠিতে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪ হাজার টাকা, পটুয়াখালীতে ১ কোটি ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯০০ টাকা, বরগুনায় ৮৪ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ভোলায় প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার খাসেরহাট এলাকার কৃষক নারায়ণ চন্দ্র মন্তব্য করে বলেন, টানা বৃষ্টির ফলে তার জমির আমন বীজতলা বর্তমানে পানির নিচে। তার দাবি, মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকাই একমাত্র উপায়। অন্যদিকে, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানান, তিনি এক একর জমিতে মরিচ চাষ করছিলেন এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে নদীর জল বেড়ে গিয়ে পুরো মরিচক্ষেত তলিয়ে গেছে।
বরিশাল অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতির জন্য বরিশাল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পিরোজপুরের ২৫ হাজার ৮০০ কৃষক। এছাড়া ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৭১৫ জন, পটুয়াখালীতে ৮ হাজার ৭৭০ জন, বরগুনায় ১ হাজার ১২৫ জন এবং ভোলায় ৩ হাজার ৮০০ জন কৃষক ক্ষতির মোকাবেলা করছেন।
তিনি আরও জানান, বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টিপাত এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং নদ-নদীর পানি প্রতিদিনের মতো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। এই কারণে, ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বরিশাল অঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির চাষ করেছেন। যদি এইভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও কয়েক কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন