বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৫৯ পি.এম
ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : একের পর এক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাসমূহের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে।
নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, রাজধানী নয়াদিল্লির প্রধান বিক্ষোভস্থলে অবস্থানরত জেন-জি প্রজন্মের পাঁচজন আন্দোলনকারী এএফপিকে জানিয়েছেন, কী কারণে তারা অনলাইনভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মোদি সরকারের জন্য এ আন্দোলন অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
‘দমিয়ে রাখা ক্ষোভ’
২১ বছর বয়সী মধু বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, যার ফলে ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়, সেটিই আন্দোলনের সূচনা ঘটায়।
তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস ছিল স্ফুলিঙ্গ, আর সিজেপি মানুষকে প্রতিবাদের একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে।’
তার ভাষায়, ‘কিন্তু এখন এটি শুধু শিক্ষা নয়, বেকারত্ব থেকে শুরু করে এই সরকারের আমলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকটসহ নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলার একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে।’
মধু মনে করেন, দীর্ঘদিনের দমিয়ে রাখা ক্ষোভই মানুষকে আন্দোলনে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, ‘অনেক দিন হলো সরকার আন্তরিকভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি।’
প্রতিবাদস্থল পরিষ্কার করতে করতে তিনি বলেন, তার বাবা-মা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই তিনি মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরে শুধু নিজের প্রথম নাম ব্যবহার করছেন।
‘কখনও কখনও নিজের ভয়কে জয় করতেই হয়,’ বলেন তিনি।
‘মন্ত্রীকে বরখাস্ত করুন’
২৩ বছর বয়সী আরোহি সিং উত্তরাঞ্চলের লখনউ থেকে রাতভর ট্রেনে চেপে দিল্লিতে এসেছেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ রয়েছে, তবে ফেরার কোনো টিকিট নেই।
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা বলেছেন, গিয়ে আমাদের উপস্থিতি জানান দাও।’
একটি বিউটি সেলুন পরিচালনাকারী আরোহি বলেন, ‘থাকার জায়গা নেই, কিন্তু সমস্যা নেই। অন্তত হাজারো মানুষের সঙ্গে আছি।’
তার পরিবারের জন্য এই আন্দোলন ব্যক্তিগতও বটে। তার ছোট বোন প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পুনরায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিলেও এবার আর উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘ওর প্রস্তুতির জন্য বাবা-মা কত টাকা খরচ করেছেন, আমি জানি। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর সে ভেঙে পড়েছিল।’
সরকার শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণে অনীহা দেখানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘একদিকে দেশের মানুষ, অন্যদিকে একজন মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কেন তাকে বরখাস্ত করতে পারছেন না?’
‘জবাবদিহি চাই’
২৮ বছর বয়সী করপোরেট কর্মী সাহিল সোমবার থেকে প্রতিদিনই কর্মস্থলে অসুস্থতার কথা বলে বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভানুধ্যায়ীদের পাঠানো শত শত খাবার বিতরণের সমন্বয় করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি এখানে এসেছি।’
শুধু প্রথম নাম প্রকাশ করতে ইচ্ছুক সাহিল বলেন, ‘আমি জবাবদিহি দাবি করতে এসেছি।’
তার মতে, আন্দোলনটি এখন শিক্ষার্থীদের দাবির গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শুরুটা ছিল শিক্ষা নিয়ে। এখন মানুষ নিজেদের বিভিন্ন সমস্যাও তুলে ধরছে।’
‘আশা’
মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট শহর থেকে আসা ১৭ বছর বয়সী প্রকৌশল শিক্ষার্থী কুনাল সূর্যবংশী বলেন, এই আন্দোলন তাকে এমন মানুষের সঙ্গে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস দেখাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বৈষম্যপূর্ণ দেশে বাস করি, যেখানে প্রায় প্রতিটি প্রতিবাদই কঠোরভাবে দমন করা হয়।’
তার ভাষায়, ‘আমি এমন কিছুর অংশ হতে এসেছি, যা হয়তো পরিবর্তন আনবে।’
তিনি আপাতত দিল্লিতেই থাকার পরিকল্পনা করেছেন। দিনে বিক্ষোভস্থলে থাকবেন, আর রাতে কাছের একটি শিখ মন্দিরে আশ্রয় নেবেন।
তিনি বলেন, ‘সেখানে জায়গা না পেলে ফুটপাতেও ঘুমাতে আমার সমস্যা নেই।’
মুখের অর্ধেক অংশ রুমাল দিয়ে ঢেকে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে শুধু একটাই জিনিস আছে- আশা।’
‘ভেঙে পড়া’ ব্যবস্থা
পাঞ্জাবের আইন শিক্ষার্থী ২৪ বছর বয়সী যুবরাজ স্পাইডারম্যানের মুখোশ পরে এলেও নিজের ক্ষোভ লুকাতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘আমরা নজরদারিনির্ভর একটি রাষ্ট্রে বাস হচ্ছি। রাষ্ট্র আমাদের দেখছে, তাই ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই।’
শুধু প্রথম নাম প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখানে না এলে সেটাই হতো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস।’
তার ভাষায়, ‘আমাদের প্রতিবাদ করতেই হবে। কারণ পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে, আর কিছু বিষয় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়েও বড়।’
যুবরাজ জানান, গত বছর তিনি যে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, সেটির প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন, তারপর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এরপর বলা হয়, পরের বার আবার চেষ্টা করুন।’
‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে অবশ্যই জবাবদিহি থাকতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনার চাটমোহরে ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারবিরোধী স্লোগান এবং নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৩১ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় এ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চাটমোহর থানায় মামলাটি দায়ের করেন মূলগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পূর্বটিয়ারতলা গ্রামের মৃত মিয়াজান সরকারের ছেলে মো. মজর আলী (৪৯)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মূলগ্রামের কায়েমখোলা মোড়ে আতার আলীর চায়ের দোকানে বসে ছিলেন মজর আলী। এই সময় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসযোগে একদল ব্যক্তি সেখানে এসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, বাদী এবং তার সাথে থাকা ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে পরপর দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ বিস্ফোরণের ফলে তারা প্রাণনাশের আশঙ্কায় পড়েন এবং এই ঘটনার ফলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল এবং মাইক্রোবাসযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে চাটমোহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ, চারটি বাজারের ব্যাগে রাখা আনুমানিক ৮ থেকে ১০ কেজি ইটের খোয়া এবং ১০ থেকে ১২টি বাঁশের লাঠি জব্দ করে।
মামলায় বেজপাড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন, হরিপুর গ্রামের মকবুল হোসেন, নৈউতিগাছা গ্রামের সাহেব আলী মাস্টার, জগতলা গ্রামের শরিফুল্লাহ সাচ্চু, নারিকেলপাড়া গ্রামের ওয়াহেদুল ইসলাম বকুলসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অজ্ঞাতনামা আরও কিছু ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলিউল রহমান মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়ে দেন যে, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নের পুর্ব নতুন পাড়া গ্রামে ১১ বছরের এক শিশুকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছরের নুর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার শিশুর দায়ের করা মামলায় মহিপুর থানা পুলিশ রাতে অভিযান চলাকালে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও শিশুর স্বজনদের কাছে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই নতুন পাড়া গ্রামের নিজ ঘরে শিশুটি তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। এ সময় শিশুর মা কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। এই অবস্থায় বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ ঘরে ঢুকে শিশুটির ওপর শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টা করে। এব্যাপারে শিশুটির ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে নুর মোহাম্মদ পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর নুর মোহাম্মদের পক্ষ থেকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি চক্র সালিশের আশ্বাস দিয়ে শিশুর পরিবারকে মামলা না করতে চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু ১৫ দিনেও তাদের সাথে কোনো সমাধান না হওয়ায় ২২ জুলাই কলাপাড়ার মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিম হোসেন বলেছেন, শিশুর দায়ের করা মামলায় নুর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রকৃত জন্মনিবন্ধনে যে কিশোরীর বয়স ১৪ বছর আট মাস, সব কিছু ঠিক থাকলে তার অষ্টম অথবা নবম শ্রেণিতে পড়ার কথা ছিল। জন্ম তারিখ ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর। জন্মনিবন্ধন আইডি নম্বর (২০১১৭৮১৬৬৫৯১০১৪২৯) এবং জন্মনিবন্ধন করা হয় ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর। তবে নাম, বাবা-মায়ের নাম এবং নিবন্ধন আইডি নম্বর সব ঠিক রেখে সালটি বদলে ২০০৭ লিখে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আখতারকে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মনিবন্ধনের একটি ফটোকপি পাঠানো হয়। সেখানে বয়স ১৮ বছর আট মাস দেখানো হয়েছে। বিষয়টি যাচাই বাছাই না করেই আর এগোয়নি। ওই অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক কিশোরীর বাবা রহিম আকন ধুমধাম করে স্থানীয় চৌকিদারের সহায়তায় বাল্যবিয়েটি সম্পন্ন করেন। পরিকল্পিতভাবে জেনেশুনেই এই বালবিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশাসনকে মুলা ঝুলিয়ে অন্যায় কাজটি অতি সম্প্রতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মেলাপাড়া গ্রামের ঘটনা। জনশ্রুতি রয়েছে, জন্মনিবন্ধনের ফটোকপিটি করাতে পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে চৌকিদার তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন।
কলাপাড়ায় এভাবে ভুয়া এবং জাল কাগজপত্রে অহরহ বাল্যবিয়ে হচ্ছে। কখনো প্রশাসন বন্ধ করছে, আবার কখনো আয়োজকদের কাউকে ডেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে এর আর কোন ফলোআপ মনিটরিং নেই। ফলে সরকারের বাল্যবিয়ে বন্ধের পথটি বন্ধ হয় না। সরকারি আইনে বলা হয়েছে, যদি জন্মতারিখ পরিবর্তনের জন্য জাল কাগজপত্র তৈরি করা হয় অথবা সরকারি রেকর্ডে প্রতারণামূলক পরিবর্তন আনা হয়, তাহলে ধারা ৪৬৫ (ঋড়ৎমবৎু) জালিয়াতির জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ধারা ৪৬৬ (ঋড়ৎমবৎু ড়ভ ঢ়ঁনষরপ ৎবমরংঃবৎ) জন্মনিবন্ধন একটি সরকারি রেকর্ড। এ ধরনের রেকর্ড জাল করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।
এ ছাড়া বলা হয়েছে, যদি প্রমাণিত হয় যে বাবা ইচ্ছাকৃতভাবে জন্মতারিখ পরিবর্তনে মিথ্যা তথ্য অথবা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেছেন এবং উদ্দেশ্য ছিল মেয়েকে আইনসিদ্ধ বয়সের আগেই বিয়ে দেয়া, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭, এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির জালিয়াতি (ঋড়ৎমবৎু) সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী মামলা হতে পারে। পরিস্থিতিভেদে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক অথবা অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। কিন্তু এর মধ্যে কোনটাই করা হয়নি।
কলাপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আখতার জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছেন। তিনি আরও জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধে তারা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁদের দেয়া তথ্যানুযায়ী ২০২৫ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে এ বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত মোট ২৭টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করেছেন।
এ প্রতিবেদনকারীর দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলাপাড়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৭টি বিদ্যালয়ের দেয়া তথ্যানুসারে ২০২২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া মোট ছাত্রী সংখ্যা ছিল ১১৬৬ জন। যারা এ বছর দশম শ্রেণিতে পড়ছে, তাঁদের সংখ্যা বর্তমানে ৭৭৭ জন। কমেছে ৩৮৯ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দাবি, এদের ৭০ শতাংশের বাল্যবিয়ে হয়েছে। এভাবে শতকরা ৩৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ শুধুমাত্র বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ ঝরে পড়ছে অষ্টম শ্রেণিতে উর্ত্তীর্ণ হওয়ার আগেই। কারণ ষষ্ঠে অধ্যয়নরত ১১৬৬ জনের থেকে ২০২৫ সালে নবমে উর্ত্তীর্ণ হয়েছে ৯০০ জন। বাল্যবিয়ের ধকল যেন কাটানো যাচ্ছে না। কিছু বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পার হতে ঝরে পড়ছে অর্ধেকেরও বেশি। উত্তর পূর্ব পাটুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৩৫ জন। যারা এবছর দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রয়েছে। কিন্তু সংখ্যা কমে পৌঁছেছে ১৭ জনে। এখানে ৫১ শতাংশ ঝরে গেছে। ধুলাসার ইউনিয়নের চরচাপলী ইসালমিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২২ সালে ষষ্ঠে ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৫৮ জন। যা বর্তমানে দশমে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। নেই ২৩ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আহম্মেদ জানিয়েছেন, শতকরা ৯৫ শতাংশের বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে লেখাপড়ার পাঠ চুকে গেছে। মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার আগেই শিক্ষাজীবন এদের থমকে গেছে। এছাড়া যেসব ছাত্রীরা শিক্ষাজীবনে আছে, তাঁদেরও একটা অংশ বিয়ে হয়ে গেছে। মাদ্রাসায় বাল্যবিয়ের সংখ্যা আরও বেশি। এভাবে কলাপাড়ায় বাল্যবিয়ের ধকল যেন কোন কিছুতেই কাটছে না।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। জাল কাগজপত্রে কেউ বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অতিবৃষ্টির ফলে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বরিশাল অঞ্চলে অনেক ফসলি জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের অনেকেই বলছেন, এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন হবে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বরিশাল অঞ্চলের ৪১ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন বীজতলা। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানির প্রবাহ ফসলি জমিতে প্রবেশ করায় বরগুনা জেলার ৬ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। তবে আংশিক ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি পিরোজপুরে, যেখানে ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই জেলায় সর্বোচ্চ ২৫৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
অন্য দিকে আর্থিক ক্ষতির দিক থেকে বরিশাল অঞ্চলে ভোলা জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পিরোজপুরে ২৩ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন আমন বীজতলা এবং ১ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৬৪৩ মেট্রিক টন, পটুয়াখালীতে ২৪৪ মেট্রিক টন, বরগুনায় ৪৯৮ মেট্রিক টন এবং ভোলায় ১ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বরিশাল অঞ্চলে ফসলের ক্ষতির মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টনে। অপরদিকে, আর্থিক ক্ষতি হিসাবে বরিশাল অঞ্চলের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিরোজপুরে ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ঝালকাঠিতে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪ হাজার টাকা, পটুয়াখালীতে ১ কোটি ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯০০ টাকা, বরগুনায় ৮৪ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ভোলায় প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার খাসেরহাট এলাকার কৃষক নারায়ণ চন্দ্র মন্তব্য করে বলেন, টানা বৃষ্টির ফলে তার জমির আমন বীজতলা বর্তমানে পানির নিচে। তার দাবি, মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকাই একমাত্র উপায়। অন্যদিকে, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানান, তিনি এক একর জমিতে মরিচ চাষ করছিলেন এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে নদীর জল বেড়ে গিয়ে পুরো মরিচক্ষেত তলিয়ে গেছে।
বরিশাল অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতির জন্য বরিশাল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পিরোজপুরের ২৫ হাজার ৮০০ কৃষক। এছাড়া ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৭১৫ জন, পটুয়াখালীতে ৮ হাজার ৭৭০ জন, বরগুনায় ১ হাজার ১২৫ জন এবং ভোলায় ৩ হাজার ৮০০ জন কৃষক ক্ষতির মোকাবেলা করছেন।
তিনি আরও জানান, বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টিপাত এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং নদ-নদীর পানি প্রতিদিনের মতো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। এই কারণে, ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বরিশাল অঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির চাষ করেছেন। যদি এইভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও কয়েক কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ