বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২৪ এম
বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকের সম্পদের মান যাচাই, মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) আয়োজনে ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন (এবিসি) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জন পিসুমে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আবদুল হাই সরকার এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন।
ডেপুটি গভর্নর বলেন, সংকট মোকাবিলায় প্রথম পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন, বকেয়া বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ রিজার্ভ গড়ে তোলার লক্ষ্যও অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশেও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ইতোমধ্যে ১৫টি ব্যাংকে সম্পদের গুণগত মান পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ৩১ শতাংশে নেমেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ হার আরও কমবে আশা প্রকাশ করে অর্থঋণ আদালত আইন এবং নতুন বিশেষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন এ ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মত দেন তিনি।
মূলধন ঘাটতিতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারল্য সহায়তা এবং সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশেও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের পর ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া, ব্যবস্থাপনাকে জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং ঝুঁকি ও পরিপালন বিভাগকে কার্যকর ক্ষমতা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি ঋণ অনুমোদনে প্রভাব বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তে ঋণগ্রহীতার পরিশোধ সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ ও ব্যবসার বাস্তব সম্ভাবনা বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ঋণের সঠিক শ্রেণিকরণ, পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণ এবং মূলধন পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর তারল্য ও মূলধন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে নিয়মিত স্ট্রেস টেস্ট করতে হবে। রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারের পরিবর্তন এবং আমানত প্রত্যাহারের চাপ একসঙ্গে মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা যাচাই জরুরি। সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকসেবা অব্যাহত রাখার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
ব্যাংক পুনর্গঠন ও দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় একটি ‘ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজল্যুশন তহবিল’ গঠনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের ওপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে দুর্বল ব্যাংকের সমস্যা মোকাবিলার সুযোগ তৈরি হবে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, কর্মদক্ষতাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা এবং নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণেও কাজ চলছে। বিইএফটিএন, আরটিজিএস, এনপিএসবি ও বাংলা কিউআরের পাশাপাশি আগামী বছর অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে আর্থিক ব্যবস্থার ভেতরে বিদ্যমান সম্পদ ও অর্থায়নের ভারসাম্য পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের নতুন নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার, যা ১৪ হাজার জনবল নিয়োগের কথা বলছে। এর মধ্যে ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) এবং ১০ হাজার কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এসআই পদে এবার সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সবকটি পদে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এই নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে এসআই পদে শতভাগ সরাসরি নিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) সংশোধন করা হয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এসআই পদের ৫০ শতাংশ পদে বিভাগীয় পদোন্নতি এবং বাকি ৫০ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগের বিধান রয়েছে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ৪ হাজার এসআই পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মানে, বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত অংশটিও সরাসরি নিয়োগের আওতায় আসছে।
সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ১৪ হাজার সদস্য নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক ও জোরদার করতে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে নতুন এসব পদ সৃজন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবিধান সংশোধন করে আপাতত এই একবারের জন্যই পুরো চার হাজার পদে সরাসরি এসআই নেওয়া হচ্ছে, তবে প্রয়োজনে সরকার ভবিষ্যতেও এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত বড় একটি অংশের দলীয় প্রভাব এবং বিগত আট মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া ও স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের বিষয়ের মতো কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রবিধান সংশোধনের মাধ্যমে শতভাগ সরাসরি নিয়োগের ফলে পদোন্নতিপ্রত্যাশী বিভাগীয় সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও মাঠপর্যায়ে হতাশা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, পুলিশে এএসপি ক্যাডারে শূন্য পদ পূরণে ৫২তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৪ শত থেকে ৫ শত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়োগের পর তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময়কাল কিছুটা সংক্ষিপ করার কথা ভাবা হচ্ছে। নতুন এসব নিয়োগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কড়া গোয়েন্দা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার সকল তপশিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) বুধবার (২৮ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে নির্বাচনি এলাকার তপশিলি ব্যাংকগুলোর আঞ্চলিক কার্যালয়সহ সব শাখা ও উপশাখা বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই বছরে তথ্য ও যোগাযোগ খাতের কর্মীদের বেতন সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রচার, অনলাইন অনুসন্ধান এবং প্রকাশনাসহ এই খাতের বেসরকারি কর্মীদের গড় সাপ্তাহিক বেতন ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মোট ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। এই তথ্যটি ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান লেন্ডিংট্রির একটি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষণের ফলাফল অনুযায়ী, একই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব বেসরকারি খাতের কর্মীদের গড় বেতন ৪ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, তথ্য ও যোগাযোগ খাতে বেতন বৃদ্ধির হার সামগ্রিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
তথ্য ও যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন উপখাতের মধ্যে সম্প্রচার এবং বিষয়বস্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই খাতে গড় সাপ্তাহিক বেতন ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৬৮৮ ডলার থেকে ৫ হাজার ৪৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর মানে হলো, সপ্তাহে গড় বেতন বেড়েছে ৭৮৮ ডলার।
তবে সব খাতে বেতন বৃদ্ধি ঘটেনি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও শব্দ ধারণ খাতে গড় সাপ্তাহিক বেতন ২ শতাংশ কমেছে।
লেন্ডিংট্রি জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি বেতন বেড়েছে এমন ১০টি উপখাতের মধ্যে পাঁচটি তথ্য ও যোগাযোগ খাতের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সরকারি কর্মসংস্থান ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এ সময়ে এই খাতে কর্মী নিয়োগ ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে, সব বেসরকারি খাত মিলিয়ে কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে সামাজিক সহায়তামূলক কাজে কর্মী নিয়োগ সবচেয়ে বেশি ছিল। এই ধরনের কাজে আবাসিক সেবার পাশাপাশি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত দুই বছরে এই খাতে ৩ লাখের বেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে নিয়োগদাতারা।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এই উৎসবটি লালন বিশ্বসংঘের উদ্যোগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন শ্রীমঙ্গলের কৃতি লেখক ও গবেষক প্রফেসর নৃপেন্দ্রলাল দাশ।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে এ উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা থেকে কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের ১০ জন গুণী ভাবসংগীত শিল্পী অংশ নিতে আসছেন। তারা কবীর ও লালনের মুক্ত ভাবধারার গান পরিবেশন করবেন, যা দর্শক-শ্রোতাদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হবে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লালন বিশ্বসংঘের উদ্যোগে কবীর ও লালনের দর্শন, মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িক মুক্ত চেতনা এবং মরমী সংগীতের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। ভাবসংগীতের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সদ্ভাব, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও আত্মোপলব্ধির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে।
শ্রীমঙ্গলে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন আয়োজন থাকলেও কবীর-লালন ভাবসংগীতকে কেন্দ্র করে এ ধরনের উৎসব স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকার ১০ জন গুণী শিল্পীর অংশগ্রহণ উৎসবটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
সংগীতপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শক-শ্রোতাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা। তাদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলে মরমী ভাবসংগীতের চর্চা ও প্রসার আরো গতিশীল হবে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হওয়া এ উৎসব দেশের ৭ বিভাগে সফলভাবে সম্পন্ন করে শ্রীমঙ্গলে আগামী ৩০ অক্টোবর শুক্রবার এর সমাপনী ঘটবে।
এ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে বৃহত্তর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চা বাগানে নিয়োজিত শ্রমজীবী কবীরপন্থী ও রবিদাসপন্থী সম্প্রদায়ের সঙ্গীত ও নৃত্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ