প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকের সম্পদের মান যাচাই, মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) আয়োজনে ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন (এবিসি) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জন পিসুমে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আবদুল হাই সরকার এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন।
ডেপুটি গভর্নর বলেন, সংকট মোকাবিলায় প্রথম পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন, বকেয়া বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ রিজার্ভ গড়ে তোলার লক্ষ্যও অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশেও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ইতোমধ্যে ১৫টি ব্যাংকে সম্পদের গুণগত মান পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ৩১ শতাংশে নেমেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ হার আরও কমবে আশা প্রকাশ করে অর্থঋণ আদালত আইন এবং নতুন বিশেষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন এ ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মত দেন তিনি।
মূলধন ঘাটতিতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারল্য সহায়তা এবং সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশেও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের পর ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া, ব্যবস্থাপনাকে জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং ঝুঁকি ও পরিপালন বিভাগকে কার্যকর ক্ষমতা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি ঋণ অনুমোদনে প্রভাব বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তে ঋণগ্রহীতার পরিশোধ সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ ও ব্যবসার বাস্তব সম্ভাবনা বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ঋণের সঠিক শ্রেণিকরণ, পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণ এবং মূলধন পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর তারল্য ও মূলধন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে নিয়মিত স্ট্রেস টেস্ট করতে হবে। রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারের পরিবর্তন এবং আমানত প্রত্যাহারের চাপ একসঙ্গে মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা যাচাই জরুরি। সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকসেবা অব্যাহত রাখার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
ব্যাংক পুনর্গঠন ও দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় একটি ‘ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজল্যুশন তহবিল’ গঠনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের ওপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে দুর্বল ব্যাংকের সমস্যা মোকাবিলার সুযোগ তৈরি হবে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, কর্মদক্ষতাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা এবং নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণেও কাজ চলছে। বিইএফটিএন, আরটিজিএস, এনপিএসবি ও বাংলা কিউআরের পাশাপাশি আগামী বছর অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে আর্থিক ব্যবস্থার ভেতরে বিদ্যমান সম্পদ ও অর্থায়নের ভারসাম্য পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন