শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫৪ এম
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, বারান্দা, ছাদ, শৌচাগার এবং প্রতিষ্ঠানের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি, কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের জন্য বলা হয়েছে।
১৮ অক্টোবর তারিখে জারি করা এক নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের এসব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুর বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, সার্বিক শৃঙ্খলা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হক স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সড়ক অবরোধ ও সংঘাতের কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় উজোবাজার এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
অবরোধের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, মেঘে ঢাকা পাহাড় এবং পর্যটকদের কোলাহল, সব মিলিয়ে সাজেকের পরিচিত দৃশ্য এখন পরিবর্তিত হয়েছে। পর্যটকশূন্য এই পর্যটনকেন্দ্রে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। এই অবরোধের কারণে সাজেক-বাঘাইহাট-মাচালং-উজোবাজার এলাকার সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে সাজেকে অবস্থানরত প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে পর্যটকদের গাড়িবহর।
এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা জবাব দেয়। পরে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের ছয় সদস্য ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন। তবে গোলাগুলিতে নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাজেকের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় সড়ক ও নৌপথে অর্ধদিবস অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফলে দুই পার্বত্য জেলায় যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয়দের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন কাজ করছে।
সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও অবরোধ প্রত্যাহারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী এবং পর্যটকেরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারে একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে সবজিবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে দুজনের মৃত্যু ঘটেছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া সবুজ পাহাড় এলাকায়।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন আবদুল্লাহ (২৭), যিনি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকার আবুল কালামের ছেলে। অপরজন মো. ইয়াছিন (৩০), যিনি চকরিয়া উপজেলার রামপুরা এলাকার মো. দুলালের ছেলে। দুর্ঘটনার সময় তারা পিকআপ ভ্যানে অবস্থান করছিলেন।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, চকরিয়া থেকে কক্সবাজারগামী সবজিবাহী পিকআপ ভ্যানটির সাথে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী এন আর পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় পিকআপে থাকা আবদুল্লাহ ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা সেখানে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাসটি অত্যন্ত দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চলছিল। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি ও সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি সাহী চৌধুরী। নিউ ইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য টিমোথি এম. কেনেডি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে 'কংগ্রেশনাল রেকর্ড'-এর মাধ্যমে তাকে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেন।
কংগ্রেসম্যান কেনেডি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সাহী চৌধুরী দীর্ঘকাল ধরে বাফেলো শহর এবং ওয়েস্টার্ন নিউ ইয়র্ক অঞ্চলের জনসেবা, স্থানীয় ব্যবসা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে আসছেন। ২০২৩ সালে তিনি ‘Buffalo Business First’-এর মর্যাদাপূর্ণ ‘30 Under 30’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। এছাড়াও, সাহী চৌধুরী তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ইতিমধ্যে ষ্টেট, সিটি সহ বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি ওয়েস্টার্ন নিউ ইয়র্কের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
সাহী চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলোতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন, আর বাংলাদেশে তার বাড়ী সিলেট শহরে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভা মার্কিন কংগ্রেসে এমন বিরল ও সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য সাহী চৌধুরীকে ইতোমধ্যে অনেকেই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই মনে করেন যে, এই ধরনের অর্জন বা স্বীকৃতি আমেরিকাতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী ও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একটি আন্তর্জাতিক অপেশাদার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৭ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের একত্রিত করা। আয়োজক প্রতিষ্ঠান এবি মিডিয়া গ্রুপ জানায়, এই প্রথমবারের মতো ৩০টি দেশের ক্রিকেট ক্লাব এতে অংশগ্রহণ করবে। উদ্বোধনী ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে, আর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফাইনালের গালা নাইটে বলিউড তারকা শাহরুখ খান উপস্থিত থাকবেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কেক কেটে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপের ট্রফি উন্মোচন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্জন মোশাররফ, গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কবির আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপি, সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবুসহ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, "৩০টি দেশের ক্রিকেট ক্লাবকে সম্পৃক্ত করে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন আশা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে স্পোর্টস ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি ও দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে সহায়ক হবে। তিনি হামজা চৌধুরীর উদাহরণ টেনে বলেন, প্রবাসীদের মধ্য থেকেও ভবিষ্যতে কেউ জাতীয় ক্রিকেট দলে জায়গা করে নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারেন।
এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান। এবি মিডিয়া গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কবির আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, দেশের বিশাল যুবসমাজকে সঠিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মাধ্যমে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। টুর্নামেন্টের সূচি ও আয়োজন সম্পর্কে তিনি বলেন, উদ্বোধনী ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ফাইনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতে হবে। ফাইনালের গালা নাইটে বলিউড তারকা শাহরুখ খান অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি।
এবি মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্জন মোশাররফ বলেন, দীর্ঘ পরিশ্রমের পর এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছেন তাঁরা। তিনি বর্তমান সরকারকে ক্রীড়াবান্ধব উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড টুর্নামেন্ট আয়োজনে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এ জন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ইভেন্ট ম্যানেজারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন আয়োজকেরা। উন্নত সম্প্রচার নিশ্চিত করতে একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে বলেও জানান নির্জন মোশাররফ।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার বলেন, "বাংলাদেশিদের কাছে ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়; এটি আবেগ, ভালোবাসা ও ঐক্যের শক্তিশালী বন্ধন। ক্রিকেটের মাধ্যমে হাজার মাইল দূরে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের একত্রিত করা এবং তাঁদের মধ্যে দেশীয় পরিচয়, গর্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করা সম্ভব।"
বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপি বলেন, ৩০টি দেশকে যুক্ত করে এমন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি মনে করেন, নিয়মিত আয়োজনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে কাজ করলে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিমের মতে, এই টুর্নামেন্ট প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্রিকেট সংস্কৃতি গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, দেশের অর্থনীতি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তিনি জুলাই আন্দোলনে তাঁদের অবদান উল্লেখ করে প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আয়োজনের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের জান্নাতুল সুমনা, এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপের উপদেষ্টা আফজাল হোসেন ও বেলাল উদ্দিন তুহিন, ক্রীড়া সংগঠক মাসুম ভূঁইয়া, ক্রীড়াবিদ শরিফুল হক শিপন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠক রিমন ইসলাম এবং পিটুপি গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ মহসিনসহ অনেকে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৭-এর ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জাপান, বাংলাদেশ, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও মালয়েশিয়ায়।
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ওমান, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, পোল্যান্ড, ইতালি, সৌদি আরব, কুয়েত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জাপান ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৩০টি দেশের ক্লাব এতে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।
ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদার করাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ