প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সড়ক অবরোধ ও সংঘাতের কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় উজোবাজার এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
অবরোধের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, মেঘে ঢাকা পাহাড় এবং পর্যটকদের কোলাহল, সব মিলিয়ে সাজেকের পরিচিত দৃশ্য এখন পরিবর্তিত হয়েছে। পর্যটকশূন্য এই পর্যটনকেন্দ্রে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। এই অবরোধের কারণে সাজেক-বাঘাইহাট-মাচালং-উজোবাজার এলাকার সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে সাজেকে অবস্থানরত প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে পর্যটকদের গাড়িবহর।
এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা জবাব দেয়। পরে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের ছয় সদস্য ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন। তবে গোলাগুলিতে নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাজেকের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় সড়ক ও নৌপথে অর্ধদিবস অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফলে দুই পার্বত্য জেলায় যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয়দের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন কাজ করছে।
সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও অবরোধ প্রত্যাহারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী এবং পর্যটকেরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন