প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আগুন নেভানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন ৪২ ঘণ্টা পেরিয়েও জ্বলতে থাকছে।
আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়া এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাইকিং করে উৎসুক মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভে জমে থাকা গ্যাসের মজুদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন অন্তত সাত দিন জ্বলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরাসরি আগুন নেভানোর পরিবর্তে গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ কমানোর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহাম এসব তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ভূগর্ভের ওপরের স্তরে জমা থাকা পকেট গ্যাস নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকবে। গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সরাসরি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ কারণে গ্যাসের চাপ কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খননকাজ চলাকালীন প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বেরিয়ে আসতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে আগুন জ্বলতে থাকে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যায়।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ইনানী থেকে মনখালী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাপেক্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন