প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফুটবলারের জুতোর কথা মনে হলে চোখের সামনে কী ভাসে? মাঠের ঘাসের ওপর ছুটে চলা একজোড়া বুট, যেগুলো বলের দিকে লাথি মারছে, আর তার তালে জাল কাঁপছে, গ্যালারিতে উল্লাসের স্রোত বইছে। এটাই তো?
এবার একটু ভিন্নভাবে ভাবা যাক। যদি সেই জুতোর মাপ বড় হয়ে যায়? ফুটবলারদের জুতোর মাপ অবশ্যই নিখুঁত হতে হয়, কারণ একটু এদিক-ওদিক হলে খেলোয়াড় মাঠে পড়ে যেতে পারেন; যখন লাখো দর্শকের সামনে সরাসরি সম্প্রচার হবে, তখন প্রস্তুতকারকদের বাজারদর নিমিষেই পড়ে যাবে। তবে, হয়তো ভুল বলা হচ্ছে। বড় মাপের সেই ‘জুতো’ কিন্তু কারো জীবনও বদলে দিতে পারে।
নাইজেরিয়ার অনেক শিশুর জন্য সেই ‘বড় জুতো’ এসেছে একেবারে ভিন্ন রূপে। সেই জুতো তাদের অস্ত্রোপচারের টেবিলে নিয়ে গেছে, নতুন জীবন দিয়েছে, যা তাদের নতুন পথচলার শুরু।
এই ‘বড় জুতোর’ গল্পের নায়ক হলেন আর্সেনালের উইঙ্গার বুকায়ো সাকা। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে তিনি ‘সক্রেটিস’ পুরস্কার অর্জন করেছেন। তবে, এটি গোলের জন্য নয়। বরং ‘বড় জুতো’ বা ‘বিগ শু’র জন্য।
ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন এবং ‘পিস অ্যান্ড স্পোর্ট’ সংস্থা ২০২২ সালে এই সক্রেটিস পুরস্কার চালু করে। পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি সক্রেটিসের নামে, যিনি সামাজিক অবস্থান এবং গণতন্ত্রের পক্ষে সওয়াল করার জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি তার খ্যাতি ও সম্পদকে সমাজের কল্যাণে কাজে লাগিয়েছিলেন। যারা তার পথ অনুসরণ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন, তাদের জন্য এই পুরস্কার।
পুরস্কারের তালিকাও চিত্তাকর্ষক। ২০২২ সালে প্রথমবারের জন্য সেনেগালের সাদিও মানে পেয়েছিলেন, যিনি নিজের গ্রাম বাম্বালিতে হাসপাতাল এবং স্কুল নির্মাণের জন্য। ২০২৩ সালে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যিনি শিশুদের শিক্ষা এবং বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের জন্য পুরস্কৃত হন। ২০২৪ সালে স্পেনের জেনি এরমোসো, যিনি নিপীড়ন এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার স্বীকৃতি পান। ২০২৫ সালে লুইস এনরিকের পরিবারের ‘শানা’ ফাউন্ডেশন, গুরুতর অসুস্থ শিশুদের এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পুরস্কৃত হন। সাকা সেই তালিকায় অনেক আগেই জায়গা করে নিয়েছিলেন, এবার পেলেন ‘স্বীকৃতি’।
তার কাজটি কী? জার্মান দাতব্য সংস্থা ‘বিগশু’-র সঙ্গে সহযোগিতা করে তিনি নাইজেরিয়ায়, অর্থাৎ তার বাবা-মায়ের দেশে, শিশুদের অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করেছেন। তার সহায়তায় ১২০টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। হার্নিয়া থেকে ব্রেন টিউমার, কোনোটিই ছোট বিষয় নয়।
বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘বড় জুতোয় পা গলানো’ সহজ কাজ নয়। সেখানে দায়িত্বের মাপ পায়ের মাপের চেয়ে বড়। কিন্তু সাকা সেই জুতোয় পা গলিয়েছেন নিঃশব্দে, ক্যামেরার আড়ালে।
মাঠের বুট গোল করে। কিন্তু এই জুতো কাউকে দাঁড়াতে শেখায়। বুকায়ো সাকার সে ‘বড় জুতো’ ছিল ঠিক মাপেরই, তাই না?
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন