শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫০ পি.এম
ইউরোপজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কম বেতন, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। ফ্রান্সে সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ইউরোপের অন্তত সাতটি দেশের তরুণেরা এতে যোগদান করেছেন।
স্পেন ও পর্তুগালে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তরুণেরা রাজধানীতে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। ফ্রান্স ও ইতালিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। অন্যদিকে, আলবেনিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে কিছু তরুণ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবিতে দেশভেদে ভিন্নতা থাকলেও তাঁদের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে মিল রয়েছে—ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। মাদ্রিদের কেন্দ্রস্থলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তাঁবুর শিবিরে অবস্থান করছেন স্পেনের তরুণেরা। মঙ্গলবার সেখানে ২৭ বছর বয়সী কনসার্ট মঞ্চকর্মী সাচা কোসি বলেন, “ভবিষ্যৎহীন প্রজন্ম আবার ফিরে এসেছে।”
কোসি আরও বলেন, কম বেতন, উচ্চ বাড়িভাড়া, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অসহায়ত্ব এবং চাকরির অনিশ্চয়তা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে। আগের প্রজন্মের মতো সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও তাঁদের শঙ্কা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা সবকিছুতেই ক্লান্ত। পরিস্থিতি ক্রমাগত এমনভাবে বদলাচ্ছে, যা আমাদের কোনো উপকারে আসছে না।”
ইউরোপের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিও তরুণদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জনসংখ্যার বার্ধক্য, পেনশনসহ সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে সরকারগুলোকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর চ্যালেঞ্জ এবং রাশিয়ার আগ্রাসন ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের মিত্র ডেনমার্কের ভূখণ্ড নিয়ে হুমকি দিয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে আসায় ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি কমার প্রেক্ষাপটে ইউরোপে সামরিক ব্যয়ও বেড়েছে, যা সরকারি বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
ইতালির পাদুয়া শহরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী স্টেলা সালিস বলেন, তরুণদের মধ্যে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ও ক্লান্তির অনুভূতি রয়েছে। তাঁর মতে, ইউরোপের তরুণেরা ক্রমেই মনে করছেন, তাঁদের প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
বর্তমান আন্দোলনগুলো বিক্ষোভের সংখ্যা ও স্থায়িত্বের দিক থেকে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর ছড়িয়ে পড়া কৃচ্ছ্রসাধনবিরোধী বিক্ষোভের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ছে। ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেলজিয়ামের তরুণদের উৎসাহিত করেছে। ইতালি ও জার্মানির বিক্ষোভকারীরাও ফ্রান্সে শুরু হওয়া একটি স্লোগান ব্যবহার করছেন। সালিস আশা করছেন, আন্দোলনটি জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হবে।
তবে কিছু দেশে বিক্ষোভের সঙ্গে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। গত সপ্তাহান্তে উত্তর ইতালিতে দাঙ্গার ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর দেশটির সরকারের মন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী নেতা মাত্তেও সালভিনি মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্য, শহরটিকে অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসনবিরোধী অবস্থানও তুলে ধরেন।
ফ্রান্সে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলও সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির প্রার্থী মেরিন লে পেন রোববার বলেন, ছয় মাসের মধ্যে ফরাসি জনগণ কর্তৃত্ব ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ বেছে নিতে পারবেন। দলটির সভাপতি জর্দান বারদেলাও একই দিন দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে ইউরোপের সরকারগুলোর সামনে তরুণদের সমস্যা সমাধানের পথ সহজ নয়। সীমিত সম্পদের মধ্যে শিক্ষা, পেনশন, আবাসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবায় অর্থ বরাদ্দের ভারসাম্য রাখতে হবে। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক চাপও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সালোমে রেনো বলেন, তিনি এমন একটি চাকরি চান, যা করতে তাঁর ভালো লাগবে। প্রতি মাসে খরচের হিসাব করে কোনো কিছু কেনার সামর্থ্য আছে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে চান না তিনি।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আবাসন ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের একজন ২৯ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানী মোরানা মন্টেইরো বলেন, তরুণেরা কাজ করতে চান, তবে মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে। তাঁর প্রশ্ন, কাজ করেও যদি বাড়ি কেনা, মাসিক বিল পরিশোধ কিংবা পরিবার গড়ার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে সেই কাজের অর্থ কী?
আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীরা দুর্নীতিবিরোধী বৃহত্তর ‘ফ্লেমিঙ্গো’ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে চলা এই আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে সুরক্ষা ও বাড়তি বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছেন। আন্দোলনটির নাম এসেছে এমন একটি এলাকার পাখির আবাসস্থল থেকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পের জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো প্রকল্পটির বিরোধিতা করছে।
২২ বছর বয়সী অভিনেতা ও আন্দোলনকর্মী রেডজান শকেম্বি বলেন, “আমরা এমন একটি প্রজন্ম, যারা নীরব না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তাঁর ভাষ্য, আগের প্রজন্ম একই মাত্রার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ভোগ করতে পারেনি। আলবেনিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবিতে প্রায় ১৫০ দিন আগে জ্ভেরনেভে শুরু হওয়া বিক্ষোভে তিনি যোগ দেন। তাঁর লক্ষ্য আরও স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক আলবেনিয়া গড়ে তোলা। শকেম্বি বলেন, “আমরা একটি ভালো দেশ চাই এবং আমরা সেই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখতে চাই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন।
আজ শুক্রবার (২৩) সকালে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মঈন খানের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। মঈন খান হুইলচেয়ারে বসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান দুই দিন ধরে অসুস্থ হয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে গিয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ‘শ্বাসকষ্ট ও হৃদ্রোগের সমস্যা নিয়ে অসুস্থ হয়ে বুধবার রাতে তিনি ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছে। গতকালের চেয়ে আজ তার অবস্থা স্থিতিশীল আছে।’
ডা. জাহিদ জানান, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আতিকুর রহমান, ডা. জিয়াউল হক ও ডা. জাফর ইকবালের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন ড. আবদুল মঈন খান।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন।
ড. আবদুল মঈন খানের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনায় তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে। মঈন খানের সহধর্মিণী রোকসানা খন্দকার এবং তিন কন্যা তার শয্যাপাশে রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চোরাচালানকৃত ২০০ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক, ৬৫৩ পিস ওষুধ এবং একটি ইজিবাইক জব্দ করেছে। এ অভিযানের সময় এক দালালসহ তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ অক্টোবর আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নতুনপাড়া বিওপির একটি দল সীমান্ত পিলার-৬৬/৭-এস হতে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালায়। নায়েব সুবেদার মোহা. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে একটি আম বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০০ প্যাকেট ভারতীয় অবৈধ কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
খোসালপুর বিওপির একটি টহলদল যোশপুর গ্রাম থেকে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় তিন বাংলাদেশি নাগরিক ও এক দালালকে আটক করে। আটক দালাল হলেন মহেশপুর থানার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৩৫)। আটক হওয়া তিন বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লার সায়েদ আলম (২২), সাব্বির হোসাইন (২৩) এবং চাঁদপুরের মো. মাহমুদুল হাসান (২১)। তাদের কাছ থেকে একটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয়।
এদিকে, আজ ২৩ অক্টোবর ভোরে যাদবপুর বিওপির এলাকা থেকে নায়েব সুবেদার মো. আবু বকরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বেতবাড়িয়া এলাকার একটি ক্ষেতের পাশ থেকে ৬৫৩ পিস ভারতীয় চোরাচালানি ওষুধ উদ্ধার করে বিজিবি।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী এমদাদুর রহমান জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা গ্রহণ করে উদ্ধারকৃত মালামাল ও ইজিবাইকসহ তাদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক এখন পর্যটকশূন্য অবস্থায় রয়েছে। সড়ক অবরোধের কারণে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও পর্যটকদের আটকে পড়ার ঘটনার ফলে পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পর্যটনকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ও পরিবহন খাতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করে আসছে, যার মধ্যে পাহাড়ের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি রয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে ২২ অক্টোবর থেকে আবারও অবরোধ শুরু হয়।
অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যটকদের নিজ গন্তব্যে ফেরাতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি ছুঁড়লে আত্মরক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীও গুলিবর্ষণ করে।
এদিকে, সংগঠন দুটির ডাকে এখনো সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। তবে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে সড়কের কোথাও পিকেটারদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়নি। সড়কে যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সাজেকের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছে। বর্তমানে সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
বারবার অবরোধ ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী, রিসোর্ট-কটেজ মালিক, জিপচালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিপাকে পড়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতি জানায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানে আগাম বুকিং ছিল। কিন্তু পর্যটকদের আগেভাগে ফিরে যেতে হওয়ায় এবং পরবর্তী সময়ের বুকিং বাতিল হওয়ায় ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পর্যটন বন্ধ থাকায় জিপচালকদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সাজেক পরিবহন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. আরিফ জানিয়েছেন, প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০-১৫০ পর্যটকবাহী জিপগাড়ি সাজেকের উদ্দেশে রওয়ানা দিত। তবে পর্যটনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে কোনো পর্যটক যেতে পারছেন না।
সাজেক পর্যটন ভ্যালির কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা জানিয়েছেন, পাহাড়ের তিন জেলাতেই আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু অন্য কোথাও সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয় না। সাজেক পর্যটনকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়াকে তিনি পর্যটন খাতের ক্ষতি করার পাঁয়তারা বলে মনে করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অবরোধ ও পর্যটন বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেছেন, ‘অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হয়েছে। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন। সাজেকে সড়ক অবরোধ হলে শুধু পর্যটক বা ব্যবসায়ীরা নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।’
এ পরিস্থিতিতে সাজেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটনকেন্দ্র কবে আবার খুলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সাজেকের অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়ক ও নৌপথে আধাবেলা অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া ফোরসাইট নেটওয়ার্কের (এসএএফএন) সম্মানসূচক সিনিয়র ফেলো হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। কূটনীতি, সাংবাদিকতা, জনসেবা ও মানবাধিকার খাতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি এক ঘোষণার মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করে।
এসএএফএন, যা দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের অধীনে পরিচালিত, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ, ভূরাজনীতি ও নীতিনির্ধারণী বিষয় নিয়ে গবেষণা করে। প্রতিষ্ঠানটি এই বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে সংলাপের আয়োজন করে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর আনসারী ওয়াশিংটনে এসএএফএনের যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা, সংলাপ ও অন্যান্য উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন। এসএএফএন মনে করে, তাঁর অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারে সহায়ক হবে।
মুশফিকুল ফজল আনসারী দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জনসেবা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সাংবাদিকতায় কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিবের মর্যাদায় সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সময়ে কোস্টারিকা, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন।
কূটনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে আনসারী ওয়াশিংটনে মানবাধিকার সংগঠন রাইট টু ফ্রিডমের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি সাউথ এশিয়া পারসপেক্টিভসের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া হোয়াইট হাউস ও জাতিসংঘে স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী বিষয় নিয়ে সাংবাদিকতা করেছেন।
এসএএফএনের সিনিয়র ফেলোদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও নরওয়ের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী এরিক সোলহেইম, থাইল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ক্রিয়েংসাক চারোয়েনওংসাক এবং শ্রীলঙ্কার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান গগন বুলাথসিংহলা। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, কৌশলগত অধ্যয়ন, জলবায়ু ও আন্তসীমান্ত নদী নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।
এসএএফএনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনীরুজ্জামান। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ