প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক এখন পর্যটকশূন্য অবস্থায় রয়েছে। সড়ক অবরোধের কারণে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও পর্যটকদের আটকে পড়ার ঘটনার ফলে পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পর্যটনকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ও পরিবহন খাতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করে আসছে, যার মধ্যে পাহাড়ের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি রয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে ২২ অক্টোবর থেকে আবারও অবরোধ শুরু হয়।
অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যটকদের নিজ গন্তব্যে ফেরাতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি ছুঁড়লে আত্মরক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীও গুলিবর্ষণ করে।
এদিকে, সংগঠন দুটির ডাকে এখনো সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। তবে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে সড়কের কোথাও পিকেটারদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়নি। সড়কে যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সাজেকের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছে। বর্তমানে সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
বারবার অবরোধ ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী, রিসোর্ট-কটেজ মালিক, জিপচালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিপাকে পড়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতি জানায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানে আগাম বুকিং ছিল। কিন্তু পর্যটকদের আগেভাগে ফিরে যেতে হওয়ায় এবং পরবর্তী সময়ের বুকিং বাতিল হওয়ায় ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পর্যটন বন্ধ থাকায় জিপচালকদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সাজেক পরিবহন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. আরিফ জানিয়েছেন, প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০-১৫০ পর্যটকবাহী জিপগাড়ি সাজেকের উদ্দেশে রওয়ানা দিত। তবে পর্যটনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে কোনো পর্যটক যেতে পারছেন না।
সাজেক পর্যটন ভ্যালির কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা জানিয়েছেন, পাহাড়ের তিন জেলাতেই আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু অন্য কোথাও সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয় না। সাজেক পর্যটনকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়াকে তিনি পর্যটন খাতের ক্ষতি করার পাঁয়তারা বলে মনে করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অবরোধ ও পর্যটন বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেছেন, ‘অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হয়েছে। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন। সাজেকে সড়ক অবরোধ হলে শুধু পর্যটক বা ব্যবসায়ীরা নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।’
এ পরিস্থিতিতে সাজেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটনকেন্দ্র কবে আবার খুলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সাজেকের অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়ক ও নৌপথে আধাবেলা অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন