মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৩ পি.এম
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনার নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার পর অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে গিয়ে তাদের কথিত নির্দেশদাতাদের কাছে ‘অপারেশন সম্পন্ন’ বলে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
পুলিশের ধারণা, হামলার পরিকল্পনা পূর্ব থেকেই করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারাগারে অবস্থানরত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেটওয়ার্কের সম্পর্ক থাকতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল ম্যাচ খেলে ফেরার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ির দিকে একাধিক গুলি চালানো হয়েছে।
এই ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন বিহারের বেগুসরাইয়ের ২২ বছর বয়সী হৃতিক ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী রেহান ও ফুল সিং।
অভিযুক্তদের সোমবার রাজস্থানের কোটায় গ্রেফতার করা হয় এবং পরে তাদের সড়কপথে মুম্বাইয়ে নিয়ে আসা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে মুম্বাই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, গুলিবর্ষণের আগে ও পরে অভিযুক্তরা কথিত নির্দেশদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। হামলার পূর্বে টাইগার শ্রফের ফুটবল খেলার একটি ছোট ভিডিও তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। ভিডিও পাওয়ার পর হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, হামলার পর অভিযুক্তদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন কথিত নির্দেশদাতা অনিল পণ্ডিত ও তার সহযোগীরা। পরে সংবাদমাধ্যমে গুলিবর্ষণের খবর প্রকাশিত হলে তারা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে অভিযোগ। এরপর আগে থেকে তৈরি করা একটি ফেসবুক পোস্ট ও অডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হামলা চালানোর জন্য তিন অভিযুক্তকে সম্মিলিতভাবে ৫০ হাজার রুপি অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে আরও অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, রেহান প্রায় দুই মাস আগে পাঞ্জাবের অমৃতসরে এক ব্যবসায়ীকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার পরই অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের দাবি, টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে হামলার জন্য রেহানকে অগ্রিম ৩৫ হাজার রুপি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল।
রেহান আবার হৃতিককে হামলায় অংশ নেওয়ার বিনিময়ে অর্থ ও বিদেশে চাকরির প্রলোভন দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এসব তথ্য যাচাই করছে পুলিশ।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে এক ব্যক্তি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি নিজেকে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দিয়ে হারমান সান্ধুর সঙ্গে হামলার দায় নেওয়ার কথা বলেন।
অডিওতে সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা, বক্তার পরিচয় এবং কথিত গ্যাংয়ের সঙ্গে হামলার প্রকৃত যোগসূত্র তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের ধারণা, অনিল পণ্ডিত কারাগারে থাকা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী হতে পারেন। তবে এ ঘটনায় তার ভূমিকা ও বৃহত্তর কোনো নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা এখনো তদন্তাধীন।
মুম্বাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জুহুর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি খালি কার্তুজের খোসা এবং দুটি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত রেহানের ব্যবহার করা আগ্নেয়াস্ত্রে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর দুটি জীবন্ত কার্তুজ পড়ে যায়।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্ত যাত্রাপথে নিজের ফোন ফেলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। উদ্ধার করা ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
ফোনের কল রেকর্ড, ছবি, ভিডিও এবং যোগাযোগের অ্যাপ বিশ্লেষণ করে হামলার আগে অভিযুক্তরা কোন কোন এলাকায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং সম্ভাব্য নির্দেশদাতাদের কাছে কী তথ্য পাঠিয়েছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ফুটবল মাঠ ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, কিছু ফুটেজে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ বা রেইকি করার সম্ভাব্য চিত্র পাওয়া গেছে। হামলার আগে অন্য কেউ ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করেছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি টাইগার শ্রফের দৈনন্দিন চলাফেরা, প্রকাশ্য অনুষ্ঠান ও ফুটবল খেলার সময়সূচি সম্পর্কে কারা জানতেন, সেই তথ্যও সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। এসব তথ্য হামলার পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
তবে টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টার পেছনে কারা জড়িত, হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে এর প্রকৃত সম্পর্ক কতটা—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো মেলেনি। পুলিশের তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্য সৌদি আরবকে হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার জন্য রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ‘প্রতিরক্ষামূলক পাল্টা-বিমান অভিযান’ পরিচালনা করা হবে।
গত এক মাস ধরে হুতিরা সৌদি আরবের ওপর তাদের হামলা বৃদ্ধি করেছে। তারা তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে আসছে।
ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে আকাশপথে জ্বালানি সংগ্রহের সহায়তা প্রদান করছে এবং দেশটির সুরক্ষায় সহায়তার জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ব্রিটিশ কর্মী মোতায়েন করেছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরবের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলোকে ‘টাইফুন’ বিমানগুলো প্রতিহত করবে, তবে ইয়েমেনের ভেতরে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান চালাবে না।
হুতি-নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরে সৌদি হামলার প্রতিক্রিয়ায়, জুলাই মাসে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ এবং সৌদি আরবের ভেতরে অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এই সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সিএনএন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরের শার্শায় চাঁদার দাবিতে বিপুল বিশ্বাস নামের এক যুবকের মাথায় প্রকাশ্যে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শরিফুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে, যখন ভুক্তভোগী বিপুল বিশ্বাস শার্শা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে, একই দিন বিকেলে শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের শাড়াতলা বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শরিফুল শার্শা উপজেলার ফুলসাড়া গ্রামের ইউসুফের ছেলে। অপরদিকে, ভুক্তভোগী বিপুল বিশ্বাস ডিহি ইউনিয়নের বিশ্বাসবাড়ি এলাকার সামসুর বিশ্বাসের ছেলে।
বিপুল বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন যে, সম্প্রতি একটি সালিশের প্রেক্ষাপটে কথাকাটাকাটির জেরে শরিফুল তাকে মারধর করেন। তিনি আরও জানান, শরিফুল তার এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
বিপুল বিশ্বাসের অভিযোগ অনুযায়ী, শাড়াতলা বাজারে শত শত মানুষের সামনে শরিফুল তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শরিফুল শাওন নামের এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছি।’
এদিকে, অভিযুক্ত শরিফুল আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এরিক টেন হ্যাগ আবারও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে বিরোধের পুরোনো ঘটনা সামনে এনেছেন। ডাচ কোচের অভিযোগ, পর্তুগিজ তারকা অনুশীলনে ফাঁকি দিতেন, যথাযথভাবে দৌড়াতেন না এবং সতীর্থদের শক্তি বাঁচিয়ে রাখার পরামর্শ দিতেন।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেন হ্যাগ জানান, রোনালদোকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, ‘সে দলকে হতাশ করেছে, আমাকেও হতাশ করেছে। কারণ আমরা তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছিলাম।’
২০২২ সালে ইউনাইটেডের দায়িত্ব গ্রহণের পর টেন হ্যাগের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে একই বছরের শেষের দিকে। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ার পর ক্লাব ছাড়েন।
টেন হ্যাগের দাবি, রোনালদো অনুশীলনের বেশ কিছু সেশনে অংশ নেননি। ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর শাস্তিমূলক দৌড়ের অনুশীলনে তিনি তিন ল্যাপের বদলে দুটি সম্পন্ন করেছিলেন।
রোনালদোর প্রেসিং না করার বিষয়টি উল্লেখ করে টেন হ্যাগ বলেন, ‘আমি তাকে এ বিষয়ে সরাসরি বলেছি। অনেকবার বলেছি, “রোনি, তোমাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে সবাই তোমার জন্য কাজ করতে চায়। কিন্তু তুমি যদি নিজে বক্সে পৌঁছাতে না পারো, তাহলে গোল করবে কীভাবে?”’
টেন হ্যাগের মতে, দলের সেরা খেলোয়াড় হলেও দলীয় দায়িত্ব পালন করা জরুরি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রোনালদো সতীর্থদের অনুশীলনে শক্তি বাঁচিয়ে রাখার পরামর্শ দিতেন। তার ভাষায়, ‘কারও কারও কাছে ফুটবল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নয়। আর ইউনাইটেডও কয়েকজনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল না।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পূজার ছুটির সময় ভায়রার বাড়িতে রাজশাহী যাওয়ার পথে নাটোরের বনপাড়ায় বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার এক পরিবারের বাবা ও মেয়ের মৃত্যু ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় নিহতের স্ত্রী ও ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৪৮) এবং তার মেয়ে তাসমিয়া বেগম (৮)। শহিদুল ইসলাম মাগুরায় ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন: তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার, যিনি পটুয়াখালীর সুবিদখালী পূবালী ব্যাংকে চাকরি করেন, এবং তাদের ১২ বছর বয়সী ছেলে লাবিব।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী থেকে বাসে ওঠেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার ও তাদের দুই সন্তান। চাকরির কারণে শহিদুল ইসলাম মাগুরায় অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে থেকে বাসে ওঠেন। নাটোরের বনপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর, বাসটি একটি বালুবাহী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলাম এবং তার ৮ বছরের মেয়ে তাসমিয়া বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনা আক্তার এবং তাদের ছেলে লাবিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার জানান, ‘গতকাল বিকেল চারটার দিকে পটুয়াখালী থেকে আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তান রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আমার ভাই মাগুরায় চাকরি করায় সেখান থেকে বাসে ওঠে। বনপাড়ায় গিয়ে বাসটি বালুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। ঘটনাস্থলেই আমার ভাই ও তার ছোট মেয়ে মারা যায়। ভাইয়ের স্ত্রী ও বড় ছেলে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু জাফর বলেন, শহিদুল চাকরির কারণে জেলার বাইরে থাকতেন। ছুটি পেলেই পটুয়াখালীতে পরিবারের কাছে আসতেন। আজকের দুর্ঘটনায় তাদের পুরো পরিবার যেন শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। শহিদুল ও তার মেয়ে নিহত হয়েছে, আর বাকি দুজনও মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
বাবা-মেয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মির্জাগঞ্জের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। একই পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা নির্বাক হয়ে পড়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ