প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পূজার ছুটির সময় ভায়রার বাড়িতে রাজশাহী যাওয়ার পথে নাটোরের বনপাড়ায় বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার এক পরিবারের বাবা ও মেয়ের মৃত্যু ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় নিহতের স্ত্রী ও ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৪৮) এবং তার মেয়ে তাসমিয়া বেগম (৮)। শহিদুল ইসলাম মাগুরায় ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন: তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার, যিনি পটুয়াখালীর সুবিদখালী পূবালী ব্যাংকে চাকরি করেন, এবং তাদের ১২ বছর বয়সী ছেলে লাবিব।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী থেকে বাসে ওঠেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার ও তাদের দুই সন্তান। চাকরির কারণে শহিদুল ইসলাম মাগুরায় অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে থেকে বাসে ওঠেন। নাটোরের বনপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর, বাসটি একটি বালুবাহী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলাম এবং তার ৮ বছরের মেয়ে তাসমিয়া বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনা আক্তার এবং তাদের ছেলে লাবিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার জানান, ‘গতকাল বিকেল চারটার দিকে পটুয়াখালী থেকে আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তান রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আমার ভাই মাগুরায় চাকরি করায় সেখান থেকে বাসে ওঠে। বনপাড়ায় গিয়ে বাসটি বালুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। ঘটনাস্থলেই আমার ভাই ও তার ছোট মেয়ে মারা যায়। ভাইয়ের স্ত্রী ও বড় ছেলে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু জাফর বলেন, শহিদুল চাকরির কারণে জেলার বাইরে থাকতেন। ছুটি পেলেই পটুয়াখালীতে পরিবারের কাছে আসতেন। আজকের দুর্ঘটনায় তাদের পুরো পরিবার যেন শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। শহিদুল ও তার মেয়ে নিহত হয়েছে, আর বাকি দুজনও মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
বাবা-মেয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মির্জাগঞ্জের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। একই পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা নির্বাক হয়ে পড়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন