মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৩ পি.এম
যুক্তরাজ্য সৌদি আরবকে হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার জন্য রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ‘প্রতিরক্ষামূলক পাল্টা-বিমান অভিযান’ পরিচালনা করা হবে।
গত এক মাস ধরে হুতিরা সৌদি আরবের ওপর তাদের হামলা বৃদ্ধি করেছে। তারা তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে আসছে।
ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে আকাশপথে জ্বালানি সংগ্রহের সহায়তা প্রদান করছে এবং দেশটির সুরক্ষায় সহায়তার জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ব্রিটিশ কর্মী মোতায়েন করেছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরবের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলোকে ‘টাইফুন’ বিমানগুলো প্রতিহত করবে, তবে ইয়েমেনের ভেতরে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান চালাবে না।
হুতি-নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরে সৌদি হামলার প্রতিক্রিয়ায়, জুলাই মাসে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ এবং সৌদি আরবের ভেতরে অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এই সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সিএনএন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরের শার্শায় চাঁদার দাবিতে বিপুল বিশ্বাস নামের এক যুবকের মাথায় প্রকাশ্যে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শরিফুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে, যখন ভুক্তভোগী বিপুল বিশ্বাস শার্শা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে, একই দিন বিকেলে শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের শাড়াতলা বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শরিফুল শার্শা উপজেলার ফুলসাড়া গ্রামের ইউসুফের ছেলে। অপরদিকে, ভুক্তভোগী বিপুল বিশ্বাস ডিহি ইউনিয়নের বিশ্বাসবাড়ি এলাকার সামসুর বিশ্বাসের ছেলে।
বিপুল বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন যে, সম্প্রতি একটি সালিশের প্রেক্ষাপটে কথাকাটাকাটির জেরে শরিফুল তাকে মারধর করেন। তিনি আরও জানান, শরিফুল তার এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
বিপুল বিশ্বাসের অভিযোগ অনুযায়ী, শাড়াতলা বাজারে শত শত মানুষের সামনে শরিফুল তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শরিফুল শাওন নামের এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছি।’
এদিকে, অভিযুক্ত শরিফুল আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এরিক টেন হ্যাগ আবারও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে বিরোধের পুরোনো ঘটনা সামনে এনেছেন। ডাচ কোচের অভিযোগ, পর্তুগিজ তারকা অনুশীলনে ফাঁকি দিতেন, যথাযথভাবে দৌড়াতেন না এবং সতীর্থদের শক্তি বাঁচিয়ে রাখার পরামর্শ দিতেন।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেন হ্যাগ জানান, রোনালদোকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, ‘সে দলকে হতাশ করেছে, আমাকেও হতাশ করেছে। কারণ আমরা তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছিলাম।’
২০২২ সালে ইউনাইটেডের দায়িত্ব গ্রহণের পর টেন হ্যাগের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে একই বছরের শেষের দিকে। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ার পর ক্লাব ছাড়েন।
টেন হ্যাগের দাবি, রোনালদো অনুশীলনের বেশ কিছু সেশনে অংশ নেননি। ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর শাস্তিমূলক দৌড়ের অনুশীলনে তিনি তিন ল্যাপের বদলে দুটি সম্পন্ন করেছিলেন।
রোনালদোর প্রেসিং না করার বিষয়টি উল্লেখ করে টেন হ্যাগ বলেন, ‘আমি তাকে এ বিষয়ে সরাসরি বলেছি। অনেকবার বলেছি, “রোনি, তোমাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে সবাই তোমার জন্য কাজ করতে চায়। কিন্তু তুমি যদি নিজে বক্সে পৌঁছাতে না পারো, তাহলে গোল করবে কীভাবে?”’
টেন হ্যাগের মতে, দলের সেরা খেলোয়াড় হলেও দলীয় দায়িত্ব পালন করা জরুরি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রোনালদো সতীর্থদের অনুশীলনে শক্তি বাঁচিয়ে রাখার পরামর্শ দিতেন। তার ভাষায়, ‘কারও কারও কাছে ফুটবল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নয়। আর ইউনাইটেডও কয়েকজনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল না।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পূজার ছুটির সময় ভায়রার বাড়িতে রাজশাহী যাওয়ার পথে নাটোরের বনপাড়ায় বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার এক পরিবারের বাবা ও মেয়ের মৃত্যু ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় নিহতের স্ত্রী ও ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৪৮) এবং তার মেয়ে তাসমিয়া বেগম (৮)। শহিদুল ইসলাম মাগুরায় ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন: তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার, যিনি পটুয়াখালীর সুবিদখালী পূবালী ব্যাংকে চাকরি করেন, এবং তাদের ১২ বছর বয়সী ছেলে লাবিব।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী থেকে বাসে ওঠেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার ও তাদের দুই সন্তান। চাকরির কারণে শহিদুল ইসলাম মাগুরায় অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে থেকে বাসে ওঠেন। নাটোরের বনপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর, বাসটি একটি বালুবাহী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলাম এবং তার ৮ বছরের মেয়ে তাসমিয়া বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনা আক্তার এবং তাদের ছেলে লাবিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার জানান, ‘গতকাল বিকেল চারটার দিকে পটুয়াখালী থেকে আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তান রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আমার ভাই মাগুরায় চাকরি করায় সেখান থেকে বাসে ওঠে। বনপাড়ায় গিয়ে বাসটি বালুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। ঘটনাস্থলেই আমার ভাই ও তার ছোট মেয়ে মারা যায়। ভাইয়ের স্ত্রী ও বড় ছেলে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু জাফর বলেন, শহিদুল চাকরির কারণে জেলার বাইরে থাকতেন। ছুটি পেলেই পটুয়াখালীতে পরিবারের কাছে আসতেন। আজকের দুর্ঘটনায় তাদের পুরো পরিবার যেন শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। শহিদুল ও তার মেয়ে নিহত হয়েছে, আর বাকি দুজনও মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
বাবা-মেয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মির্জাগঞ্জের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। একই পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা নির্বাক হয়ে পড়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রিয়াদের, সৌদি আরবের রাজধানীতে, জোড়া বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিক তথ্য প্রদান করেছেন। এর আগে, দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে একটি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিবিসি জানাচ্ছে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকায়, রাজধানী রিয়াদের বাসিন্দাদের বিমান হামলার হুমকি সম্পর্কে ফোনে সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি, এমনটি বিবিসি ফার্সির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে আসার পথে সৌদি আরব সেটিকে প্রতিহত করে ধ্বংস করে দিয়েছে।
সোমবার সৌদি কর্মকর্তারা জানান, হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার পর তারা ‘ডাভোস ইন দ্য ডেজার্ট’ সম্মেলনে সশরীরে অংশগ্রহণ বাতিল করেছেন।
অন্যদিকে, ইয়েমেনেও লড়াই তীব্র হয়েছে। সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে হুতিদের হামলায় ৫০ জনের বেশি সেনা নিহত এবং আরও ২০০ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ ইয়েমেনে সদ্য নিয়োগ পাওয়া সেনাদের লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ