প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনার নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার পর অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে গিয়ে তাদের কথিত নির্দেশদাতাদের কাছে ‘অপারেশন সম্পন্ন’ বলে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
পুলিশের ধারণা, হামলার পরিকল্পনা পূর্ব থেকেই করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারাগারে অবস্থানরত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেটওয়ার্কের সম্পর্ক থাকতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল ম্যাচ খেলে ফেরার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ির দিকে একাধিক গুলি চালানো হয়েছে।
এই ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন বিহারের বেগুসরাইয়ের ২২ বছর বয়সী হৃতিক ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী রেহান ও ফুল সিং।
অভিযুক্তদের সোমবার রাজস্থানের কোটায় গ্রেফতার করা হয় এবং পরে তাদের সড়কপথে মুম্বাইয়ে নিয়ে আসা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে মুম্বাই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, গুলিবর্ষণের আগে ও পরে অভিযুক্তরা কথিত নির্দেশদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। হামলার পূর্বে টাইগার শ্রফের ফুটবল খেলার একটি ছোট ভিডিও তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। ভিডিও পাওয়ার পর হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, হামলার পর অভিযুক্তদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন কথিত নির্দেশদাতা অনিল পণ্ডিত ও তার সহযোগীরা। পরে সংবাদমাধ্যমে গুলিবর্ষণের খবর প্রকাশিত হলে তারা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে অভিযোগ। এরপর আগে থেকে তৈরি করা একটি ফেসবুক পোস্ট ও অডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হামলা চালানোর জন্য তিন অভিযুক্তকে সম্মিলিতভাবে ৫০ হাজার রুপি অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে আরও অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, রেহান প্রায় দুই মাস আগে পাঞ্জাবের অমৃতসরে এক ব্যবসায়ীকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার পরই অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের দাবি, টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে হামলার জন্য রেহানকে অগ্রিম ৩৫ হাজার রুপি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল।
রেহান আবার হৃতিককে হামলায় অংশ নেওয়ার বিনিময়ে অর্থ ও বিদেশে চাকরির প্রলোভন দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এসব তথ্য যাচাই করছে পুলিশ।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে এক ব্যক্তি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি নিজেকে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দিয়ে হারমান সান্ধুর সঙ্গে হামলার দায় নেওয়ার কথা বলেন।
অডিওতে সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা, বক্তার পরিচয় এবং কথিত গ্যাংয়ের সঙ্গে হামলার প্রকৃত যোগসূত্র তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের ধারণা, অনিল পণ্ডিত কারাগারে থাকা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী হতে পারেন। তবে এ ঘটনায় তার ভূমিকা ও বৃহত্তর কোনো নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা এখনো তদন্তাধীন।
মুম্বাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জুহুর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি খালি কার্তুজের খোসা এবং দুটি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত রেহানের ব্যবহার করা আগ্নেয়াস্ত্রে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর দুটি জীবন্ত কার্তুজ পড়ে যায়।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্ত যাত্রাপথে নিজের ফোন ফেলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। উদ্ধার করা ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
ফোনের কল রেকর্ড, ছবি, ভিডিও এবং যোগাযোগের অ্যাপ বিশ্লেষণ করে হামলার আগে অভিযুক্তরা কোন কোন এলাকায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং সম্ভাব্য নির্দেশদাতাদের কাছে কী তথ্য পাঠিয়েছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ফুটবল মাঠ ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, কিছু ফুটেজে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ বা রেইকি করার সম্ভাব্য চিত্র পাওয়া গেছে। হামলার আগে অন্য কেউ ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করেছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি টাইগার শ্রফের দৈনন্দিন চলাফেরা, প্রকাশ্য অনুষ্ঠান ও ফুটবল খেলার সময়সূচি সম্পর্কে কারা জানতেন, সেই তথ্যও সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। এসব তথ্য হামলার পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
তবে টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টার পেছনে কারা জড়িত, হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে এর প্রকৃত সম্পর্ক কতটা—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো মেলেনি। পুলিশের তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন