ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যশোরের শার্শায় যুবকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগ


যশোরের শার্শায় যুবকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগ

যশোরের শার্শায় চাঁদার দাবিতে বিপুল বিশ্বাস নামের এক যুবকের মাথায় প্রকাশ্যে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শরিফুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে, যখন ভুক্তভোগী বিপুল বিশ্বাস শার্শা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে, একই দিন বিকেলে শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের শাড়াতলা বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শরিফুল শার্শা উপজেলার ফুলসাড়া গ্রামের ইউসুফের ছেলে। অপরদিকে, ভুক্তভোগী বিপুল বিশ্বাস ডিহি ইউনিয়নের বিশ্বাসবাড়ি এলাকার সামসুর বিশ্বাসের ছেলে।

আরও পড়ুন: রামপুরায় স্লুইস গেটের কাছে ৭৪ বছর বয়সী বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

বিপুল বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন যে, সম্প্রতি একটি সালিশের প্রেক্ষাপটে কথাকাটাকাটির জেরে শরিফুল তাকে মারধর করেন। তিনি আরও জানান, শরিফুল তার এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

বিপুল বিশ্বাসের অভিযোগ অনুযায়ী, শাড়াতলা বাজারে শত শত মানুষের সামনে শরিফুল তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শরিফুল শাওন নামের এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তিনি দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছি।’

এদিকে, অভিযুক্ত শরিফুল আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গোৎসবে ১৪৪ মণ্ডপে ৩৫০০ কোস্ট গার্ডের নিরাপত্তা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদো অনুশীলন না করার অভিযোগ তুললেন টেন হ্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


রোনালদো অনুশীলন না করার অভিযোগ তুললেন টেন হ্যাগ

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এরিক টেন হ্যাগ আবারও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে বিরোধের পুরোনো ঘটনা সামনে এনেছেন। ডাচ কোচের অভিযোগ, পর্তুগিজ তারকা অনুশীলনে ফাঁকি দিতেন, যথাযথভাবে দৌড়াতেন না এবং সতীর্থদের শক্তি বাঁচিয়ে রাখার পরামর্শ দিতেন।

‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেন হ্যাগ জানান, রোনালদোকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, ‘সে দলকে হতাশ করেছে, আমাকেও হতাশ করেছে। কারণ আমরা তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছিলাম।’

২০২২ সালে ইউনাইটেডের দায়িত্ব গ্রহণের পর টেন হ্যাগের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে একই বছরের শেষের দিকে। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড একাদশে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ার পর ক্লাব ছাড়েন।

টেন হ্যাগের দাবি, রোনালদো অনুশীলনের বেশ কিছু সেশনে অংশ নেননি। ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর শাস্তিমূলক দৌড়ের অনুশীলনে তিনি তিন ল্যাপের বদলে দুটি সম্পন্ন করেছিলেন।

রোনালদোর প্রেসিং না করার বিষয়টি উল্লেখ করে টেন হ্যাগ বলেন, ‘আমি তাকে এ বিষয়ে সরাসরি বলেছি। অনেকবার বলেছি, “রোনি, তোমাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে সবাই তোমার জন্য কাজ করতে চায়। কিন্তু তুমি যদি নিজে বক্সে পৌঁছাতে না পারো, তাহলে গোল করবে কীভাবে?”’

টেন হ্যাগের মতে, দলের সেরা খেলোয়াড় হলেও দলীয় দায়িত্ব পালন করা জরুরি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রোনালদো সতীর্থদের অনুশীলনে শক্তি বাঁচিয়ে রাখার পরামর্শ দিতেন। তার ভাষায়, ‘কারও কারও কাছে ফুটবল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নয়। আর ইউনাইটেডও কয়েকজনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল না।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামী-মেয়েকে হারিয়ে হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


স্বামী-মেয়েকে হারিয়ে হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মা

পূজার ছুটির সময় ভায়রার বাড়িতে রাজশাহী যাওয়ার পথে নাটোরের বনপাড়ায় বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার এক পরিবারের বাবা ও মেয়ের মৃত্যু ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় নিহতের স্ত্রী ও ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৪৮) এবং তার মেয়ে তাসমিয়া বেগম (৮)। শহিদুল ইসলাম মাগুরায় ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন: তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার, যিনি পটুয়াখালীর সুবিদখালী পূবালী ব্যাংকে চাকরি করেন, এবং তাদের ১২ বছর বয়সী ছেলে লাবিব।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী থেকে বাসে ওঠেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার ও তাদের দুই সন্তান। চাকরির কারণে শহিদুল ইসলাম মাগুরায় অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে থেকে বাসে ওঠেন। নাটোরের বনপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর, বাসটি একটি বালুবাহী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলাম এবং তার ৮ বছরের মেয়ে তাসমিয়া বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনা আক্তার এবং তাদের ছেলে লাবিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার জানান, ‘গতকাল বিকেল চারটার দিকে পটুয়াখালী থেকে আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তান রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আমার ভাই মাগুরায় চাকরি করায় সেখান থেকে বাসে ওঠে। বনপাড়ায় গিয়ে বাসটি বালুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। ঘটনাস্থলেই আমার ভাই ও তার ছোট মেয়ে মারা যায়। ভাইয়ের স্ত্রী ও বড় ছেলে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু জাফর বলেন, শহিদুল চাকরির কারণে জেলার বাইরে থাকতেন। ছুটি পেলেই পটুয়াখালীতে পরিবারের কাছে আসতেন। আজকের দুর্ঘটনায় তাদের পুরো পরিবার যেন শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। শহিদুল ও তার মেয়ে নিহত হয়েছে, আর বাকি দুজনও মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।

বাবা-মেয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মির্জাগঞ্জের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। একই পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা নির্বাক হয়ে পড়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে বিস্ফোরণের শব্দ, বাসিন্দাদের ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৫ পি.এম


সৌদিতে বিস্ফোরণের শব্দ, বাসিন্দাদের ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো

রিয়াদের, সৌদি আরবের রাজধানীতে, জোড়া বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিক তথ্য প্রদান করেছেন। এর আগে, দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে একটি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকায়, রাজধানী রিয়াদের বাসিন্দাদের বিমান হামলার হুমকি সম্পর্কে ফোনে সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি, এমনটি বিবিসি ফার্সির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে আসার পথে সৌদি আরব সেটিকে প্রতিহত করে ধ্বংস করে দিয়েছে।

সোমবার সৌদি কর্মকর্তারা জানান, হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার পর তারা ‘ডাভোস ইন দ্য ডেজার্ট’ সম্মেলনে সশরীরে অংশগ্রহণ বাতিল করেছেন।

অন্যদিকে, ইয়েমেনেও লড়াই তীব্র হয়েছে। সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে হুতিদের হামলায় ৫০ জনের বেশি সেনা নিহত এবং আরও ২০০ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ ইয়েমেনে সদ্য নিয়োগ পাওয়া সেনাদের লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুন ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ পি.এম


কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুন ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু এবং এক নারী পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে গভীর রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টের কর্মীরা নিজেদের পোষা কুকুর ও বিড়াল নিয়ে নিরাপদে সরে গেলেও, ভেতরে থাকা পর্যটকদের কেন সতর্ক বা উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়নি, তা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সামনে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উখিয়ার মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ বিকট বিস্ফোরণের পর এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধার তৎপরতায় ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করেন বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। ওই রিসোর্ট থেকে একে একে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আগুনে আহত সাতজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বজনদের পাশাপাশি মরদেহগুলো থেকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং গঠন করা হয়েছে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি।

কুকুর-বিড়াল নিয়ে কর্মীদের পলায়ন

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুন লাগার পরপরই সেখানে অবস্থানরত কিছু পর্যটক হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে আসেন। এর ঠিক পরপরই রিসোর্টের অন্তত পাঁচজন কর্মীকে দুটো কুকুর ও চারটি বিড়াল সঙ্গে নিয়ে বের হয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখা যায় স্থানীয়দের দ্বারা।

জানা গেছে, রিসোর্টটির মালিক তানভীর আহমদ ও নিয়াজ মোরশেদ নামের দুই ব্যক্তি। এর মধ্যে মালিক তানভীরের পোষা দুটো কুকুর ও চারটি বিড়াল রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় তার নিজস্ব কক্ষে রাখা হতো। আগুন লাগার পর কর্মচারীরা দ্রুত দোতলায় গিয়ে প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে নিরাপদে সটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মচারীদের প্রাণীগুলো নিয়ে নিরাপদে বের হতে দেখা গেলেও, কক্ষে আটকে পড়া পর্যটকদের সজাগ করা কিংবা উদ্ধারের কোনো উদ্যোগ তাদের ছিল না। ফলে দ্রুতই আগুনের তীব্রতা বাড়লে ভেতরে থাকা ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

ঘটনাস্থলের এক স্থানীয় যুবক জানান, রিসোর্টের মালিককে প্রায়ই এসব পোষা প্রাণী সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। অগ্নিকাণ্ডের পর কর্মচারীরা প্রাণীগুলো রক্ষায় যতটা তৎপর ছিলেন, ভেতরে আটকে পড়া পর্যটকদের বাঁচাতে তাদের কোনো ভূমিকাই দেখা যায়নি। আগুনের তীব্রতা বাড়লে কয়েকজন ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে বাঁচলেও অন্যরা ভেতরেই আটকা পড়েন।

এ ঘটনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রোববার (১৮ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা, রিসোর্টে অবস্থানকারী জীবিত ও আহত ব্যক্তি এবং মৃতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছে।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগুনের সূত্রপাত এবং রিসোর্টের কর্মীদের সবাইকে নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত কমিটির নজরে এসেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান এডিএম তাসনীম জাহান জানান, অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির কী ধরনের অনিয়ম ছিল এবং ওই সময় কর্মীদের কী গাফিলতি ছিল, সে সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয় চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে।

১০ মরদেহ শনাক্ত হলেও নিখোঁজ শিক্ষিকা

অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর স্বজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রিসোর্টে অবস্থানকারী পর্যটকদের মধ্যে নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন মোট ১১ জন। উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়া কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, অভিযানের শুরুতে দুটো কক্ষ থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে অন্য একটি কক্ষ থেকে দুই শিশুসহ আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও স্বজনদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে যে প্রথমে উদ্ধার হওয়া ছয়জনের মরদেহ একই সঙ্গে ভ্রমণে আসা নিকটাত্মীয়দের। তারা হলেন ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা মো. আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), নাফিজের বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩) এবং তার পাঁচ বছর বয়সি ভাগনে ফায়িজান আহম্মেদ।

পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুসহ চারজনের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে যশোরের নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই সন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩) হিসেবে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উদ্ধার হওয়া ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় তালিকার বাকি একজন অর্থাৎ ঢাকার সাভারের ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে প্রশাসন। নাসরিন আক্তার ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বাদল হোসেনের স্ত্রী। তার অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান এডিএম তাসনীম জাহান জানান, নিখোঁজ নারী অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন নাকি বাইরে ছিলেন, তা নিশ্চিত হতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও তদন্তকারী দল কাজ করছে। নিখোঁজের মোবাইল ফোন নম্বরের নেটওয়ার্ক লোকেশন ও কল ডেটাসহ অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

নিখোঁজ মুক্তার স্বামী বাদল হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রিসোর্টটিতে ফয়সালের স্ত্রীসহ তিন বান্ধবী বেড়াতে গিয়ে উঠেছিলেন। সকালে দুই বান্ধবী কক্ষ থেকে কিছুটা আগেই বাইরে বের হয়ে আসেন। তবে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার কক্ষের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পর তিনি ভেতরে আটকা পড়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

ম্যানেজার গ্রেফতার, তদন্তে পুলিশ

ঘটনার সার্বিক বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, রিসোর্টের মালিকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, তদন্তের স্বার্থে সুমনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

নিখোঁজ শিক্ষিকার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় রিসোর্টটিতে কয়েক দফা তল্লাশি চালানো হলেও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে। তিনি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছেন নাকি জীবিত অবস্থায় অন্য কোথাও আছেন, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তা জানানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%