মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫১ পি.এম
মুক্তির পূর্বেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে দক্ষিণী তারকা আল্লু অর্জুন এবং নির্মাতা অ্যাটলির প্রত্যাশিত সিনেমা ‘রাকা’। সিনেমাটি এখনও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি, তবে প্রযুক্তির নতুন ব্যবহারের মাধ্যমে এটি বিশ্বমঞ্চে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ‘রাকা’র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান পিকচার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সিনেমাটি ‘মোস্ট পিপল মোশন-ক্যাপচারড ইন রিয়েল-টাইম’ বিভাগে নতুন গিনেস রেকর্ড গড়েছে।
এই রেকর্ড গড়ার পেছনে রয়েছে সিনেমাটির বিশেষ প্রযুক্তিগত আয়োজন। ‘রাকা’র জন্য একসঙ্গে ৩৭ জন পারফর্মারের রিয়েল-টাইম মোশন ক্যাপচার করা হয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির এই অভিনব প্রয়োগের স্বীকৃতি পেয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
সান পিকচার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অর্জন ভারতীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। রেকর্ডের স্বীকৃতি হিসেবে আল্লু অর্জুন এবং অ্যাটলির হাতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সনদও প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই বিশ্বরেকর্ডের ঘোষণা আসে অ্যাটলির জন্মদিনেই। পরিচালককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সাদা-কালো ছবি প্রকাশ করেন আল্লু অর্জুন। ছবিতে দুজনকেই হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়।
অ্যাটলির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আল্লু অর্জুন বলেন, এমন দূরদর্শী ও দক্ষ পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি ভবিষ্যতে তার সঙ্গে আরও ‘জাদু’ তৈরির অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান।
এর আগে আল্লু অর্জুনের ৪৪তম জন্মদিনে প্রকাশ করা হয়েছিল ‘রাকা’র প্রথম ঝলক। সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবতারে দেখা যায় অভিনেতাকে। টাক মাথা, রুক্ষ চেহারা এবং মুখের একাংশে নেকড়ের থাবার মতো নকশা সব মিলিয়ে তার লুকে ফুটে ওঠে আদিম ও যোদ্ধাসুলভ আবহ।
সিনেমাটির ঘোষণার সময় নির্মাতারা জানিয়েছিলেন, ‘রাকা’র ভিএফএক্স ও মোশন ক্যাপচারের কাজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের যুক্ত করা হয়েছে। সিনেমাটির ভিএফএক্স দলের সঙ্গে আছেন ‘আয়রন ম্যান ২’ এবং ‘ট্রান্সফরমার্স: রাইজ অব দ্য বিস্টস’-এর মতো সিনেমায় কাজ করা ভিএফএক্স সুপারভাইজার জেমস ম্যাডিগান। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আরও একাধিক প্রযুক্তিবিদ এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একটি ফোনকল কখনও কখনও আতঙ্কের মুহূর্তকে স্বস্তিতে পরিণত করতে পারে। সংকটের সময় এটি নিশ্চিন্ত নির্ভরতা প্রদান করে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এমন দুটি ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ দুটি পরিবারের জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করেছে। একটি ঘটনায় চলন্ত লঞ্চে প্রসববেদনায় কাতর এক গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার করা হয়। অন্য ঘটনায় দুর্ঘটনাক্রমে ট্রেনে থেকে যাওয়া চার বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এই দুটি ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, টোল-ফ্রি জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ একটি ফোনকলের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্ধারকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব।
৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবার গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার সাত্তার এ দুটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকে এবং পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন জরুরি সহায়তার সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ করিয়ে দেয়।
চলন্ত লঞ্চে প্রসববেদনায় কাতর নারী উদ্ধার
শনিবার রাতে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া কালীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চে এক গর্ভবতী নারী তীব্র প্রসববেদনায় আক্রান্ত হন। এ সময় এক যাত্রী ৯৯৯-এ ফোন করেন।
ফোনকারী জানান, ওই নারী ব্যথায় কাতর হয়ে কাঁদছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে নারায়ণগঞ্জের কোস্ট গার্ড কন্ট্রোল রুম এবং নারায়ণগঞ্জ জোনের নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে।
৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল করুণা সরকার কলটি গ্রহণ করেন। এরপর ৯৯৯-এর ডিসপ্যাচার এএসআই মাসুম বিল্লাহ উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করেন।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের পাগলা স্টেশন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি উদ্ধারকারী দল স্পিডবোট নিয়ে চলন্ত লঞ্চটির কাছে পৌঁছে যায়।
উদ্ধারকারী দল অসুস্থ নারীকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার সদরঘাটে নিয়ে আসে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কাছাকাছি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে, সম্প্রতি ৯৯৯-এর সহায়তায় ভোলা-ঢাকাগামী একটি চলন্ত লঞ্চ থেকে শ্বাসকষ্টে গুরুতর অসুস্থ সাত মাস বয়সী এক শিশুকেও কোস্ট গার্ড সদস্যরা উদ্ধার করেছিলেন।
চলন্ত ট্রেনে ফেলে যাওয়া শিশু উদ্ধার
শনিবার দুপুরে আরেকটি জরুরি ফোনকলের মাধ্যমে চলন্ত ট্রেনে দুর্ঘটনাক্রমে থেকে যাওয়া তিন থেকে চার বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে উদ্ধার করা হয়।
নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে থাকা এক যাত্রী ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, তিনি একটি ট্রেনে শিশুটিকে দেখতে পেয়েছেন। তার ধারণা ছিল, শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে নেমে গেছেন।
৯৯৯-এ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির মা মেয়েকে নিয়ে সিলেটের কুলাউড়া থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে কালনী এক্সপ্রেসে যাত্রা করছিলেন।
ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌঁছালে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে মা তার লাগেজ নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যান। কিন্তু তিনি মেয়েকে ট্রেন থেকে নামাতে পারেননি। পরে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেলে শিশুটি ট্রেনেই থেকে যায়।
৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে রেলওয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমকে বিষয়টি জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে বলে।
৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল মিতু ফোনকলটি গ্রহণ করেন। পরে ৯৯৯-এর ডিসপ্যাচার এএসআই তরুণ কুমার আচার্য উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করেন।
ট্রেনটি নরসিংদীতে পৌঁছালে নরসিংদী রেলওয়ে থানার একটি দল শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা নরসিংদী রেলওয়ে থানায় পৌঁছালে নিরাপদে শিশুটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কুমিল্লার ডা. সৈয়দা ফারজানা আফরিন জানান, তার বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কুমিল্লা নেওয়ার পথে বিকল হয়ে যায়। এ অবস্থায় তারা কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। সেখানে উপস্থিত একজন ৯৯৯-এ ফোন করেন। এরপর ১৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে অপর একটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে যায়। তখন পিতা হারানোর শোকের মাঝেও বিড়ম্বনা থেকে মুক্তিতে তারা স্বস্তি পান।
৯৯৯-এর বিশেষত্ব
এ ধরনের ঘটনা ৯৯৯ জরুরি সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। জরুরি অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে কোন সংস্থা ঘটনাস্থলে গিয়ে সহায়তা করবে, তা কলকারীকে জানতেই হবে এমন নয়। জরুরি পরিস্থিতির তথ্য পাওয়ার পর ৯৯৯ সংশ্লিষ্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, রেলওয়ে পুলিশসহ প্রয়োজনীয় উদ্ধারকারী সংস্থার কাছে তা পৌঁছে দিতে পারে।
সড়ক দুর্ঘটনা ও বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষকেও উদ্ধারে ৯৯৯ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এমনই একটি ঘটনায় ৯৯৯-এ পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বন্যার পানিতে আটকে পড়া ১৩ জনকে উদ্ধার করেন। এদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী ও কয়েকজন শিশুও ছিল।
এসব ঘটনা প্রমাণ করে, সংকটের মুহূর্তে কোনো ব্যক্তি নিজে পুলিশ স্টেশন, হাসপাতাল বা উদ্ধারকারী সংস্থার কাছে পৌঁছাতে না পারলেও ৯৯৯ তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় উদ্ধারকারী সংস্থার মধ্যে প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগসূত্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে অপ্রয়োজনীয় ও ভুয়া ফোনকল জরুরি সেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং প্রকৃত বিপদে থাকা মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
চলন্ত লঞ্চে প্রসববেদনায় কাতর ওই গর্ভবতী নারী এবং ট্রেনে দুর্ঘটনাক্রমে থেকে যাওয়া ছোট্ট শিশুটির ক্ষেত্রে অবশ্য ফোনকল দুটি ছিল যথার্থ ও সময়োপযোগী। আর দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে দুটি সংকটময় পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় উদ্ধার ও স্বস্তির ঘটনায়। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৩৫ জন, লালবাগ থেকে ৩৪ জন, ওয়ারী থেকে ৬৩ জন, মতিঝিল থেকে ৭৪ জন, তেজগাঁও থেকে ১০২ জন, মিরপুর থেকে ৮০ জন, গুলশান থেকে ৩৫ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪১ জন, গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৯ জন এবং সিটিটিসির অভিযানে একজন রয়েছেন।
অভিযান চলাকালে উদ্ধার করা হয়েছে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ৩০ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৭ হাজার ৭০১টি ইয়াবা ও ৬২ বোতল এসকাফ সিরাপ (ফেনসিডিল)।
এছাড়া, উদ্ধার করা হয়েছে দুটি মোটরসাইকেল, দুটি সুইচগিয়ার, দুই ভিকটিম, নগদ ৬ হাজার ৬১০ টাকা, একটি ল্যাপটপ, ১৩টি মোবাইল ফোন, ১৮ হাজার ৭৭টি বাংলালিংক সিম, ১ হাজার ২৬২টি রবি সিম, ৭০০টি গ্রামীণফোন সিম, ১৫০টি এয়ারটেল সিম, এবং ৭৯৮টি সিমসহ ১০টি ভিওআইপি মেশিন।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য উত্তরাঞ্চলের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে উন্নীত করা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি লাভ করেছে। ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গবেষণা, ব্যবহারিক শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহা. রাশেদুল ইসলাম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের দ্বিতীয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। তার মেয়াদে তিনটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে, অধ্যাপক ড. মুহা. রাশেদুল ইসলাম শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষক রাজনীতিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য, এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, স্থানীয় সরকার বিভাগ গঠিত ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধবিষয়ক ৬ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটিতেও তিনি সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভর্তি ও ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও বিশ্ববিদ্যালয়টি দায়িত্ব পালন করেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষায় ৯৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল। ৯টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে উপস্থিতির দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় অবস্থানে ছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচের ফল প্রকাশ হয়েছে এবং অন্যান্য ব্যাচগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম ও ভর্তি কার্যক্রম চলছে।
শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায়ও আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গবেষণার জন্য সাউথইস্ট ব্যাংকের বিশেষ অনুদানও বিশ্ববিদ্যালয়টি পেয়েছে। আউটকাম বেসড এডুকেশন পদ্ধতির আলোকে শিক্ষার্থীদের কৃষির বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে এগ্রোনমি, মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও ফিল্ড ট্রিপের আয়োজন করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মহান স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে নবান্ন উৎসব ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার মতো সামাজিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পাসে মাদক ও র্যাগিং প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভাষা, বিতর্ক ও স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশে বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রম চালু হয়েছে। ল্যাংগুয়েজ ক্লাব শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে, ডিবেটিং ক্লাব যুক্তিভিত্তিক চিন্তা ও বিতর্কের সক্ষমতা তৈরিতে এবং স্কাউটস শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সেবার মানসিকতা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল মাঠে গোল ও অ্যাসিস্টের জন্য নিয়মিত আলোচনায় থাকেন লিওনেল মেসি। তবে মাঠের বাইরেও মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশংসিত হয়ে আসছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। সম্প্রতি শিশুদের জন্য ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে তিনি একটি বড় অঙ্কের অনুদান প্রদান করেছেন।
স্পেনের বার্সেলোনায় শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে একটি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে মেসির ‘মেসি ফাউন্ডেশন’ ২৬ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, অনুদান দিয়েছে বলে জানায় ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মার্কাতো’।
মেসির ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বার্সেলোনার সঙ্গে জড়িত। ২০২১ সালে ক্লাবটি ছাড়লেও, শহরটির সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও অটুট রয়েছে। এবার তিনি সেখানেই শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণে সহায়তা করেছেন।
ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘গোল’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, প্রস্তাবিত হাসপাতালটিতে বছরে প্রায় ৪০০ শিশুর ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব হবে। ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের জন্য একই ছাদের নিচে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খেলাধুলার বিভিন্ন উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করে আসছেন মেসি। তার এসব মানবিক কর্মকাণ্ড ‘মেসি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
এর আগে, শিশুদের লিউকেমিয়া গবেষণায় সহায়তা, মেসির জন্মস্থান আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান এবং মোজাম্বিকে শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণ কর্মসূচিতেও সহায়তা করেছে মেসির ফাউন্ডেশন।
ফুটবল মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডে মেসির এই ভূমিকা তার ভক্তদের কাছে নতুন করে প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ