মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫২ পি.এম
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য উত্তরাঞ্চলের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে উন্নীত করা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি লাভ করেছে। ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গবেষণা, ব্যবহারিক শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহা. রাশেদুল ইসলাম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের দ্বিতীয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। তার মেয়াদে তিনটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে, অধ্যাপক ড. মুহা. রাশেদুল ইসলাম শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষক রাজনীতিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য, এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, স্থানীয় সরকার বিভাগ গঠিত ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধবিষয়ক ৬ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটিতেও তিনি সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভর্তি ও ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও বিশ্ববিদ্যালয়টি দায়িত্ব পালন করেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষায় ৯৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল। ৯টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে উপস্থিতির দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় অবস্থানে ছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচের ফল প্রকাশ হয়েছে এবং অন্যান্য ব্যাচগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম ও ভর্তি কার্যক্রম চলছে।
শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায়ও আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গবেষণার জন্য সাউথইস্ট ব্যাংকের বিশেষ অনুদানও বিশ্ববিদ্যালয়টি পেয়েছে। আউটকাম বেসড এডুকেশন পদ্ধতির আলোকে শিক্ষার্থীদের কৃষির বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে এগ্রোনমি, মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও ফিল্ড ট্রিপের আয়োজন করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মহান স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে নবান্ন উৎসব ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার মতো সামাজিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পাসে মাদক ও র্যাগিং প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভাষা, বিতর্ক ও স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশে বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রম চালু হয়েছে। ল্যাংগুয়েজ ক্লাব শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে, ডিবেটিং ক্লাব যুক্তিভিত্তিক চিন্তা ও বিতর্কের সক্ষমতা তৈরিতে এবং স্কাউটস শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সেবার মানসিকতা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল মাঠে গোল ও অ্যাসিস্টের জন্য নিয়মিত আলোচনায় থাকেন লিওনেল মেসি। তবে মাঠের বাইরেও মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশংসিত হয়ে আসছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। সম্প্রতি শিশুদের জন্য ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে তিনি একটি বড় অঙ্কের অনুদান প্রদান করেছেন।
স্পেনের বার্সেলোনায় শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে একটি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে মেসির ‘মেসি ফাউন্ডেশন’ ২৬ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, অনুদান দিয়েছে বলে জানায় ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মার্কাতো’।
মেসির ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বার্সেলোনার সঙ্গে জড়িত। ২০২১ সালে ক্লাবটি ছাড়লেও, শহরটির সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও অটুট রয়েছে। এবার তিনি সেখানেই শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণে সহায়তা করেছেন।
ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘গোল’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, প্রস্তাবিত হাসপাতালটিতে বছরে প্রায় ৪০০ শিশুর ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব হবে। ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের জন্য একই ছাদের নিচে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খেলাধুলার বিভিন্ন উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করে আসছেন মেসি। তার এসব মানবিক কর্মকাণ্ড ‘মেসি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
এর আগে, শিশুদের লিউকেমিয়া গবেষণায় সহায়তা, মেসির জন্মস্থান আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান এবং মোজাম্বিকে শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণ কর্মসূচিতেও সহায়তা করেছে মেসির ফাউন্ডেশন।
ফুটবল মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডে মেসির এই ভূমিকা তার ভক্তদের কাছে নতুন করে প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাতে প্রতিদিনই কেনাকাটার জন্য কোথাও না কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে, কোনো মার্কেটে যাওয়ার পূর্বে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সম্পর্কে অবগত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, বিড়ম্বনায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তারিখে, নিচে উল্লেখিত মার্কেট, শপিংমল এবং এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ
বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালেব প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসিয়া, ধানমন্ডি হকার্স, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার, অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমন্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিংমল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কারওয়ান বাজার, ডিআইটি মার্কেট এবং অর্কিড প্লাজা।
যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ
কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরিপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা এবং লালমাটিয়া।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্যস্ত জীবনের প্রতিদিনের রুটিনে সব খেলা দেখা সম্ভব নয়। তাই আপনার সময় এবং পছন্দ অনুযায়ী কিছু খেলা নির্বাচন করা প্রয়োজন। লাইভ বা সরাসরি খেলা দেখার প্রতি আপনার আগ্রহ নিশ্চয়ই অন্যদের মতোই বেশি। খেলার সময়সূচী জানার জন্য খোঁজাখুঁজি করে সময় নষ্ট না করে এই শিডিউলটি দেখে নিন। এরপর ঠিক করুন কখন কোন খেলায় নজর দেবেন।
আজ সকালে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটের ব্রোঞ্জপদকের ম্যাচে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে। সন্ধ্যায় ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে।
এশিয়ান গেমস: নারী ক্রিকেট
বাংলাদেশ-পাকিস্তান (৩য় স্থান)
সকাল ৬টা, সনি স্পোর্টস ১
ভারত-শ্রীলঙ্কা (ফাইনাল)
বেলা ১১টা, সনি স্পোর্টস ১
এশিয়ান গেমস
বিভিন্ন খেলা
সকাল ৬টা, সনি স্পোর্টস ২ ও ৫
একমাত্র টি–টুয়েন্টি
জাপান–ভারত
সকাল ১০টা, স্টার স্পোর্টস ১
১ম ওয়ানডে
ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা
বিকেল ৫-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১
নারী চ্যাম্পিয়নস লিগ
বায়ার্ন-ম্যান সিটি
রাত ১০-৪৫ মি., ফ্যানকোড
আর্সেনাল-কাহা
রাত ১টা, ফ্যানকোড
রিয়াল মাদ্রিদ-পিএসজি
রাত ১টা, ফ্যানকোড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন।
সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতির পর ইস্তাম্বুল থেকে প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে নিয়ে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে ‘হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ‘হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে মিছিল করেন এবং স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
নিউইয়র্ক সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলেই অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীসহ নিউইয়র্কস্থ বিএনপি নেতাকর্মীরা দুপুর থেকেই তাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে ভিড় জমাতে থাকেন।
এ সময় তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। মাঝে মাঝে স্লোগান দেন- ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম।’
নেতাকর্মীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধুমাত্র একটি প্রটোকলভিত্তিক সমাবেশ নয়, বরং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও মার্কিন মহলের সামনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার একটি উন্মুক্ত মঞ্চ।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রাধান্য পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি:
২২ সেপ্টেম্বর: এদিন সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের জন্য স্বাগত প্রাতরাশ।
ইউএনজিএ-এর ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগদান।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমে-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ।
সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।
২৩ সেপ্টেম্বর: জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক।
রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ। ‘জলবায়ু পদক্ষেপ এবং ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ।
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।
২৪ সেপ্টেম্বর: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠক।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ: নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে (সময় পরিবর্তন হতে পারে)। তার জন্য বরাদ্দকৃত সময় ১৫ মিনিট।
এরপর রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নৈশভোজে অংশগ্রহণ।
২৫ সেপ্টেম্বর: জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক।
কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়।
রাত ১১টায় (নিউইয়র্ক সময়) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে আসা অনন্য নজির স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ