০৭:০১ পি.এম
শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য শিশু-কিশোরদের কথা মাথায় রেখে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তারা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে ৬০ শতাংশ জমি কিনে একটি স্থায়ী খেলার মাঠ নির্মাণ করেছেন। সাধারণ মানুষের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গ্রামবাসীর এই উদ্যোগের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওই মাঠের পাশেই আরও ৬০ শতাংশ জমি সরকারিভাবে কিনে দেয়ার।
প্রতিমন্ত্রী আগামী রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দেলদুয়ারের জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাবুপুর গ্রামের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে এবং গ্রামবাসীকে সংবর্ধিত করা হবে।
আরও পড়ুন: কেইনের জয়ে খুশি মরিনহো, এমবাপ্পের জন্য আক্ষেপ
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক মন্তব্য করেন, ‘বাবুপুর গ্রামের মানুষের খেলার মাঠের জন্য এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার ও মন্ত্রণালয় সবসময় এমন ইতিবাচক ও স্ব-উদ্যোগী কাজকে উৎসাহ দিতে চায়। শিশু-কিশোরদের খেলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা যদি এই গ্রামবাসীর পাশে থাকতে পারি, তা হবে বিশেষ কিছু।’
তিনি আরো বলেন, এটি কেবল একটি মাঠ তৈরি নয়, বরং সারা দেশের জন্য জনসম্পৃক্ততার এক দারুণ অনুপ্রেরণামূলক মডেল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবুপুর গ্রামে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বাস। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে খেলাধুলার জন্য কোনো স্থায়ী মাঠ ছিল না। বর্ষা শেষে ধান কাটার পর সাময়িকভাবে ফাঁকা জমিতে শিশুরা খেলার সুযোগ পেলেও চাষাবাদ শুরু হলেই তা বন্ধ হয়ে যেত। এই সংকট মেটাতে গ্রামের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম ও উদ্যোক্তা এস এম ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে গ্রামবাসী একটি মতবিনিময় সভা করেন।
সেই সভাতেই জমি কিনে মাঠ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিত্তবানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে একটি তহবিল। যার যার সাধ্যমতো ২০০, ৫০০, ১,০০০ থেকে শুরু করে ৫,০০০ ও ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেন।
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টিতে এ বছর অভিষেকের সর্বোচ্চ ১২৯ ছক্কা, বাংলাদেশিরা কোথায়
সব মিলিয়ে সংগৃহীত টাকা দিয়ে ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় ৫৯ শতাংশ জমি কেনা হয়। আর এক শতাংশ জমি বিনা মূল্যে দান করেন জমির মালিক ইকবাল হোসেন। গত ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে গ্রামবাসীর কাছে এই মাঠ বুঝিয়ে দেয়া হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন