রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৪ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের আয়োজিত ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় এই আহ্বান জানান।
এ তথ্য প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। আমাদের এখন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের পথে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একটি টেসলা গাড়ি চালকের আসনে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় প্রায় ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে চলছিল। গাড়িটিতে টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা (সেলফ ড্রাইভিং) ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। চালকের ঘুমিয়ে থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করা মাত্রই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে জরিমানা করে।
এই ঘটনাটি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার সোলানো কাউন্টির আন্তঃরাজ্য ৮০ মহাসড়কে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের এক মোটরসাইকেল কর্মকর্তা দেখতে পান, গাড়িটি প্রায় ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে চললেও চালকের আসনে থাকা ব্যক্তি হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। তার চোখে ছিল একটি কালো চশমা।
পুলিশ পরে গাড়িটি থামায়। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ২ সেপ্টেম্বর। গাড়িটি থামানোর পর চালককে অনিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাকে বোঝানো হয় যে, টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা চালু থাকলেও চালক সম্পূর্ণভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারেন না।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ জানায়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চলার সময় চালক ঘুমিয়ে থাকলে তার জন্য বর্তমানে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান নেই। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রচলিত ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে।
পুলিশ কর্মকর্তা স্কট হেইটম্যান বলেন, "ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানোর নিরাপদ গতি হলো ঘণ্টায় শূন্য মাইল।"
টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামটি শুনে অনেকের মনে হতে পারে যে, এটি পুরোপুরি চালকবিহীন ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবে এটি চালকের সহায়তাকারী প্রযুক্তি। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চালক সহায়তা ব্যবস্থা ব্যবহারের সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব চালকের ওপরই বর্তায়।
ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালকদের সতর্ক করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গাড়িতে উন্নত চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও চালককে সবসময় সজাগ থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সোলানো কাউন্টির ঘটনাটি এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টিতে একটি টেসলা সাইবারট্রাকের চালককে মহাসড়ক ১০১-এ গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার অবস্থায় দেখা যায়। ওই ঘটনার পরও ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছিল যে, গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় বা চালক সহায়তা ব্যবস্থা থাকলেও গাড়ির দায়িত্ব চালকেরই।
এর আগে মার্চ মাসে ভ্যাকাভিল শহরেও টেসলাকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক সহায়তা ব্যবস্থা চালু থাকা অবস্থায় একটি টেসলা চলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে কর্মকর্তারা গাড়ির সামনের আসনে চালককে ঘুমন্ত অবস্থায় পান।
পুলিশ জানিয়েছিল, গাড়িতে পিৎজার বাক্স ও ছোট আকারের কয়েকটি মদের বোতলও ছিল। ওই ব্যক্তিকে মাদক বা মদের প্রভাবে গাড়ি চালানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ বলছে, আধুনিক চালক সহায়তা প্রযুক্তি গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে পারে। তবে এর মাধ্যমে চালকের দায়িত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। চলন্ত গাড়িতে চালকের মনোযোগ ধরে রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি।
সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ, এসএফগেট, দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন, যা জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো হবে। এই ভাষণের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের জাতিসংঘের সঙ্গে চার দশকের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
তারেক রহমানের পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ প্রদান করেন। এরপর, তার মা, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে। শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একটি উন্নত বিশ্ব গড়ার আহ্বানও জানান।
এই ভাষণের ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
তিনি পরবর্তীতে আরও কয়েকবার সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য রেখেছিলেন।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া।
এবার, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। সফরের সময় রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া, এবারের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর চলবে।
১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মাধ্যমে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়া থেকে স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশের একটি চালান যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে চীনের হাতে চলে গেছে। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তে নেমেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এই তথ্য প্রকাশ করে।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের কাছে যাওয়া ওই চালানে যুদ্ধবিমানের একটি ক্যানোপি বা স্বচ্ছ ছাদ রয়েছে, যা এটির স্টিলথ সিস্টেমের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্যানোপি সাধারণ একটি ছাদ নয়, বরং এটি ককপিটের ওপর বসানো একটি গম্ভুজ সদৃশ আবরণ।
মূলত, এই ক্যানোপির ওপর রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য স্বচ্ছ পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এফ-৩৫ রাডারে ধরা না পড়ার অন্যতম কারণ হলো এর ক্যানোপি। তবে, স্বচ্ছ পদার্থটি সময়ের সঙ্গে খারাপ হয়ে যেতে পারে, তাই এগুলো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়।
জানা গেছে, চীনের কাছে চলে যাওয়া ক্যানোপিটি মধ্যস্থতাভোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছিল। কিন্তু সেটি যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে চলে যায়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে এগুলো কোথায় এবং কার কাছে আছে তা স্পষ্ট নয়। তবে তারা আশঙ্কা করছেন যে চীন এগুলো পেয়েছে।
এই ঘটনার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কংগ্রেসের যৌথ তদন্ত গত জুনে শুরু হয়, যা এখনো চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত নিজেদের ও মিত্রদের জন্য ১ হাজার ৩০০টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, তদন্ত ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার অধীনে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্তকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছেন। নতুন এই ঘোষণায় বিধিনিষেধটি ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ১৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান এবং সাধারণত অন্তত স্নাতক পর্যায়ের যোগ্যতা প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুযোগ পায়। প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ভিসা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রথমবারের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন কিছু এইচ-১বি কর্মীর জন্য ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত কার্যকর করে। এর আগে এই ভিসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচলিত ফি ছিল প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। প্রশাসন দাবি করছে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার প্রতিরোধ করা এবং মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখা।
নতুন ঘোষণার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তাকে ১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে। সেই অর্থ পরিশোধের প্রমাণও রাখতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার ব্যবস্থা নিতে পারে কর্তৃপক্ষ। তবে জাতীয় স্বার্থে কোনো কর্মীকে নিয়োগের প্রয়োজন হলে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা কল্যাণের জন্য হুমকি নেই বলে মনে হলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।
১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের বিধান নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত এর বাস্তবায়ন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সরকার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
জুলাই মাসে প্রথম সার্কিট আপিল আদালত ফি কার্যকরের ওপর সরকারের স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এছাড়া, ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার আবেদন যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্বাহী আদেশে পররাষ্ট্র, শ্রম ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে আবেদন যাচাইয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে, কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ছাঁটাই করে একই ধরনের পদে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মজুরি, শিল্প পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কিছু নিয়োগকর্তা ও বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কম মজুরির বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা পূরণ করছে। তবে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য হলো, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালুর পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমে গেছে। হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ২৪ হাজার ৯৪৬টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৫টিতে নেমেছে।
তবে এই পরিসংখ্যান এবং নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দক্ষ বিদেশি কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ফলে, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও এর চূড়ান্ত আইনি বৈধতা এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ