রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৫ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন, যা জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো হবে। এই ভাষণের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের জাতিসংঘের সঙ্গে চার দশকের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
তারেক রহমানের পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ প্রদান করেন। এরপর, তার মা, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে। শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একটি উন্নত বিশ্ব গড়ার আহ্বানও জানান।
এই ভাষণের ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
তিনি পরবর্তীতে আরও কয়েকবার সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য রেখেছিলেন।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া।
এবার, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। সফরের সময় রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া, এবারের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর চলবে।
১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মাধ্যমে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়া থেকে স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশের একটি চালান যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে চীনের হাতে চলে গেছে। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তে নেমেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এই তথ্য প্রকাশ করে।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের কাছে যাওয়া ওই চালানে যুদ্ধবিমানের একটি ক্যানোপি বা স্বচ্ছ ছাদ রয়েছে, যা এটির স্টিলথ সিস্টেমের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্যানোপি সাধারণ একটি ছাদ নয়, বরং এটি ককপিটের ওপর বসানো একটি গম্ভুজ সদৃশ আবরণ।
মূলত, এই ক্যানোপির ওপর রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য স্বচ্ছ পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এফ-৩৫ রাডারে ধরা না পড়ার অন্যতম কারণ হলো এর ক্যানোপি। তবে, স্বচ্ছ পদার্থটি সময়ের সঙ্গে খারাপ হয়ে যেতে পারে, তাই এগুলো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়।
জানা গেছে, চীনের কাছে চলে যাওয়া ক্যানোপিটি মধ্যস্থতাভোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছিল। কিন্তু সেটি যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে চলে যায়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে এগুলো কোথায় এবং কার কাছে আছে তা স্পষ্ট নয়। তবে তারা আশঙ্কা করছেন যে চীন এগুলো পেয়েছে।
এই ঘটনার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কংগ্রেসের যৌথ তদন্ত গত জুনে শুরু হয়, যা এখনো চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত নিজেদের ও মিত্রদের জন্য ১ হাজার ৩০০টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, তদন্ত ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার অধীনে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্তকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছেন। নতুন এই ঘোষণায় বিধিনিষেধটি ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ১৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান এবং সাধারণত অন্তত স্নাতক পর্যায়ের যোগ্যতা প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুযোগ পায়। প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ভিসা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রথমবারের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন কিছু এইচ-১বি কর্মীর জন্য ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত কার্যকর করে। এর আগে এই ভিসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচলিত ফি ছিল প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। প্রশাসন দাবি করছে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার প্রতিরোধ করা এবং মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখা।
নতুন ঘোষণার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তাকে ১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে। সেই অর্থ পরিশোধের প্রমাণও রাখতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার ব্যবস্থা নিতে পারে কর্তৃপক্ষ। তবে জাতীয় স্বার্থে কোনো কর্মীকে নিয়োগের প্রয়োজন হলে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা কল্যাণের জন্য হুমকি নেই বলে মনে হলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।
১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের বিধান নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত এর বাস্তবায়ন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সরকার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
জুলাই মাসে প্রথম সার্কিট আপিল আদালত ফি কার্যকরের ওপর সরকারের স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এছাড়া, ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার আবেদন যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্বাহী আদেশে পররাষ্ট্র, শ্রম ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে আবেদন যাচাইয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে, কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ছাঁটাই করে একই ধরনের পদে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মজুরি, শিল্প পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কিছু নিয়োগকর্তা ও বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কম মজুরির বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা পূরণ করছে। তবে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য হলো, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালুর পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমে গেছে। হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ২৪ হাজার ৯৪৬টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৫টিতে নেমেছে।
তবে এই পরিসংখ্যান এবং নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দক্ষ বিদেশি কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ফলে, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও এর চূড়ান্ত আইনি বৈধতা এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে আকাশে দুটি গ্লাইডার বিমানের সংঘর্ষের ফলে এক পাইলটের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সারাটোগা কাউন্টির এডিনবার্গ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের পর একটি গ্লাইডার বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হলেও অন্যটি দুর্গম বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৬ মিনিটের দিকে এডিনবার্গের হুইলার রোডের কাছে উড়োজাহাজ দুটি সংঘর্ষের খবর কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এই এলাকা গ্রেট স্যাকানডাগা লেকের নিকটবর্তী এবং সারাটোগা স্প্রিংস থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে অবস্থিত।
সংঘর্ষের পর একটি গ্লাইডার প্লেটু স্কাই র্যাঞ্চ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ওই গ্লাইডারের পাইলট আহত হননি, তবে বিমানটির সামনের অংশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিমানবন্দরের মালিক এলেইন ওয়েড সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস ইউনিয়নকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর পাইলট মানসিকভাবে বিচলিত হলেও শারীরিকভাবে নিরাপদ ছিলেন।
অন্য গ্লাইডারটি সংঘর্ষের পর একটি দুর্গম ও ঘন বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। উদ্ধারকারী দলকে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালাতে হয়।
বিকেল প্রায় ৪টা ৫৪ মিনিটে স্যান্ড লেক রোডের কাছের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় গ্লাইডারটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে পৌঁছে একমাত্র আরোহী পাইলটকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহত পাইলটের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানোর পর পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
উদ্ধার অভিযানে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের বিমান ইউনিট, স্টেট ফরেস্ট রেঞ্জার, সারাটোগা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়সহ স্থানীয় বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা অংশ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপদে অবতরণ করা গ্লাইডারের পাইলটও পরে নিখোঁজ গ্লাইডারটির সন্ধানে আকাশে ফিরে গিয়েছিলেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি গ্লাইডারের মধ্যে একটি ছিল শেম্প-হার্থ ভেনটাস-২বি এবং অন্যটি শ্লেইখার এএসডব্লিউ-২৪। এই তথ্য জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড নিশ্চিত করেছে।
গ্লাইডার সাধারণত ইঞ্জিনবিহীন উড়োজাহাজ হিসেবে পরিচিত। বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ ও অন্যান্য বায়ুগত শক্তি কাজে লাগিয়ে এসব উড়োজাহাজ আকাশে অবস্থান করে।
এখন পর্যন্ত জানা যায়নি, কেন দুটি গ্লাইডার আকাশে সংঘর্ষে জড়াল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড ও ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেউ থাকলে তাদের ৫১৮-৪৫৭-৬৮১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, এবিসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় পড়ে থাকা অজ্ঞাত শিশুর পরিচয় পাওয়া গেছে। শিশুটির নাম মো. শাকিল (১৪)। সে দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসার, যিনি মালু মিয়া নামে পরিচিত, এর ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মানসিকভাবে অসুস্থ শাকিল গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল। পরবর্তী দিন শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবি আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় অংশের লংকা মোড়া এলাকায় তার মরদেহ দেখতে পায়।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকের পর আখাউড়া থানা পুলিশ শিশুটির মরদেহ গ্রহণ করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
এদিকে, শাকিল কীভাবে সীমান্তের শূন্যরেখায় গিয়েছিল এবং তার মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানিয়েছেন, দুই দেশের বাহিনীর বৈঠকের পর মরদেহ গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানিয়েছেন, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ