রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৫ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার অধীনে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্তকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছেন। নতুন এই ঘোষণায় বিধিনিষেধটি ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ১৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান এবং সাধারণত অন্তত স্নাতক পর্যায়ের যোগ্যতা প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুযোগ পায়। প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ভিসা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রথমবারের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন কিছু এইচ-১বি কর্মীর জন্য ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত কার্যকর করে। এর আগে এই ভিসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচলিত ফি ছিল প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। প্রশাসন দাবি করছে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার প্রতিরোধ করা এবং মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখা।
নতুন ঘোষণার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তাকে ১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে। সেই অর্থ পরিশোধের প্রমাণও রাখতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার ব্যবস্থা নিতে পারে কর্তৃপক্ষ। তবে জাতীয় স্বার্থে কোনো কর্মীকে নিয়োগের প্রয়োজন হলে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা কল্যাণের জন্য হুমকি নেই বলে মনে হলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।
১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের বিধান নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত এর বাস্তবায়ন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সরকার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
জুলাই মাসে প্রথম সার্কিট আপিল আদালত ফি কার্যকরের ওপর সরকারের স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এছাড়া, ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার আবেদন যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্বাহী আদেশে পররাষ্ট্র, শ্রম ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে আবেদন যাচাইয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে, কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ছাঁটাই করে একই ধরনের পদে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মজুরি, শিল্প পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কিছু নিয়োগকর্তা ও বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কম মজুরির বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা পূরণ করছে। তবে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য হলো, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালুর পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমে গেছে। হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ২৪ হাজার ৯৪৬টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৫টিতে নেমেছে।
তবে এই পরিসংখ্যান এবং নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দক্ষ বিদেশি কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ফলে, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও এর চূড়ান্ত আইনি বৈধতা এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে আকাশে দুটি গ্লাইডার বিমানের সংঘর্ষের ফলে এক পাইলটের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সারাটোগা কাউন্টির এডিনবার্গ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের পর একটি গ্লাইডার বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হলেও অন্যটি দুর্গম বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৬ মিনিটের দিকে এডিনবার্গের হুইলার রোডের কাছে উড়োজাহাজ দুটি সংঘর্ষের খবর কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এই এলাকা গ্রেট স্যাকানডাগা লেকের নিকটবর্তী এবং সারাটোগা স্প্রিংস থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে অবস্থিত।
সংঘর্ষের পর একটি গ্লাইডার প্লেটু স্কাই র্যাঞ্চ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ওই গ্লাইডারের পাইলট আহত হননি, তবে বিমানটির সামনের অংশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিমানবন্দরের মালিক এলেইন ওয়েড সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস ইউনিয়নকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর পাইলট মানসিকভাবে বিচলিত হলেও শারীরিকভাবে নিরাপদ ছিলেন।
অন্য গ্লাইডারটি সংঘর্ষের পর একটি দুর্গম ও ঘন বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। উদ্ধারকারী দলকে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালাতে হয়।
বিকেল প্রায় ৪টা ৫৪ মিনিটে স্যান্ড লেক রোডের কাছের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় গ্লাইডারটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে পৌঁছে একমাত্র আরোহী পাইলটকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহত পাইলটের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানোর পর পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
উদ্ধার অভিযানে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের বিমান ইউনিট, স্টেট ফরেস্ট রেঞ্জার, সারাটোগা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়সহ স্থানীয় বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা অংশ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপদে অবতরণ করা গ্লাইডারের পাইলটও পরে নিখোঁজ গ্লাইডারটির সন্ধানে আকাশে ফিরে গিয়েছিলেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি গ্লাইডারের মধ্যে একটি ছিল শেম্প-হার্থ ভেনটাস-২বি এবং অন্যটি শ্লেইখার এএসডব্লিউ-২৪। এই তথ্য জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড নিশ্চিত করেছে।
গ্লাইডার সাধারণত ইঞ্জিনবিহীন উড়োজাহাজ হিসেবে পরিচিত। বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ ও অন্যান্য বায়ুগত শক্তি কাজে লাগিয়ে এসব উড়োজাহাজ আকাশে অবস্থান করে।
এখন পর্যন্ত জানা যায়নি, কেন দুটি গ্লাইডার আকাশে সংঘর্ষে জড়াল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড ও ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেউ থাকলে তাদের ৫১৮-৪৫৭-৬৮১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, এবিসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় পড়ে থাকা অজ্ঞাত শিশুর পরিচয় পাওয়া গেছে। শিশুটির নাম মো. শাকিল (১৪)। সে দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসার, যিনি মালু মিয়া নামে পরিচিত, এর ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মানসিকভাবে অসুস্থ শাকিল গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল। পরবর্তী দিন শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবি আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় অংশের লংকা মোড়া এলাকায় তার মরদেহ দেখতে পায়।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকের পর আখাউড়া থানা পুলিশ শিশুটির মরদেহ গ্রহণ করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
এদিকে, শাকিল কীভাবে সীমান্তের শূন্যরেখায় গিয়েছিল এবং তার মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানিয়েছেন, দুই দেশের বাহিনীর বৈঠকের পর মরদেহ গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানিয়েছেন, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দায় ‘ব্যবসায়ীর গোডাউন ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাটের অভিযোগ’ শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন ও পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত দেলুয়াবাড়ি গ্রামের মো. আব্দুল মান্নানের স্ত্রী মোছা. সুমাইয়া।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের মান্দা উপজেলা শাখা কার্যালয়ে তিনি এই সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক সাতমাথাসহ একাধিক অনলাইন পোর্টাল ও পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ব্যবসায়ীর গোডাউন ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাটের অভিযোগ’ শিরোনামের খবরটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি এই মিথ্যা সংবাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
লিখিত বক্তব্যে সুমাইয়া উল্লেখ করেন, দেলুয়াবাড়ি মৌজার আরএস ৩১৩ ও ১২৫/১ নম্বর খতিয়ানের ১১.৫০ শতক জমি নবিজা ওরফে রমিছা তার বাবার কাছ থেকে দলিলমূলে পেয়ে ভোগদখলে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৮ মে ৪৪৪৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তার স্বামী মো. আব্দুল মান্নান জমিটি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তিনি সেখানে ফসল উৎপাদনসহ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
সুমাইয়া আরও জানান, ২০২২ সালের শেষের দিকে চকমেদ গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে আমিনুল হক স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় ওই জমিতে জোরপূর্বক মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় আমিনুল হক দাবি করেন, তিনি খতিয়ানের প্রজা রশিকের ছেলে লেনিনের কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন। তবে লেনিন ১৯৭৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের ১৫৩১৬ নম্বরের একটি ভুয়া ও অস্তিত্বহীন দলিলের মাধ্যমে জমিটি বিক্রির নাটক সাজিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও থানায় একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা না পেয়ে মান্দা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ৫০/২০২৩ (স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা) নম্বরে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সুমাইয়ার অভিযোগ, মামলার বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় জমিটি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে গণমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে সংবাদ প্রকাশ করানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করে প্রকৃত সত্য ঘটনা গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ শীতের তুষারপাত মোকাবেলার জন্য অস্থায়ী তুষার পরিষ্কার কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জরুরি তুষার পরিষ্কার কর্মীরা প্রতি ঘণ্টায় ৩০ ডলার পাবেন। প্রথম ৪০ ঘণ্টা কাজের পর তাদের পারিশ্রমিক বেড়ে ঘণ্টায় ৪৫ ডলার হবে। গত শীত মৌসুমে এই পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৯ দশমিক ১৪ ও ২৮ দশমিক ৭১ ডলার।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং স্যানিটেশন কমিশনার গ্রেগরি অ্যান্ডারসন নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। কর্মীদের প্রস্তুত রাখতে, তুষারপাত শুরু হওয়ার আগেই শরৎকাল থেকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করা কর্মীরা ডিসেম্বরে চার ঘণ্টার বেতনসহ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। কাজের পর দ্রুত পারিশ্রমিক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিটি প্রশাসনের লক্ষ্য, কাজ শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে কর্মীদের পারিশ্রমিক প্রদান করা।
গত শীতে রেকর্ডসংখ্যক ৭ হাজার ৮০০-এর বেশি নিউইয়র্কবাসী এই অস্থায়ী কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তীব্র তুষারপাত ও তুষারঝড়ের পর স্যানিটেশন কর্মীদের সঙ্গে তারা ১ লাখ ৩৫ হাজার পথচারী পারাপারের স্থান, ৩৪ হাজার বাসস্টপ এবং ২৯ হাজার অগ্নিনির্বাপক জলাধারের আশপাশ পরিষ্কারে কাজ করেন।
তুষার পরিষ্কার কর্মীদের দায়িত্ব শুধু রাস্তা থেকে তুষার সরানো নয়। ভারী তুষারপাতের পর বাসস্টপ, পথচারী পারাপারের স্থান, অগ্নিনির্বাপক জলাধার এবং মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করাও তাদের কর্তব্য। বিশেষ করে অগ্নিনির্বাপক জলাধার পরিষ্কার রাখা জরুরি, যাতে আগুন লাগলে দমকলকর্মীরা সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
এবার কর্মীদের দ্রুত কাজে নামানোর জন্য নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে অনেক সময় তুষারপাত শুরু হওয়ার পর কর্মী সংগ্রহ করা হতো। এবার তুষারপাতের অনেক আগেই নিবন্ধন শেষ করা হবে। নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।
জরুরি তুষার পরিষ্কার কর্মী হতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকতে হবে এবং প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারের মধ্যে শারীরিকভাবে কঠিন কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
গত শীতের তীব্র আবহাওয়ার সময় এই কর্মসূচির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। ফেব্রুয়ারির বড় তুষারঝড়ের সময় জরুরি ভিত্তিতে বিপুলসংখ্যক তুষার পরিষ্কার কর্মী কাজে নামানো হয়েছিল এবং তাদের পারিশ্রমিক ঘণ্টায় ৩০ ডলারে বাড়ানো হয়েছিল। এবার সেই হার শীত মৌসুমের নিয়মিত পারিশ্রমিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের লক্ষ্য হলো, আগেভাগে পর্যাপ্ত কর্মী প্রস্তুত রাখা, যাতে তুষারঝড়ের পর গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের চলাচলের জায়গাগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা যায় এবং শহরের জরুরি পরিষেবা সচল রাখা সম্ভব হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ