প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার অধীনে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্তকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছেন। নতুন এই ঘোষণায় বিধিনিষেধটি ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ১৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান এবং সাধারণত অন্তত স্নাতক পর্যায়ের যোগ্যতা প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুযোগ পায়। প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ভিসা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রথমবারের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন কিছু এইচ-১বি কর্মীর জন্য ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত কার্যকর করে। এর আগে এই ভিসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচলিত ফি ছিল প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। প্রশাসন দাবি করছে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার প্রতিরোধ করা এবং মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখা।
নতুন ঘোষণার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তাকে ১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে। সেই অর্থ পরিশোধের প্রমাণও রাখতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার ব্যবস্থা নিতে পারে কর্তৃপক্ষ। তবে জাতীয় স্বার্থে কোনো কর্মীকে নিয়োগের প্রয়োজন হলে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা কল্যাণের জন্য হুমকি নেই বলে মনে হলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।
১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের বিধান নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত এর বাস্তবায়ন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সরকার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
জুলাই মাসে প্রথম সার্কিট আপিল আদালত ফি কার্যকরের ওপর সরকারের স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এছাড়া, ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার আবেদন যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্বাহী আদেশে পররাষ্ট্র, শ্রম ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে আবেদন যাচাইয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে, কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ছাঁটাই করে একই ধরনের পদে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মজুরি, শিল্প পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কিছু নিয়োগকর্তা ও বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কম মজুরির বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা পূরণ করছে। তবে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য হলো, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালুর পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমে গেছে। হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ২৪ হাজার ৯৪৬টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৫টিতে নেমেছে।
তবে এই পরিসংখ্যান এবং নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দক্ষ বিদেশি কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ফলে, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও এর চূড়ান্ত আইনি বৈধতা এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন