রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৭ পি.এম
চাঁদপুরের সংগঠন ‘চর্যাপদ একাডেমি সাহিত্য উৎসব-২০২৬’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উৎসবে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখার জন্য সাত সাহিত্যিককে দোনাগাজী পদক প্রদান করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর শহরের সাংবাদিক ক্লাবের রেডরোজ হলে বেলা ১১টায় ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক এবং বরেণ্য নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা।
একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে, মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি এবং জুড়িবোর্ডের সদস্য সচিব শিউলী মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক, দেশবরেণ্য কবি ও ডেইলি এক্সপ্রেস দেশের কন্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক নাসির আহমেদ।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ এবং জলধি সম্পাদক কথাসাহিত্যিক নাহিদা আশরাফী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান, ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর আলেয়া বেগম লাকী, কবি আসাদুল্লা কাহাফ এবং স্বাগত বক্তৃতা দেন উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব দিলীপ ঘোষ।
প্রধান অতিথি নাসির আহমেদ বলেন, "চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি প্রদত্ত পুরস্কারগুলো সম্পর্কে আমি আগে থেকেই অবগত। এই পুরস্কারের সুনাম আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি, এ পুরস্কার এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।"
এ সময় তিনি কবি সোহরাব পাশা, কিছু সাহিত্যিক স.ম শামসুল আলমসহ লেখকদের অভিনন্দন জানান এবং সাহিত্য শিল্প সাধনার বিষয় নিয়ে চর্যাপদ একাডেমি সাধক শিল্পী গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা বলেন, "চাঁদপুরের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব মধ্যযুগের কবি দোনাগাজীকে থিয়েটারে আনা যায় কি না সেটা এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, দোনাগাজীকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।"
একাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি জানান, ২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিতভাবে এই পদক প্রদান করে আসছে। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চাঁদপুর শহর।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রণি বলেন, "মধ্যযুগের কবি দোনাগাজী ছিলেন চাঁদপুরের কৃতিসন্তান। তার নামে চাঁদপুরে স্থাপনা নির্মাণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে দোনাগাজীর স্মৃতি ধরে রাখার দাবি জানাচ্ছি।"
পরে সাহিত্য উৎসবে দেশের ৭ বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয় চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির ‘দোনাগাজী পদক ২০২৫ ও ২০২৬’।
পদকপ্রাপ্তরা হলেন- সোহরাব পাশা (২০২৫-কবিতা), ইশরাত তানিয়া (কথাসাহিত্য), স. ম. শামসুল আলম (শিশুসাহিত্য), রনক রায়হান (সংগীত), শিবলী মোকতাদির (২০২৬-কবিতা), অমল সেনগুপ্ত (চারুকলা) এবং সৈয়দা আঁখি হক (লোক-গবেষণা)।
এছাড়া প্রশংসাপত্র পাঠ করেন জয়ন্তী ভৌমিক, কামরুন্নাহার বিউটি, দুখাই মুহাম্মাদ, মিজানুর রহমান স্বপন, রাসেল ইব্রাহীম ও ফেরারী প্রিন্স।
বেলাল শেখের বাঁশির সুরে কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী আবু বকর সিদ্দিক, দিপান্বিতা দাস ও মৃন্ময়ী মজুমদার।
অনুষ্ঠানে দোনাগাজীর বংশধর নাসিমা খাতুন লাকীসহ অন্যান্যদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক আইরিন সুলতানা লিমার তত্ত্বাবধানে একটি চমৎকার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চারটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩৬ জন শিশু। তবে এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮৮ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৪৮ জন। এই সময়ে মোট ১ হাজার ৩৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৮৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ জনে, যার মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ২০ হাজার ৫৬২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৫৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামের কারণে প্রাণ গেছে ১০১ শিশুর। ফলে এই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ৫৭ জনে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত সাত মাসে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন শিশু। চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহরে আধুনিক প্রযুক্তির ভিত্তিতে পাঁচটি নতুন কন্টেইনার ক্যারিয়ার ভেহিক্যাল যুক্ত হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর প্রস্তাবিত গাবতলী কাঁচাবাজারে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
প্রশাসক উল্লেখ করেন, অতি বৃষ্টিপাতের কারণে বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় না। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ফলে এই সমস্যার সমাধান হয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বাসা বাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য এসটিএস এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার উদ্দেশ্যে ৫টি ক্যারিয়ার ট্রাক উদ্বোধন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ১০টি কন্টেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক যুক্ত করা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রতিদিন ১৮০টি থেকে ২০০টি গাড়ির মাধ্যমে ঢাকা শহরের চার হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করছে।
নগরবাসীকে উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে নতুন পাঁচটি কন্টেইনার ক্যারিয়ার ট্রাক যুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসক জানান, এই গাড়িগুলোর মাধ্যমে সহজে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়লা আবর্জনা অপসারণ করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া হবে।
প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কাজ শুরু করেছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বদা মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন।
ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এই কার্যক্রমের আওতায় প্রতিদিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ডেঙ্গুর এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানা করছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন ট্রাকের উদ্বোধন করার পর প্রশাসক নিজে একটি ট্রাক চালিয়ে পরীক্ষা করেন। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) থেকে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণে এসব ট্রাক ব্যবহার করা হবে।
নতুন ভারী যানগুলোর যুক্ত হওয়ায় ডিএনসিসির বর্জ্য পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কম সময়ে বর্জ্য নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, প্রধান প্রকৌশলী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল রাকিব হাসান ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এম ইমরুল কায়েসহ অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভোরের সময় মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিস্ফোরণের পরপরই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান শোনা গেছে। যদিও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের গোপাল চরণ গ্রামে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের মতে, বিকট শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের ঘুম ভেঙে যায়। পরে তারা বাইরে এসে তিনটি পৃথক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত দেখতে পান। প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে স্থানীয় জামায়াত নেতা প্রফেসর মো. আবু সোলায়মান সরকারের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে, যা ঘটে ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে। এর দুই মিনিট পর ৪টা ২৮ মিনিটে গোপাল চরণ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এবং ৪টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রেজার বাড়ির পাশের সড়কে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
গোপাল চরণ বড়বাড়ি জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. আতাউর রহমান জানান, ফজরের নামাজের জন্য ভোরে মসজিদে এসে তিনি বিস্ফোরণের বিষয়টি শোনেন। নামাজ শেষে ঘটনাস্থলগুলোতে গিয়ে বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত পড়ে থাকতে দেখেন।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা প্রফেসর মো. আবু সোলায়মান সরকার সাজা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি আমার বাসার বাউন্ডারি দেয়াল ঘেঁষে ককটেলের তাজা আলামত পড়ে আছে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরাই পরিকল্পিতভাবে এলাকায় ভীতি ছড়াতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ারকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তুহিন হোসেনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে নিহতের মায়ের খোয়া যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন তার মা। তিনি জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে রাত ৯টার মধ্যে তুহিন বারবার বাসা থেকে বের হয়ে ফিরে আসে।
অভিযান ও পারিবারিক বিবরণ অনুসারে, সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা তুহিনকে নিয়ে তার বাড়িতে তল্লাশি চালান। এই সময় তুহিনের শয়নকক্ষের বিছানার নিচে একটি কালো শপিং ব্যাগের মধ্যে অপ্রতিমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
তুহিনের মা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার জুমার নামাজ ও দুপুরের খাবার শেষে তুহিন বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেলে সে একবার ঘরে ফিরে এলেও, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর আবারও বাইরে চলে যায়। রাত ৯টার দিকে ফিরে এসে রাতের খাবার শেষে সে ঘুমিয়ে পড়ে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় অপ্রতিমের মুঠোফোনের সর্বশেষ সক্রিয় অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল, এরপর ডিভাইসটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ তুহিনকে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখতে পায়। পরবর্তীতে তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানিয়েছেন, উদ্ধার করা আলামত, মুঠোফোনের কল রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংগৃহীত সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও পরিকল্পনায় কারা যুক্ত ছিল, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত কিশোর অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান। গত শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে মায়ের ফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ