প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ারকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তুহিন হোসেনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে নিহতের মায়ের খোয়া যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন তার মা। তিনি জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে রাত ৯টার মধ্যে তুহিন বারবার বাসা থেকে বের হয়ে ফিরে আসে।
অভিযান ও পারিবারিক বিবরণ অনুসারে, সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা তুহিনকে নিয়ে তার বাড়িতে তল্লাশি চালান। এই সময় তুহিনের শয়নকক্ষের বিছানার নিচে একটি কালো শপিং ব্যাগের মধ্যে অপ্রতিমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
তুহিনের মা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার জুমার নামাজ ও দুপুরের খাবার শেষে তুহিন বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেলে সে একবার ঘরে ফিরে এলেও, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর আবারও বাইরে চলে যায়। রাত ৯টার দিকে ফিরে এসে রাতের খাবার শেষে সে ঘুমিয়ে পড়ে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় অপ্রতিমের মুঠোফোনের সর্বশেষ সক্রিয় অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল, এরপর ডিভাইসটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ তুহিনকে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখতে পায়। পরবর্তীতে তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানিয়েছেন, উদ্ধার করা আলামত, মুঠোফোনের কল রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংগৃহীত সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও পরিকল্পনায় কারা যুক্ত ছিল, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত কিশোর অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান। গত শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে মায়ের ফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন