ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়ানা ও আন্দ্রে


বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়ানা ও আন্দ্রে

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : বুলগেরিয়ায় রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে এই নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকার আন্দ্রে গিউরভ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সোফিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাংবাদিক, পুলিশ ও শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: শিমুল বিশ্বাস

ইয়োতোভা মস্কোর সঙ্গে সংলাপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করছেন। অপরদিকে, গিউরভ পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর সমর্থন লাভ করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভুটানে ‘মাইন্ডফুলনেস সিটি’ গড়ে তোলার অংশে ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


ভুটানে ‘মাইন্ডফুলনেস সিটি’ গড়ে তোলার অংশে ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণ

ঢাকস, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে ‘মাইন্ডফুলনেস সিটি’ গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভুটানে রবিবার এক দিনে ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণে অংশ নিয়েছেন কয়েক দশ হাজার স্বেচ্ছাসেবী।

ভুটানের গেলেফু থেকে এএফপি জানায়, হিমালয় অঞ্চলে প্রচলিত পবিত্র বৌদ্ধ স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে এসব স্তূপের প্রতিটির উচ্চতা ১৫ মিটার বা প্রায় ৪৯ ফুট। ভারত সীমান্তের নিকটবর্তী ভবিষ্যৎ গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির নির্ধারিত এলাকায় নদীর তীর বরাবর ১২ কিলোমিটার বা প্রায় সাড়ে সাত মাইলজুড়ে স্তূপগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যরাতের পর কাজ শুরু করে এক দিনের মধ্যে ১০৮টি স্থাপনার নির্মাণে ৪০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। তাঁদের ভাষায়, এটি ছিল ‘প্রার্থনার এক বাস্তব রূপ’ বলে উল্লেখ করা হয়।

চীন ও ভারতের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত ভুটানের জনসংখ্যা আট লাখের কিছু কম। দেশটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ বা ‘সামগ্রিক জাতীয় সুখ’কে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির জন্য পরিচিত।

ভুটান আশা করছে, নতুন এ নগরী দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করবে এবং আরও বেশি তরুণকে দেশে থাকতে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে টেকসই ব্যবসা, সবুজ প্রযুক্তি, শিক্ষা, পর্যটন ও আর্থিক সেবা খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য রয়েছে।

রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক ২০২৪ সালে রাজকীয় সনদের মাধ্যমে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘একটি প্রাণবন্ত অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা’।

ভুটান বর্তমানে জন্মহার হ্রাস এবং উন্নত সুযোগের সন্ধানে তরুণদের বিদেশে চলে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

তরুণ ভুটানিদের কর্মসংস্থানে সহায়তাকারী সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর ইয়ুথ এমপাওয়ারমেন্টের প্রধান ৬৫ বছর বয়সী নিমা গেলতশেন বলেন, ‘এই উপলক্ষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে।’

২০১৭ সালের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, শান্ত ও নিরিবিলি গেলেফু শহরের জনসংখ্যা ১০ হাজারেরও কম।

আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী, বৌদ্ধ ঐতিহ্যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ১০৮ সংখ্যার প্রতীকী তাৎপর্য বহনকারী স্তূপগুলোর সম্মিলিত উচ্চতা মিসরের গিজার গ্রেট পিরামিডের উচ্চতার ১০ গুণেরও বেশি। এগুলো নির্মাণে আনুমানিক ২ কোটি ১০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে।

তবে ভুটান তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে, বন্দর থেকে বিদ্যুৎ খাত পর্যন্ত বিস্তৃত ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রধান ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি জানুয়ারিতে গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত হন।

প্রকল্প এলাকাটিকে ভারতের প্রতিবেশী আসাম রাজ্যের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৯ সালে সেখানে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির সঙ্গে ভুটানের ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনারও যোগসূত্র রয়েছে। দেশটি উদ্বৃত্ত জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিটকয়েন মাইনিং করছে এবং নগরীর উন্নয়নে ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহারের অঙ্গীকার করেছে।

রবিবারের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা বিষ্ণু মায়া মোকতাং নতুন মাইন্ডফুলনেস সিটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

৫৬ বছর বয়সী মোকতাং এএফপিকে বলেন, ‘আমি আশা করি, শহরটি দেখতে পাওয়ার মতো দীর্ঘ জীবন পাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মা-বাবা অল্প বয়সে মারা গেছেন। তাদের পক্ষে কখনো এই শহর দেখে পাওয়া সম্ভব ছিল না। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোণায় অক্টোবরে ১ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


নেত্রকোণায় অক্টোবরে ১ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান জব্দ

নেত্রকোণা, ১ নভেম্বর ২০২৬ : সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ২১৬ টাকার ভারতীয় মদ, গরু, কয়লা ও অন্যান্য চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) অক্টোবর মাসে। এই অভিযানের সময় এক মানব পাচারকারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অপরাধে।

এ তথ্য আজ সকালে নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদ বারী, পিএসসি।

বিজিবি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের অধীন বিওপি কর্তৃক মোট ১৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে সীমান্ত এলাকায়। এসব অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৪৫৭ বোতল ভারতীয় মদ, ২৬টি ভারতীয় গরু, ৫৩৩টি কম্বল, ১৮১৮৮৮.৫ কেজি ভারতীয় কয়লা, ১১,৯০০টি বাঁশ, ৯,১০২টি কসমেটিকস, ১,২১৯ কেজি চিনি, ২,০৯৬ কেজি বাংলাদেশি রসুন, ২৬৭ কেজি বাংলাদেশি মাছ, ৬০ কেজি লেবু, ১৬ পিস কোদাল, ১১৩ কেজি ফুচকা, ৬৯ প্যাকেট শনপাপড়ি, ১৭৮ প্যাকেট চকলেট, ৭০০ কেজি টমেটো, ৩৪ প্যাকেট বিস্কুট, ২৯ কেজি জিরা, ৩৮০ পাতা বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল এবং একটি ঠেলাগাড়ি।

জব্দকৃত মালামালের মোট সিজার মূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ২১৬ টাকা। আটককৃত মদ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে এবং অন্যান্য চোরাচালানি মালামাল জেলা কাস্টমস অফিসে জমা করা হয়েছে।

অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অপরাধে একজন মানব পাচারকারী ও দুজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ১০ অক্টোবর দুর্গাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে সীমান্ত এলাকায় এবং বিজিবির এ ধরনের নিয়মিত অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন লে. কর্নেল তৌহিদ বারী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার্বিয়ায় রেলস্টেশন দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকার পতনে ভূমিকা রাখা ছাত্র আন্দোলনের স্মরণসভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


সার্বিয়ায় রেলস্টেশন দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকার পতনে ভূমিকা রাখা ছাত্র আন্দোলনের স্মরণসভা

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের রেলস্টেশন ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রোববার হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এই দুর্ঘটনা দেশটিতে সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা করে, যা এক সপ্তাহ আগে ডানপন্থী ক্ষমতাসীন দলের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, দুই বছর আগে নোভি সাদ শহরের সংস্কার করা রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে দুইটি বোন ছিল, তাদের বয়স ছিল ছয় বছর এবং ১০ বছর।

দুর্ঘটনার পর সার্বিয়ার বিভিন্ন স্থানে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে রেলস্টেশনটির সংস্কারকাজের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যার ফলে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০০০ সালে সাবেক স্বৈরশাসক স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর এটি ছিল সার্বিয়ায় অন্যতম বৃহৎ গণবিক্ষোভ।

দুর্ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী ছেলে স্তেফানকে হারানো দিয়ানা হ্রকা এএফপিকে বলেন, “যেখানে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেখানে ফিরে যাওয়া খুবই কষ্টের।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রতিবার সেখানে ফিরে যাওয়া আগের চেয়েও কঠিন হয়ে ওঠে।”

এবারের বার্ষিকী এমন এক সময় পালিত হচ্ছে, যখন আগাম নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহ পেরিয়েছে।

নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আবারও সেই স্থানে ফিরছেন, যেখানে তাদের আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল।

দিয়ানা হ্রকা, যিনি ছেলেকে হারানোর পর আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন, বলেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলন তাকে আশার আলো দেখিয়েছে।

তিনি গত দুই বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “মানুষের সমর্থন আমার কাছে অনেক বড় বিষয় ছিল।”

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “যারা আমাকে সমর্থন করেছেন, যারা আন্তরিকভাবে চান আমরা সবাই একসঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

তবে ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কাউকে দায়ী করে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।

দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে সার্বিয়াজুড়ে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। এই আন্দোলনই গত রোববারের নির্বাচনে ছাত্র আন্দোলন-সমর্থিত জোটের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২৫০ আসনের পার্লামেন্টে ছাত্র-সমর্থিত তালিকাটি প্রায় ১৪০টি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে তারা এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

দিয়ানা হ্রকা আশা করছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বড় পরিবর্তনের ফলে রেলস্টেশন দুর্ঘটনার তদন্ত আরও গতিশীল হবে।

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। এই মুহূর্তে আমাকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র প্রেরণা হলো— একদিন ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে, এই বিশ্বাস।”

নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়ে আলেকজান্ডার ভুচিচের দল ক্ষমতা ছাড়ার কথা স্বীকার করার পর থেকেই ছাত্র আন্দোলনের নেতারা দুর্নীতি ও আলোচিত হত্যাকাণ্ডের একাধিক তদন্তে অগ্রগতি দাবি করে আসছেন।

বিদায়ী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও নতুন করে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে ছাত্র আন্দোলন।

নোভি সাদের রেলস্টেশন দুর্ঘটনা নিয়ে একাধিক তদন্ত চললেও এখনো কোনো মামলার বিচার শুরু হয়নি।

দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর পদত্যাগ করা সাবেক নির্মাণমন্ত্রী গোরান ভেসিচের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে আরও ১২ জনের সঙ্গে জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করা হয়।

এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে পৃথক একটি দুর্নীতির তদন্তেও সন্দেহভাজন হিসেবে রয়েছেন ভেসিচ। ওই তদন্তে আরেক সাবেক মন্ত্রী তোমিস্লাভ মোমিরোভিচসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

রেলস্টেশন সংস্কারকাজে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহারের অভিযোগও আলাদাভাবে তদন্ত করছে ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস।

দিয়ানা হ্রকা বলেন, “এখন যদি আমরা দায়ীদের কারাগারে পাঠাতে পারি, তাহলে এমন ঘটনা আর কখনো ঘটবে না।”

ছেলেকে হারানো এই মা আরও বলেন, “আমি আশা করি, কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে রাজপথে নামতে হওয়ার ঘটনা এটাই শেষবার। আমার একমাত্র চাওয়া এটুকুই।”

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঞ্চল্যকর সাত খুন, আবরার ফাহাদ ও মেজর সিনহা হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


চাঞ্চল্যকর সাত খুন, আবরার ফাহাদ ও মেজর সিনহা হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগ

এস এম আশিকুজ্জামান

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার চূড়ান্ত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বিচার অঙ্গনে বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর মধ্যে একটি।

এছাড়া, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার ঢাকায় দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ, বুয়েটের আবরার ফাহাদ এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল এই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে উপস্থাপন করেছেন।

সাধারণ মানুষের যে প্রত্যাশা, তা হলো উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা এসব স্পর্শকাতর মামলার বিচার শেষ করে সাজা কার্যকর করা। রাষ্ট্রপক্ষের এই উদ্যোগ সেই প্রত্যাশাকে আশার আলো দেখাচ্ছে।

যদি চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়, তাহলে বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। অপরাধীদের দ্রুত সাজা কার্যকর করার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

সাত খুনের মামলার আপিল শুনানি আগামী ১৭ নভেম্বর

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। বিষয়টি দেখে ফেলায় আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক মো. ইব্রাহিমও অপহরণের শিকার হন।

তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন পাওয়া যায় আরেকটি লাশ।

নজরুল, চন্দন ও ইব্রাহিম ছাড়া হত্যার শিকার অন্য ব্যক্তিরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাত খুনের মামলায় র‌্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তা (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, কমান্ডার এম এম রানা, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে এবং অপর ১১ আসামির দণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ৯ আসামির দণ্ডও হাইকোর্টে বহাল থাকে। দণ্ডিত তারেক সাঈদ, নূর হোসেনসহ মামলার বেশ কয়েকজন আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার শুনানি আগামী ২৪ নভেম্বর

বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামিদের করা আপিল শুনানি আগামী ২৪ নভেম্বর। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর গত ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নির্মম এ হত্যায় জড়িতদের সবাই ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতা-কর্মী।

আলোচিত এই হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১।

বিচারিক আদালতের রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান (রাসেল), মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান (রবিন), ইফতি মোশাররফ, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মেফতাহুল ইসলাম, মো. মাজেদুর রহমান, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল (জেমি), মো. শামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ। হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ।

মেজর সিনহা হত্যা মামলার শুনানি আগামী ১ ডিসেম্বর

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় আসামিদের করা আপিল শুনানি আগামী ১ ডিসেম্বর। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর গত ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি বিচারিক আদালত এই মামলার মোট ১৫ জন আসামির মধ্যে দুই জনকে মৃত্যুদণ্ড, ছয় জনকে যাবজ্জীবন ও সাত জনকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন, টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দীন। ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর

পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৯ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা ওই হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় দেন। বিচারিক আদালতের রায়ে ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আসামিদের সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কর্মী ছিলেন। এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং অপর দু’জনকে খালাস দেয়া হয়।

এ ছাড়া নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দু’জন আপিল করেন তারা হাইকোর্টে খালাস পান।

হাইকোর্টের রায়ে যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদার। মৃত্যুদণ্ড থেকে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পেয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু।

এছাড়া হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর মো. নূরে আলম লিমনকে।

বিচারিক আদালতের দেয়া যাবজ্জীবন থেকে খালাস পান এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা।

অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে যে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয় তারা হলেন- খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায়গুলোর বিচারের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসস'কে বলেন, "সমাজকে ও সাধারণ মানুষের বিবেককে আলোড়িত করা এসব মামলা দ্রুত ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আমরা রাষ্ট্র পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত মামলাগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা মামলাগুলো নির্ধারিত তারিখে শুনানি শুরু হয়ে দ্রুত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।"

"সরকার কাউকে রক্ষা বা তথ্য গোপন করতে চায় না"

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে আগামী  বছর ২৯ এপ্রিল অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সাথে ওই দিন এই মামলার নথিপত্রসহ টাস্কফোর্সের প্রধান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের  প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে হাইকোর্টে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

বহুল আলোচিত এই মামলার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসস'কে বলেন, "বর্তমান সরকার কাউকে রক্ষা করা বা তথ্য গোপন করতে চায় না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"

এদিকে হাইকোর্টে জমা দেয়া টাস্কফোর্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সাথে আলোচনাকালে তারা প্রাথমিকভাবে সাগর রুনী হত্যাকাণ্ডের সাথে সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তদন্তপূর্বক যাচাই বাছাই করছে মর্মে জানান। তাদের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্যাদি পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করবে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। সাগর সে সময় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি।

পরে আদালত র‌্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। ১২ বছর ৬ মাস ১৫ দিন পর র‌্যাবের কাছ থেকে হাইকোর্ট তদন্তের দায়িত্ব দেন উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্সকে।

এক দশক পর তনু হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ১০ বছর পর মামলার আসামি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়।

তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। ঘটনার পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

এই মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। এ মামলায় গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে।

হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

তনু হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গত ১ সেপ্টেম্বর রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল.

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%