০৩:৩৪ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে তিনটি ভিন্ন পথ নিয়ে চিন্তা করছেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার উপদেষ্টারা তিনটি ভিন্ন দিক থেকে তাকে প্রভাবিত করছেন। এই পথগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান, অন্যটি আবার যুদ্ধে ফিরে যাওয়া। আশা করা হচ্ছে, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রথম পথের সমর্থকরা হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তারা মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানো উচিত।
দ্বিতীয় পথের সমর্থকরা হলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তাদের মতামত হলো, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা উচিত।
আরও পড়ুন: অভিবাসন নীতিতে ইউ-টার্ন: যুক্তরাজ্যের কল্যাণমূলক খাতে ব্যয় বাড়ার কথা স্বীকার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তৃতীয় পথের সমর্থকরা হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ‘যুদ্ধও নয়, চুক্তিও নয়’ অবস্থান ধরে রাখা উচিত। তাদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে ইরান আমেরিকার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।
র্যাটক্লিফ ট্রাম্পকে আরও বলেছেন, যদি অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকে, তাহলে ইরানে অস্থিরতা বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিদ্রোহও করতে পারে। পর্যবেক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দেওয়াই ছিল ট্রাম্পের যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য।
ট্রাম্প কোন পথে এগোচ্ছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত কয়েক সপ্তাহে তিনি বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছেন। একই সময়ে তিনি নতুন করে আলোচনার দায়িত্ব ভ্যান্সকে দিয়েছেন। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে সরাসরি আলোচনা টেবিলে আনার চেষ্টা করছেন।
অ্যাক্সিওসের সূত্র অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা একটি খসড়া চুক্তি তৈরি করেছেন, যাতে তিন দিনের মধ্যে কয়েকটি আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। লক্ষ্য হলো আমেরিকা ও ইরানের সরাসরি আলোচনা আবার শুরু করা। দুই দেশের জবাবের অপেক্ষায় আছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল জানা যাবে কয়েক দিন পর
তবে এই ভাবনা চলাকালীন সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এটি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সীমিত হামলার সর্বশেষ ঘটনা।
যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা নিত্যপণ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোটাররা এর জন্য সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করছেন। এমনকি রিপাবলিকান প্রার্থী ও ভোটারদের কেউ কেউ তার থেকে দূরত্ব রাখছেন বলেও জানা গেছে।
যখন উপদেষ্টারা তাকে বিভিন্ন দিকে টানছেন, তখন ট্রাম্প বলছেন, সিদ্ধান্ত নিতে ‘কোনো তাড়া নেই’। অ্যাক্সিওসকে তিনি বলেন, ‘এভাবে হোক বা ওভাবে, আমরা কিছু একটা করব। তবে কোনো তাড়া নেই। আমরা ওদের আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছি। ওদের টাকা নেই, গ্যাসোলিন নেই। ওদের মানুষ এসবে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।’
নির্বাচনের আগে তিনি আরও বলেন, ইরানের হাতে চুক্তি করার তাড়া এখন কিছুটা কম। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ওরা চুক্তি করার তাড়াটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।’
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৫ পুলিশ সদস্য
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন