প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর শুক্রবার সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসরাইলের নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ইস্যু অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নির্বাচনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি ইসরাইলিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এবং তার ডানপন্থী মিত্ররা পশ্চিম তীরে সশস্ত্র তৎপরতা দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
নেতানিয়াহু জানান, অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়ে হেবরনের বাসিন্দাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া, বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালানো এবং ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ধ্বংস করা হবে।
১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলে নেওয়ার পর এত বড় পরিসরে অভিযান চালানোর ঘটনা ঘটেনি— এমন মাত্রার সামরিক অভিযানের হুমকিও দেন তিনি।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস হামলার দায় স্বীকার না করলেও ঘটনাটিকে ‘বীরত্বপূর্ণ অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
একই সঙ্গে সংগঠনটি সমর্থকদের আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।
হেবরনে দায়িত্ব পালনরত এএফপির এক আলোকচিত্রী অন্য একটি কাজে যাওয়ার পথে ফারশ আল-হাওয়া চেকপোস্টে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হতে দেখেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, পিস্তল ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেলে সজ্জিত দুই ফিলিস্তিনি ব্যক্তির সঙ্গে ইসরাইলি সেনাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। একপর্যায়ে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ওই দুই হামলাকারী নিহত হন।
পরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, জুডিয়া জংশন এলাকায় তাদের দুই সেনা ‘যুদ্ধে নিহত’ হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু সেনাদের প্রতিরোধের প্রশংসা করেন। তার দাবি, সেনারা ‘সম্ভাব্য বড় ধরনের একটি হামলা ঠেকিয়ে দিয়েছেন’। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিম তীরে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি বা কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ আরোপের নির্দেশ দেন।
পরে দিনের বেলায় হেবরন সফরকালে নেতানিয়াহু বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ও তিনি পশ্চিম তীরে বড় পরিসরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
তিনি বলেন, ‘১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে এ ধরনের অভিযান চালানো হয়নি। আইডিএফ অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুত। কখন তা শুরু হবে, সেই সময় আমরা নির্ধারণ করব। তবে অভিযান আসছে।’
নেতানিয়াহু জানান, প্রথম ধাপে ইসরাইলি বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানায় প্রবেশ করবে, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেবে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করবে।
এ ক্ষেত্রে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থীশিবিরগুলোতে আগে পরিচালিত অভিযানের আদলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সেই অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছিল।
ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন বিৎসেলেম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ইসরাইলের এই ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ দেওয়ার পরিকল্পনা ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে— এমন কর্মকাণ্ড ঠেকানো যায়।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এক মুখপাত্রও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের আরোপ করা বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অবরোধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এসব পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে উল্লেখ করে তিনি সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হেবরন এলাকায় ‘সন্ত্রাসবিরোধী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করেছে। এ সময় সন্দেহভাজন হামলাকারীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, পরে জানান যে বিভিন্ন স্থাপনা ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েও দায়িত্ব পালন করছেন।
এলাকাটি থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে স্মোটরিচ বলেন, ‘আমরা আমাদের শত্রুদের কাছে দ্ব্যর্থহীন বার্তা দিচ্ছি— ইহুদিদের ওপর হামলা করলে এর জন্য অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হবে।’
এর আগে শুক্রবার তিনি গাজার মতোই পশ্চিম তীরে বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
স্মোটরিচ বলেন, ‘পরবর্তী সরকারে এটি হবে আমাদের দাবির ভিত্তিতে নেওয়া প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি, যা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গাভির পশ্চিম তীরে সীমিত স্বায়ত্তশাসন পরিচালনাকারী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করার দাবি জানান।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর রামাল্লায়।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুডিয়া ও সামারিয়া অঞ্চলে এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকতে পারে না, যারা হত্যায় উসকানি দেয়, হত্যার আহ্বান জানায় ও হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করে।’
উল্লেখ্য, শুক্রবারের হামলার সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে— এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বেন-গাভির ও স্মোটরিচ উভয়েই পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের জোরালো সমর্থক। নেতানিয়াহুর সরকারের আমলে এসব বসতির বিস্তার ঘটেছে।
তবে আন্তর্জাতিক আইনে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালিয়েছিল হামাস। ওই হামলার পরই গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়।
শুক্রবারের হামলাকে হামাস ‘আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধ ও নৃশংস হামলার স্বাভাবিক এবং বৈধ প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন