প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পরিবহন নেতা এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি মন্তব্য করেছেন যে, রাজধানীর সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাংবাদিক, পুলিশ, পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য।
শিমুল বিশ্বাস উল্লেখ করেন, এই চারটি পক্ষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সমঝোতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে অসাধ্যকেও সাধন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর যানজট, সড়কে বিশৃঙ্খলা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
আজ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা শহরে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে ছয়টি বাস রুটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিমুল বিশ্বাস মন্তব্য করেন, ঢাকা নগরের জন্য এটি একটি সুসংবাদ। নানা যুদ্ধ, সংকট ও দুর্বিপাকের মধ্যেও রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর এই উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে। ঢাকা শহরের বিশৃঙ্খল অবস্থা, অসহনীয় যানজট এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের অনিরাপত্তার অবসান সকলের কাম্য। তবে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হলে কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
রাজধানীর জনসংখ্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রজেক্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা নগরে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছে। প্রায় চার কোটি মানুষের এই নগরী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জনবসতিপূর্ণ শহর। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের শহরে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
শিমুল বিশ্বাস আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং বিশৃঙ্খলা অন্যতম। এসব সমস্যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গেলে তার ইতিবাচক প্রভাব দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর বাংলাদেশের সামগ্রিক চিত্র বহন করে। একজন মানুষের মুখ দেখে যেমন তার ব্যক্তিত্ব ও শারীরিক অবয়ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, তেমনি ঢাকা শহরের অবস্থা দেখেও বিদেশিরা বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি করেন। বিদেশি অতিথিরা বিমানবন্দর থেকে সচিবালয় কিংবা কোনো হোটেলে যাওয়ার পথে রাজধানীর সড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজট দেখলে গোটা দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে ফিরে যান। এই মন্তব্য কোনো নির্দিষ্ট পরিবহন মালিক, শ্রমিক বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; বরং পুরো বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের নেতিবাচক মূল্যায়ন তৈরি হয়। তাই রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি চারটি পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। এগুলো হলো— পরিবহন শ্রমিক, মালিক, পুলিশ এবং সাংবাদিক। দেশের প্রায় ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিবহন খাতে যারা বিনিয়োগ করেছেন, সেই মালিকদেরও নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনায় এগিয়ে আসতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিশেষ করে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী লেখনীর মাধ্যমে এই উদ্যোগের পক্ষে ভূমিকা রাখতে হবে।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, এই চার পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। এখন সবাই পরিবর্তন দেখতে চান। বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে বের করে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসার প্রত্যাশা মানুষের। দেশের সব যুদ্ধ, সংঘাত ও লড়াইয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত দুঃখ, দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং অনাচার থেকে মুক্ত হয়ে একটি নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক আরও বলেন, বিশৃঙ্খলা আর সহ্য করার কোনো প্রয়োজন নেই। পরিবহন খাতের সবাইকে নিজ নিজ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে আসতে হবে।
রাজধানীর সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের আধিক্যের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের সড়কের একটি বড় অংশ রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের দখলে রয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও যাতায়াতের প্রয়োজনে এসব যানবাহনের গুরুত্ব রয়েছে। তবে একই সঙ্গে সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, যাতায়াতে দীর্ঘ সময় নষ্ট এবং কর্মঘণ্টার অপচয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। যানজটের কারণে প্রতিদিন যে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, তা হিসাব করলে এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করা যায়।
তিনি বলেন, রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব হবে। মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচবে, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সময় কম লাগবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে শিমুল বিশ্বাস বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ এ দেশের মানুষ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম। এই জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করতে হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি এবং পরিবহনসহ সব খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, সমুদ্রসম্পদ, পাহাড় এবং বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা এবং স্বার্থান্বেষী মহলকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে এসব উদ্যোগ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। তবে এবার পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করেছেন।
এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, এই উদ্যোগ যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে কিংবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ছবি তোলার মধ্য দিয়ে শেষ না হয়। বাস্তবে এর সুফল নগরবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, এ খাতের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, ত্রুটি এবং সমালোচনার বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত। এসব বিষয়ে আত্মসমালোচনা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, দেশের পরিবহন খাতের উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এখন সময় এসেছে সেই অভিজ্ঞতা ও অবদানকে কাজে লাগিয়ে একটি সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার। সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং এর সুফল পুরো দেশের মানুষ ভোগ করবে।
অনুষ্ঠানে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মশিউর রহমান, বিআরটিএর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমসহ সড়ক পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন