বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩২ পি.এম
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা অবৈধ বাংলাদেশি সন্দেহে গভীর রাতে মুসলিম নাগরিক ও শিশুদের আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠাচ্ছে। গত জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত নয়জন মুসলিম পুরুষ ও দুটি শিশুকে আটক করার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবীরা এই ধরনের পুলিশি অভিযানকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
নিপীড়নের শিকার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ গভীর রাতে তাদের বাড়িতে হানা দিয়ে কোনও ওয়ারেন্ট, রিমান্ড অর্ডার বা এফআইআরের অনুলিপি দেখায়নি।
আটককৃতদের মধ্যে অনেকের কাছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, এমনকি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের ভোটার তালিকাভুক্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
মুর্শিদাবাদের রামকান্তপুর গ্রামের ইব্রাহিম শেখের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মাসে একদল পুলিশ পরিচয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকে নাগরিকত্বের নথি দেখতে চায় এবং ‘বাংলাদেশি না ভারতীয়’- তা নিয়ে প্রশ্ন করে। পরে ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ ইব্রাহিমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপ সরকারি নির্বাহী আদেশের নির্দেশিকা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদের অন্যান্য পরিবার থেকেও একই কায়দায় গভীর রাতে মানুষজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমনকি কোথাও কোথাও আটককৃতদের পুশ-ব্যাক বা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের ঘটনাও ঘটেছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা বলছেন, নাগরিকদের এভাবে আটক করা মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন, কারণ কোনও সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: স্ক্রল ডট ইন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আমেরিকার শীর্ষ দৈনিক ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় বছরের সেরা ৫০টি রেস্তোরাঁর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে নিউ জার্সির বাংলাদেশি খাবারের দোকান ‘কড়াই কিচেন’। এই রেস্তোরাঁটি খাঁটি বাংলাদেশি ঘরোয়া খাবারের স্বাদের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
হাডসন কাউন্টিতে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি মা ও মেয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে, যার মালিকানা রয়েছে নূর-ই গুলশান রহমান এবং নূর-ই ফারহানা রহমানের।
‘কড়াই কিচেন’ মূলত বাংলাদেশি খাবারের জন্য পরিচিত। রেস্তোরাঁটিতে সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে প্রধানত পার্সেল বা টেকআউট সুবিধা প্রদান করা হয় এবং শুক্র ও শনিবার রাতে এখানে আয়োজন করা হয় আট পদের বিশেষ নৈশভোজ, যা ‘আম্মার দাওয়াত’ নামে পরিচিত।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ঘটনা কড়াই কিচেনের জন্য নতুন নয়। এর আগে গত বছর এনজে ডটকমের (NJ.com) করা নিউ জার্সির সেরা ৯৯টি রেস্তোরাঁর তালিকায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছিল এই প্রতিষ্ঠানটি।
নিউইয়র্ক টাইমসের পর্যালোচনায় কড়াই কিচেন সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘চিকেন টিক্কা মাসালা নেই’—এটি হলো নূর-ই গুলশান রহমান এবং তার মেয়ে নূর-ই ফারহানা রহমানের পরিচালিত এই ছোট্ট বাংলাদেশি রেস্তোরাঁটির মূলমন্ত্র। তারা মূলত ২০১৮ সালে বড় মিসেস রহমানের চমৎকার হাতের তৈরি ঘরোয়া খাবার নামে যাত্রা শুরু করেছিলেন। যেখানে স্টার্নো' বা বিশেষ হিটারের সাহায্যে বুফে পরিবেশন করা হতো এবং টেক-আউট ও ডেলিভারি সেবা প্রদান করা হতো। বর্তমানে তারা এই সেবাই দিয়ে থাকেন। তবে সপ্তাহে দুদিন রাতে এখানে বসে খাওয়ার সুযোগ রয়েছে—যেখানে তিন ঘণ্টা ধরে চলে আট পদে এক বিশাল ভোজ, যা শেষ পর্যন্ত পদের সংখ্যার বিচারে আটটির চেয়ে অনেক বেশি হয়ে দাঁড়ায়। কাঁচা মরিচ ও সরিষার তেলের ব্যবহার তাদের খাবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এছাড়া প্রতিটি চালের দানা থেকে শুরু করে সবকিছুই অত্যন্ত যত্ন ও সতর্কতার সাথে রান্না করা হয়। এখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় আপনার পেট যেমন ভরে ওঠে, তেমনি মনটাও প্রশান্তিতে ভরে যায়।
উল্লেখ্য, এর আগে নিউ জার্সির বেশ কয়েকটি খাবার দোকান নিউ ইয়র্ক টাইমসের বার্ষিক সেরা তালিকায় স্থান পেয়েছিল। ২০২৫ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন পার্কের ‘চাটপাটি দিল্লি’ এবং ২০২৪ সালে নিউফিল্ডের ‘সুইট আমালিয়া মার্কেট অ্যান্ড কিচেন’ এই তালিকায় স্থান পেয়েছিল। এ বছরের তালিকায় থাকা অন্য দুই বিখ্যাত রেস্তোরাঁর মধ্যে রয়েছে শিকাগোর ‘ক্রিপিজ’ এবং ফিলাডেলফিয়ার ‘বোম্ব বোম্ব’।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাকে সব ধরনের রাজনৈতিক বিরোধ ও সংঘাতের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, হারামাইন তথা মক্কা ও মদিনা বিশ্বের শতকোটি মুসলমানের প্রাণস্পন্দন এবং চূড়ান্ত সীমারেখা। মক্কা ও মদিনা কোনো রাষ্ট্রীয় রাজনীতির বিষয় নয়, তাই পবিত্র দুই নগরীর নিরাপত্তাকে সব রাজনৈতিক বিরোধ ও সংঘাতের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) একটি বিবৃতিতে চরমোনাই পীর এসব কথা বলেন।
মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সংবাদে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গতকাল মক্কা-মদিনায় যখন সতর্কতামূলক সাইরেন বেজেছে, তখন গোটা মুসলিম উম্মাহ থমকে গিয়েছিল। হারামাইন তথা মক্কা ও মদিনা বিশ্বের শতকোটি মুসলিমের প্রাণের স্পন্দন। এটি আমাদের চূড়ান্ত সীমারেখা। মক্কা ও মদিনা সব রাষ্ট্র-রাজনীতির ঊর্ধ্বের বিষয়।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, স্বস্তির বিষয় হলো, হুতিদের পক্ষ থেকে মক্কা-মদিনার নিরাপত্তার প্রতি কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি না করার বার্তা পাওয়া গেছে। তাদের এই অবস্থানের ওপর অটল থাকতে হবে।
একই সঙ্গে সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু ইসলামের প্রধান দুই পবিত্র স্থানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সৌদি সরকার পালন করছে, তাই তাদের এমন কোনো রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়, যাতে পবিত্র দুই শহরের প্রতি কোনো ধরনের হুমকি তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, মক্কা-মদিনা ও জাজিরাতুল আরবের শান ও মর্যাদা রক্ষা করাও সৌদি সরকারের দায়িত্ব।
হারামাইনের নিরাপত্তার সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, হারামাইনের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা, বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘকাল ধরে আমেরিকায় বসবাস করলেও ঢাকাই সিনেমার খ্যাতনামা নায়িকা মৌসুমী বিভিন্ন কারণে বা কাজের সুবাদে মাঝে মাঝে সংবাদ শিরোনামে আসেন। যদিও তিনি পারিবারিক কারণে দূরে রয়েছেন, তবুও ভক্তদের জন্য হঠাৎ করে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে উপস্থিত হয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, চিত্রনায়ক ওমর সানী তার ফেসবুক পৃষ্ঠায় মৌসুমীর এই ভিডিওটি পোস্ট করার পর থেকেই এটি আলোচনা ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
মূলত, নিজেদের পারিবারিক রেস্টুরেন্ট ব্যবসার নতুন উদ্যোগের বিষয়ে জানাতেই জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ভিডিও বার্তা প্রদান করেছেন। ভিডিওতে মৌসুমী উল্লেখ করেন, তাদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি রেস্টুরেন্ট’-এর প্রথম শাখা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
এর ধারাবাহিকতায়, সাভারের হেমায়েতপুরে রেস্টুরেন্টটির নতুন শাখা উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করা হবে। ঐতিহ্যবাহী ‘চাপ’-এর পাশাপাশি নতুন শাখায় সব ধরনের বাঙালি খাবার পাওয়া যাবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, এই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। এর আগে প্রায়ই ওমর সানী ও মৌসুমীর দাম্পত্য জীবন নিয়ে বিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা যেত।
তবে সম্প্রতি একটি ভিডিও কলে তাদের সাবলীল কথোপকথন এবং রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রচারে মৌসুমীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সব গুঞ্জনকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছে।
এতে স্পষ্ট হয় যে, সমস্ত গুঞ্জনকে পেছনে ফেলে এই তারকা দম্পতির সম্পর্ক ও বোঝাপড়া এখনো বেশ সুমধুর ও অটুট রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নূর জাহান। মৃত্যুর সময় তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং এই মর্মান্তিক ঘটনায় তার অনাগত সন্তানকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত নূর জাহানের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ মৌছাগাছা এলাকায়। তার স্বামী জোবায়ের হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল এবং আগামী মাসেই তাদের প্রথম সন্তানের ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা ছিল।
গত শুক্রবার মুরাদনগরের নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন নূর জাহান। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নূর জাহানের আকস্মিক এই প্রয়াণে তার পরিবার, পরিচিতজন ও পুরো শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভিক্টোরিয়া কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মারুফ জানান, নূর জাহান ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৬১তম আবর্তনের একজন অত্যন্ত মেধাবী ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন।
তার অকালমৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা বলেন, নূর জাহান অত্যন্ত আন্তরিক ও মেধাবী একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ