০৫:৩৬ পি.এম
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় (কেপি) কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে হঠাৎ জরুরি অবস্থার ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইকে সরিয়ে প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তটি রোববার (১১ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে জিও নিউজে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসী হামলার বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে জরুরি অবস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের (পিএমও) একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারির কাছে পাঠানো হয়েছে।
জরুরি অবস্থার অংশ হিসেবে খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ারে মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু সড়ক যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাসিন্দাদের যোগাযোগে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। শহরজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং রেড জোন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সড়ক বন্ধ থাকার কারণে পেশোয়ারের বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রদেশটির আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সদস্যদের অবহিত করা হয়। বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমনে কেপি সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রদেশটির অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। উল্লেখ্য, প্রদেশটিতে ক্ষমতায় রয়েছে ইমরান খানের দল পিটিআই।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
তবে, কেপির পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের মাধ্যমে শেষবারের মতো চেষ্টা চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, খাইবার পাখতুনখোয়ার সরকার সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে সরে রয়েছে।
সূত্রমতে, বৈঠকের সময় উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন। এর আগে রোববার ভোর ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন ফজলুর রহমান। বৈঠকে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্ব এবং বিরোধী দলের অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন ফজলুর রহমান।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন প্রদেশটির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি। সাবেক ফেডারেলি অ্যাডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াস (ফাটা), ট্যাঙ্ক, ডেরা ইসমাইল খান, লাক্কি মারওয়াত ও বান্নুসহ আটটি জেলার জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
প্রস্তাবিত সচিবালয়ে একজন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) থাকবেন। এর সদর দপ্তর সাবেক উপজাতীয় এলাকার কোনো একটি জেলায় স্থাপন করা হতে পারে। এ সচিবালয়ের জন্য বিশেষ তহবিল দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন