১০:৩৮ পি.এম
ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : আদালত সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেছে। চার্জশিট গ্রহণের অপর আসামিরা হলেন— আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক কলি, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল।
আজ রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবীর এ চার্জশিট গ্রহণ করেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ সালাম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: মিরপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক দগ্ধ
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। মামলাটির তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তার বৈধ আয় থেকে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে নিট গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
দুদক জানায়, জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে থাকা সম্পদের মধ্যে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার এবং ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার রয়েছে।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
তদন্তে আনিসুল হক ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন