ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের মোনাল পাখি


মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের মোনাল পাখি

মানুষের কর্মকাণ্ডের বিস্তারে হিমালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পাখি মোনালের জীবনযাপন পরিবর্তিত হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন ও শব্দদূষণের কারণে পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল ত্যাগ করে আরও উঁচু এলাকায় চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে যোগাযোগ বজায় রাখতে ডাকের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে মোনালের।

ভারতীয় গবেষকদের পাঁচ বছরের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, মানুষের উপস্থিতি বাড়ার ফলে মোনালের স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ড. রাজীব লোচন জানান, মোনালের আবাসস্থলের পরিসর তুলনামূলকভাবে ছোট। ঋতুভেদে পাখিটি পাহাড়ের নিচের ঢাল থেকে উঁচু আলপাইন অঞ্চলে চলাচল করে। এ কারণে উত্তর-পশ্চিম হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে মোনালকে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

গবেষকেরা উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ওপর মোনালের সম্ভাব্য আবাসস্থল নিয়ে একটি মডেল তৈরি করেছেন। এতে দেখা গেছে, বরফ গলার ফলে উঁচু এলাকায় গাছপালা ছড়িয়ে পড়ায় সেসব স্থান ধীরে ধীরে মোনালের জন্য উপযোগী হয়ে উঠছে। অন্যদিকে মানুষের দখল ও কর্মকাণ্ডের কারণে নিচের আবাসস্থল হারিয়ে পাখিগুলো ওপরের দিকে সরে যাচ্ছে।

গবেষকদের আশঙ্কা, এভাবে আবাসস্থল পরিবর্তনের ফলে মোনালের ঋতুভিত্তিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট এলাকায় আটকে পড়লে তাদের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিলুপ্তির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অন্য গবেষণায় মোনালের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়। রাজীব লোচন, দীনেশ কুমার শর্মা ও আনন্দ কুমারের নেতৃত্বে উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মাস্ক ডিয়ার স্যাংচুয়ারির চোপতা ও মদমহেশ্বর উপত্যকায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়। চোপতা একটি ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র হলেও মদমহেশ্বর তুলনামূলকভাবে শান্ত এলাকা।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এক বছর ধরে গবেষকেরা ৭০০টির বেশি মোনালের ডাক রেকর্ড করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, শান্ত এলাকার তুলনায় কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে থাকা মোনাল অপেক্ষাকৃত তীক্ষ্ণ স্বরে এবং ছোট ছোট ডাকে যোগাযোগ করছে।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

ড. লোচনের মতে, এতে মোনালের কণ্ঠে স্থায়ী বা বিবর্তনমূলক পরিবর্তন এসেছে—এমনটি বলা যায় না। বরং শব্দময় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পাখিগুলো আচরণগতভাবে ডাকের ধরন বদলাচ্ছে।

পরিবেশবিদ বিশাল সিং বলেন, দুটি গবেষণাই আরও অরক্ষিত প্রজাতির জন্য সতর্কবার্তা। আর ফ্লেম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও আইপিসিসি প্রতিবেদনের কন্ট্রিবিউটর আঞ্জাল প্রকাশের মতে, মানুষের শব্দ ও উপস্থিতির কারণে মোনালের কণ্ঠ ও আবাসস্থলে পরিবর্তন হিমালয়ের জীববৈচিত্র্যের ওপর বাড়তে থাকা চাপের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

গবেষণা দুটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, মোনালের আবাসস্থল ও আচরণে পরিবর্তন হিমালয়ের বৃহত্তর পরিবেশগত পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘শব্দচয়নে ভুল হয়েছিল’, সাংবাদিকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


‘শব্দচয়নে ভুল হয়েছিল’, সাংবাদিকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়ার

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর সাংবাদিকদের উদ্দেশে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া।

বুধবার (৭ অক্টোবর) তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে একটি ফেসবুক পোস্টে আগের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ডা. কেয়া লেখেন, ‘এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন।’ তার এই মন্তব্যের কারণে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।

পরদিন দেওয়া পোস্টে, আগের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডা. কেয়া জানান, তার মন্তব্যটি সকল সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে ছিল না। তিনি দাবি করেন, শব্দচয়নে ভুলের কারণে এমনটি ঘটেছে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সকল সাংবাদিক ভাইদের বলছি, আমার পূর্বের পোস্টে ভুলবশত সকল সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে যে লেখাটা লিখেছি, সেটার জন্য দুঃখিত। শব্দচয়নে ভুলবশত এমন হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, তার ওই পোস্টটি শুধুমাত্র কয়েকজনকে উদ্দেশ্য করে ছিল, যারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি সকলকে এক কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাননি বলেও উল্লেখ করেন।

এর আগে, চৌদ্দগ্রামে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় এশিয়া পোস্টের ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন ডা. কেয়া।

সম্প্রতি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার খামার পুষ্করণী গ্রামের প্রসূতি নাজমা আক্তারের সন্তান প্রসবের ঘটনায় ডা. কেয়ার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ করেন তার স্বজনরা।

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হলেও একপর্যায়ে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। তারা দাবি করেন, নবজাতকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে প্রসূতি নাজমাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. কেয়া। সাংবাদিকদের তিনি জানান, তিনি স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেছিলেন এবং রোগীর অবস্থা ভালো না থাকায় দ্রুত তাকে কুমিল্লা শহরে পাঠিয়ে দেন। নবজাতকের মৃত্যু ও মাথায় আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলার কথা জানান এই চিকিৎসক।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ বিভিন্ন স্থানে রাতভর অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৫ শিশুর পাশাপাশি একাধিক নারীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারায় শিশুরা।

শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং পাঁচতলা ভবনের অর্ধেক অংশই পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়ানো ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রুশ হামলায় প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ২০ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের পাশাপাশি আহত হয়েছেন বহু মানুষ। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে আরও সাত শিশু রয়েছে। তিনি রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বেসামরিক সাধারণ শহর ও বেসামরিক জীবনযাত্রাকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার হলো সন্ত্রাস সৃষ্টির এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।

ইউক্রেনের নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ৪০ বছর বয়সি ওলেনা সায়ুন এএফপি-কে বলেন, "আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণে আমাদের জানালার কাঁচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে, আমরা নিজেদের শরীর দিয়ে আমাদের শিশু সন্তানকে আগলে রেখেছিলাম। আমার স্বামীর পিঠে এবং আমার শরীরেও কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, হামলার সময় আমাদের সন্তানের প্রচণ্ড মানসিক আঘাত বা ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ হয়েছিল এবং সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমের দিকে ছুটে গিয়েছিলাম এবং অ্যাপার্টমেন্টের সবকিছু যখন তছনছ হয়ে যাচ্ছিল, সে সময় আমরা সেখানেই ছিলাম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার তরফ থেকে একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। ওই বার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছিল।

শীতকাল ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজধানীতে হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে এবং প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বেজে চলেছে।

উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাতের জন্য সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো প্ল্যাটফর্মে গাঢ় রঙের হুডি পরে এবং চারপাশে ব্যাগ নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় এএফপি-কে বলেন, "আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি।"

তিনি বলেন, "পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আমরা কর্মস্থলে আটকা পড়েছিলাম এবং সবাই—আমাদের গ্রুপের চ্যাট বা বসরা—আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন।"

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেছেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ এবং নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

অনলাইন মার্কেটিংয়ে কর্মরত ৩১ বছর বয়সি ইউলিয়া শামরাই, যিনি প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির কাছেই থাকেন। তিনি বলেন, "এই হামলার মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার কোন সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না।"

সূত্র: এএফপি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহাকাশে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট-১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


মহাকাশে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট-১

বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ বা বিএস-১ মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। ভারতের একটি পুরোনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বিপজ্জনকভাবে বিএস-১-এর কাছে চলে আসায়, স্যাটেলাইটটিকে সামান্য সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে, ধ্বংসাবশেষটি মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে পাশ কাটিয়ে গেলে শঙ্কা কেটে যায়।

ঘটনাটি শুরু হয় ৯ আগস্ট সন্ধ্যায়। গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে জরুরি সতর্কবার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘স্পেস ট্র্যাকার’ জানায়, বিএস-১-এর কক্ষপথের খুব কাছ দিয়ে মহাকাশ বর্জ্য ধেয়ে আসছে।

বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন। কারণ, মহাকাশে দুটি স্যাটেলাইট বা বড় বস্তুর সংঘর্ষ হলে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সচল একটি স্যাটেলাইট ও রাশিয়ার নিষ্ক্রিয় একটি স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে এমন ঘটনা ঘটেছিল।

বিএস-১-এর ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কয়েক দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও হিসাব-নিকাশ চলে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই চার দিন চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে কাজে যুক্ত করা হয়, এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখেন।

পরে জানা যায়, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা মহাকাশ বর্জ্যটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ‘ইনস্যাট-১এ’ স্যাটেলাইটের একটি অংশ। এর আগে ২০২১ ও ২০২৫ সালে বিএস-১ একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর বিএস-১-এর কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কৌশলে স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় অপেক্ষার পালা। শেষ পর্যন্ত, মহাকাশ বর্জ্যটি বিএস-১-কে মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে পাশ কাটিয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের স্যাটেলাইটটি বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়।

বিপদ কেটে যাওয়ার পর বিএস-১-কে আবার তার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের এই সফল পদক্ষেপ মহাকাশে স্যাটেলাইট পরিচালনা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলারোয়ায় একই পরিবারের ১৫ জন অচেতন, ঘটনা কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


কলারোয়ায় একই পরিবারের ১৫ জন অচেতন, ঘটনা কী

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের ১৫ জন নারী-পুরুষ চেতনানাশক বিষাক্ত স্প্রের কারণে অসচেতন হয়ে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এটি বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের দামোদরকাঠি গ্রামের দাউদের বাড়িতে ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দাউদ, রিপন ও পারভীন খাতুন নামে তিনজন বাড়ির আঙিনায় কাজ করার সময় মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে কলারোয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর দিনভর নারী-পুরুষ ও শিশু সহ একের পর এক ১৫ জনকে অচেতন অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় রাত ৯টা পর্যন্ত।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে রয়েছেন- পারভীন খাতুন, আবু দাউদ, সিনথিয়া, আবু রায়হান, হাফিজুর রহমান, মেসের আলী, সকিনা খাতুন, রিপন হোসেন, আসমা খাতুন, মমতাজ বেগম, শিশু মেহনাজ, খালিদ হোসেন, সিয়াম হোসেন ও শামীমা খাতুন।

এলাকাবাসীর ধারণা, মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একটি বিশেষ স্প্রে ব্যবহার করে অজ্ঞান করে বাড়ির জিনিসপত্র চুরি করতে পারে। এর আগে ওই গ্রামে এভাবে বাড়ির লোকজনকে অজ্ঞান করে দুটি মোটরসাইকেল ও একটি ইজিবাইক চুরি হয়।

উপজেলা প্রশাসন এবং কলারোয়া থানা পুলিশকে এলাকাবাসী মাদকাসক্ত যুবকদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, তারা যেকোনো ধরনের চেতনানাশক বিষাক্ত স্প্রের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%