০৯:৩৭ পি.এম
সম্প্রতি, নেপালে হিমালয়ের বিশাল বরফ ধসের ফলে একটি ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬২৬ জন। বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, ৪,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় এখন আর তুষারপাত হচ্ছে না, বরং সরাসরি বৃষ্টি হচ্ছে, যা নদীগুলোতে হঠাৎ করে পানির জোয়ার সৃষ্টি করে বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
তবে এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির পূর্বাভাস আগেই দেওয়া হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে ‘আইসিআইএমওডি’ নামক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছিল যে, হিমালয়ের বরফ আগের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে গলছে।
১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহগুলো প্রায় ১২ শতাংশ এলাকা এবং ৯ শতাংশ বরফ হারিয়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে হিসাব করলে, এখানকার প্রায় ২৭ মিটার পুরু বরফের স্তর সম্পূর্ণরূপে গলে গেছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
উচ্চ হিমালয়ের এই বরফই এশিয়া মহাদেশের প্রধান পানির উৎস। ভারত, নেপাল, চীন এবং ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ এই নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল, যা পানীয় জল, কৃষিকাজ এবং বিদ্যুতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ওই অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে খালি পাথর বের হয়ে আসছে, যা সূর্যের তাপকে বেশি টেনে নিয়ে অঞ্চলটিকে আরও উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক করে তুলছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, উচ্চ পাহাড় থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নদীতে গিয়ে পড়ার কারণেই নেপালে এমন প্রলয়ঙ্করী ঢল নেমেছিল। হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার এই চিত্রটি আসলে পুরো বিশ্বের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা।
সূত্র: এনডিটিভি।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন