০৭:২৫ পি.এম
মাগুরা জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে যুবদল নেতা সাকের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম জাহিদ পুলিশের কাছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে যে, পরিবহণ থেকে ডাকাতি করা সোনার ভাগাভাগির কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
গত ২১ অক্টোবর বুধবার ভোরে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাকের হোসেন, যিনি মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সাকের শহরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কাজ করছিলেন।
আরও পড়ুন: বড়দিনের জন্য দুই কোটি অনুদানের বদলে প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি টাকা
ঘটনার দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে কাউন্টারে ঢুকে সাকেরকে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মৃত্যু ঘটে। হত্যাকাণ্ডের সময় জড়িত ব্যক্তিরা সাকেরের স্ট্রোক করে মারা যাওয়ার খবর প্রচার করে দ্রুত লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফনের তোড়জোড় শুরু করে। তবে বাড়িতে নেওয়ার পর মাথা থেকে রক্ত বের হতে দেখে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ময়নাতদন্তে মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাকেরের স্ত্রী শারমিন নাহার মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার রাতেই সাকেরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঢাকা মহানগর যুবদলের সদস্য রনি শিকদার ও তার বান্ধবী শামীমা তাবাসসুম লুবনাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। পরে রিমান্ডে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় অনিমেষ মজুমদার নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নবনির্বাচিত শ্রমিক নেতা মারুফ হোসেনকে।
সর্বশেষ মারুফকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় গ্রেফতার হন গোলাম জাহিদ।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ৬ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রামনগর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল পরিবহণটি থামিয়ে নিজেদের পুলিশ পরিচয়ে মজিবর রহমান নামে ওই পরিবহণের এক যাত্রীকে নামিয়ে নিয়ে তার কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কেড়ে নেয়। পরে তাকে শাবলগাছা এলাকায় একটি মাঠের মধ্যে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে তারা চলে যায়।
আরও পড়ুন: নওগাঁ জেলা কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনের মৃত্যু
মজিবর রহমান ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন। তিনি ডাকাতি হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ ১৫০ ভরি উল্লেখ করেছেন, তবে ধারণা করা হচ্ছে যে, সেই পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
মাগুরা ডিবির এসআই কামরুজ্জামান সাকের হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে গোলাম জাহিদকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত রাতে তাকে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সাকের হত্যাকাণ্ড এবং স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন