১১:৩০ পি.এম
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রান্তিক উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে সরকার প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মোংলা বন্দরকে আরও সচল করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং সুপেয় পানির সংকট নিরসনের জন্য সুনির্দিষ্ট ঘোষণার প্রত্যাশা করছেন।
বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেছেন।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বাগেরহাটে উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলে লবণাক্ততা এবং সুপেয় পানির দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে।
আরও পড়ুন: বরিশালে জোড়া কবর জেগে ওঠার রহস্য উদ্ঘাটন করলো প্রশাসন
এছাড়া, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ, পুনরায় রেল চালু, স্থানীয় তরুণ জনগণের কর্মসংস্থান, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, মোংলা বন্দরের নাব্যতা বৃদ্ধি, জেটি ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজম এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের সঠিক সমন্বয়ের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
মোংলা বন্দরে জাহাজ চলাচলে নাব্যতা সংকট দূর করার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কল-কারখানা স্থাপনের সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সরদার জাহিদ হোসেন বলেন, "আপনারা জানেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর আমাদের মোংলাতে, কিন্তু সেই সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে আমাদের এখানে পর্যাপ্ত শিল্প কল-কারখানা গড়ে ওঠে নাই। এই ধরনের পরিবেশ তৈরি হয় নাই। আমাদের এই মোংলা বন্দরটি নাব্যতা সংকটের জন্য বড় জাহাজ এখানে আসতে পারে না। ট্রি ট্যাংকর থেকে ডাবল খরচ হয়। আমরা এই অঞ্চলে যেখানে ব্যবসা করি, তারাও ট্রি ট্যাংক মুখী। কীভাবে বন্দরটাকে গতিশীল করা যায় এবং পাশাপাশি বিমানবন্দর এবং গ্রামে সাধারণ আ আ উপজেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য যাতে শিল্প কলকারখানা স্থাপন করতে সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায়, এ ব্যাপারে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ বলেন, "বাগেরহাটবাসীর অনেক প্রত্যাশা মানবিক প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বাগেরহাটবাসীর চাওয়া একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, সুপেয় পানির জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। এছাড়া পর্যটনখাত বিকাশিত হবে এবং মোংলা বন্দরের ব্যবসা বাণিজ্য আরও প্রসারিত হবে।"
আরও পড়ুন: ঢাকা দক্ষিণে ই-রিকশা নিবন্ধন ফরম বিতরণ, মূল্য ১০০ টাকা
তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘদিন যাবত জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কোনো কমিটি নেই। সাংগঠনিকভাবেও বিএনপি দীর্ঘদিন খারাপ অবস্থানে আছে। সেখান থেকে সাংগঠনিকভাবে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটিগুলো জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে দৃষ্টি দেবেন বলে আমরা আশা করি।"
বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, "১৭ বছর আমাদের দেশে গণতন্ত্র ছিলো না। আমরা গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করবার আগেই তিনি ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিলেন। সারা দেশে সে সময় উন্নয়ন উনি চান। তিনি বিশেষ করে আমাদের এই অঞ্চলের মোংলা পোর্ট, সুন্দরবন কেন্দ্রিক যে উন্নয়ন, সেই উন্নয়নকে তড়িৎ করার জন্য ইতোমধ্যেই তিনি প্রায় ১৫ দিনের কম সময়ের মধ্যে ২বার মোংলা বন্দর সফর করেছেন। খুলনায় সফর করছেন। ৫ নভেম্বর খানজাহান আলী (রহ) মাজার জিয়ারত করবেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কাছে প্রত্যাশা তার যে কমিটমেন্ট, সারা দেশের মতো বাগেরহাটে একটা মেডিকেল কলেজ হবে, এখানে একটা বিশ্ববিদ্যালয় হবে।"
এছাড়া, এখানে যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন তড়িৎ হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ বাগেরহাট জেলায় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নজরদারি ও নতুন উন্নয়ন কর্মসূচির ঘোষণা এলে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করেন তিনি।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, "আমাদের বাগেরহাটে একটা লবণাক্ত এলাকা, এখানে বেড়িবাঁধ অনেক প্রয়োজন। দক্ষিণাঞ্চল নদীর গর্ভে দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে, নদীগুলো সবই নব্যতা হারাচ্ছে, সেইজন্য পানি দিন দিন বাড়ছে, এর জন্য আমাদের বেড়িবাঁধ দরকার। বাগেরহাট অঞ্চলে সুপেয় পানির অভাব, এখানে সুপেয় পানির প্রয়োজন। বিশেষ করে পৌরসভায় কেউই পানি পায় না। আমরা খুবই দূর অবস্থার মধ্যে আছি। এছাড়া এখানে বিমানবন্দর চালু করা দরকার।"
আরও পড়ুন: নওগাঁ জেলা কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনের মৃত্যু
বিএনপি নেতা আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতেই বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করার দাবি জানাচ্ছি। খানজাহান, আলী রহমাতুল্লাহ এর পণ্যভূমি বাগেরহাট ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। এইসব নিদর্শনগুলো আর্কোলজির মাধ্যমে যদি নেয়া হয়, তাহলে আমার মনে হয় এগুলো সুন্দরভাবে সংস্কার হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন