বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:২৫ পি.এম
ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : চাদের পূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় পানির তীব্র সংকটের ফলস্বরূপ কূপের পানি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সংঘাত বাড়ছে। খরা ও দারিদ্র্যের শিকার মরু অঞ্চলের এই সংকট জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আবেচেতে প্রায়ই কলে পানি পাওয়া যায় না। দ্রুত নগরায়ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, শহরটির জনসংখ্যা ৫ লক্ষাধিকেরও বেশি। শহরের কিছু এলাকা পানি সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু তা নিয়মিত নয়।
প্রখর রোদে প্রায়ই নারীদের জেরিক্যানে করে কূপ থেকে পানি নিয়ে আসা দেখি, তারা লালচে মাটির পথে রঙিন ওড়না পরে বাড়ি ফেরেন।
আবেচে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ব্যবসায়ী ইসা মাহামাত বলেন, "দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কলে একেবারেই পানি আসে না। গভীর রাতে আবার পানি প্রবাহ শুরু হয়।" আবেচের অন্যান্য অনেক এলাকায় পাওয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ।
বাসিন্দা কাদিদজা এএফপিকে বলেন, "আমরা এখনো অর্থের বিনিময়ে পানি কিনি। কলের পানির সঙ্গে এখনো পরিচিত হতে পারিনি।"
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চাদের ১০ শতাংশেরও কম পরিবার নিরাপদ ও সার্বক্ষণিক প্রবাহমান পানির সুবিধা পাবে।
-অবকাঠামোর ঘাটতি-
আধা-মরু অঞ্চল নিয়ে গঠিত চাদ জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ২০০৩ সালে দেশটি তেল উৎপাদন শুরু করলেও এখনো চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। দেশটির ৭০ শতাংশের বেশী মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো গড়ে উঠতে না পারায় সরকার ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৯ সালে আবেশে থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের বিতিহা এলাকায় একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। সেখানে কয়েকটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে শহরের দুটি পানির টাওয়ারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক বাখিত ডিকি বারকাই জানান, "মানুষের পানির চাহিদা খুবই তীব্র। বিতেহা-২ প্রকল্প উৎপাদন বাড়াবে এবং পরিবারের চাহিদা পূরণ করবে।" তিনি বলেন, "সংকট পুরোপুরি দূর না হলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"
বারকাই আরও জানান, আগে তাপপ্রবাহের সময় পানির সংকট স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেত। তবে গত তিন বছরের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, "বছরের শেষ নাগাদ আমরা প্রতিদিন ২৫ হাজার ঘনমিটার পানি উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছাব। তখন আবেচেতে আর পানির সংকটের কথা থাকবে না।"
চিতেয়ে এলাকার বাসিন্দা আহমেদ ইউসুফ বলেন, "সৌভাগ্যক্রমে আমাদের এলাকায় নতুন পানির টাওয়ার স্থাপন হওয়ায় এখন আমরা স্বস্তিতে আছি। পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছি।"
তবে নতুন অবকাঠামো এখনো সবার চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
-দারিদ্র্য ও সংঘাত-
শহর ও গ্রামের মধ্যে পানির প্রাপ্যতার বৈষম্য এখনো বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে যাচ্ছে। পানির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ অনেক সময় প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হচ্ছে।
চাদের প্রেসিডেন্ট মাহামাত ইদ্রিস দেবি ইতনো সম্প্রতি পানি বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে এ সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ১৫ জুলাই রাজধানী এন'জামেনায় অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "যখন পানির স্তর নেমে যায় বা পানির ঘাটতি দেখা দেয়, তখন দারিদ্র্য দ্রুত বাড়ে। মানুষ ও গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাতও বেড়ে যায়।"
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ও মধ্য আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের দেশ চাদ আফ্রিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা সবচেয়ে অরক্ষিত দেশগুলোর একটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএ’র বিভিন্ন স্থাপনায় ইরান নিখুঁত ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা এই ব্যাপারে খতিয়ে দেখছেন যে রাশিয়া কোনও ধরনের টার্গেটিং ইনফরমেশন কিংবা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করেছে কি না।
এ তথ্যটি ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স চার জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তির বরাতে জানিয়েছে, যাঁরা মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের বিষয়ে অবগত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা বলেছেন, সিআইএ’র স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।
তবে হামলাগুলোর কার্যকারিতা, নিখুঁত নিশানা এবং ইরানের প্রতি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তাকে সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত, রয়টার্সসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে আসছে রাশিয়া।
অথচ সিআইএ’র স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার এই তদন্তের বিষয়টি আগে প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে ইরান সিআইএ’র অন্তত দু’টি গোপন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সেগুলোর মধ্যে একটি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে থাকা সিআইএ স্টেশন এবং অন্যটি পূর্ব ইরাকে অবস্থিত একটি আলাদা ঘাঁটি ছিল।
কিছু সূত্র জানাচ্ছে যে, সিআইএ’র আরও কিছু ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, তবে তারা বিস্তারিত ভুল করেনি।
নথি দেখার সুযোগ রয়েছে এমন এক কর্মকর্তার বর্ণনায় পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে যে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ওই কর্মকর্তা মেমোটির নির্দিষ্ট রচয়িতার নাম জানাননি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে নিয়োজিত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে তাদের যে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে, তাতে বিশ্লেষকদের ধারনা যে সৌদি আরবে হামলায় শাহেদ ড্রোনের উন্নত দুটি রুশ সংস্করণ ব্যবহার হয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাসের বাইরের দেয়ালের একটি দুর্বল অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গর্ত তৈরি করে।
আর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ও বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গত সপ্তাহে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সেনা ব্যারাক লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।
এই ঘটনার পর ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার জন্য রাশিয়া সহায়তা করছে বলার আশঙ্কা অনেক বেড়ে গেছে।
অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে যে, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ‘কোমেটা-এম’ সরবরাহ করার মাধ্যমে ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নিখুঁত নিশানাভেদের ক্ষমতা উন্নত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তুলনায় এই ব্যবস্থা অনেক বেশি নিখুঁত এবং জ্যাম করা (বাধাগ্রস্ত করা) কঠিন।
যদিও ইরানকে সমরাস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করার বিষয়টি রাশিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন নতুন একটি মাত্রা পেয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটিকে রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে, সেই প্ল্যাটফর্ম এখন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দাঁড়িয়েছে। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের দমনপীড়নের ছবি এবং ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও বলপ্রয়োগের বিভিন্ন ভিডিও ইনস্টাগ্রাম, এক্স এবং টিকটকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিও তরুণদের মাধ্যমে মিম, রিলস এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন করে প্রচারিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি তাদের আন্দোলনের সরাসরি সম্প্রচার।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সংগঠন কাকরোচ জনতা পার্টি সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে। সংগঠনটির তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক লাখ পাঁচ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ, ধাতব পেলট এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। যদিও পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে আন্দোলনকারীদের ধারণাকৃত অসংখ্য ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওর প্রভাবে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, লখনউ এবং আইজলেও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তরুণরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মিম, অ্যানিমে, কমিকস এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করছে। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অনেককে স্পাইডার ম্যান, আয়রন ম্যান কিংবা হাল্কের পোশাকে দেখা গেছে। কেউ আবার জাপানি অ্যানিমে ওয়ান পিসের ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করছেন।
তরুণদের দাবি, অতীতে সরকারের সমালোচনা করার সময় যে ভয় কাজ করত, বর্তমানে তা অনেকটাই কেটে গেছে। তারা ইউটিউব বা মূলধারার গণমাধ্যমের পরিবর্তে নিজেদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে ঘটনাগুলো পৃথিবীজুড়ে তুলে ধরছেন।
ডিজিটাল মাধ্যমে আন্দোলনের প্রভাব বাড়তে শুরু করার পটভূমিতে বৃহস্পতিবার নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে না। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি।
তবে মোদীর এই বক্তব্যের পরেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ছবির ওপর মোদীর মন্তব্য ব্যবহার করে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট প্রকাশ করেছেন। সেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, হাই, আমার নাম গুরুত্বপূর্ণ কিছু না।
আল জাজিরার মতে, ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং ব্যঙ্গের সমন্বয়ে ভারতের তরুণ প্রজন্ম একটি ডিজিটাল আন্দোলন গড়ে তুলেছে, যা সরকারের জন্য নতুন ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের সর্বভারতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) বিষয়ক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এবার সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কলকাতায় মিছিল করেছেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাস থেকে ‘মহা মিছিল সংহতি সভা’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করার দাবি জানান। পাশাপাশি, তারা বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, গত সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির কারণে দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে, মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তুলে নেন। প্ল্যাকার্ডে ‘মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও’ এবং ‘স্বৈরাচারী সরকার আর নয়’ সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
এদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নতুন একটি গান প্রকাশ করেছেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী রূপম ইসলাম। গানটির অংশ তিনি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন। একই দাবিতে মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগরে নীরব কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। তার কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের দাবিতে ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের বক্তব্য এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। পরে, তারা প্ল্যাকার্ড হাতে সংসদের ভেতরে বিক্ষোভে অংশ নেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী দিল্লি ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শহর, যেমন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, কলকাতা, এসব স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তাই নরেন্দ্র মোদির কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার নিজেদের সুর অনেকটাই নরম করেছে। তারা এখন আন্দোলনকারীদের ‘সুবিধাজনক যেকোনও সময়ে’ আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, বুধবার থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য চারটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনরত গোষ্ঠীগুলো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ‘যন্তর মন্তর’ কিংবা অন্য কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছে।
জিতেন্দ্র সিং আরো বলেন, “বুধবার দুপুর থেকে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনার জন্য চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার আপনাদের সুবিধামতো যেকোনও সময় সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।”
মন্ত্রী আরও জানান, আলোচনার সময় তার সহকর্মী মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “আলোচনা জেপি নাড্ডার কার্যালয় বা বাসভবনে হতে পারে। আমরা অহমিকা বা মর্যাদার লড়াইয়ে বিশ্বাসী নই। আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং আমি উভয়েই উপস্থিত থাকব। ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি সমাধানের দিকে এগিয়ে যাব। এটি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপেরই একটি অংশ। আমি আপনাদের সকলকে বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন এবং আলোচনায় বসুন।”
এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ককারোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়ি বা অফিসের পরিবর্তে, তারা যন্তর মন্তরে কিংবা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠকে বসবে। সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ