প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএ’র বিভিন্ন স্থাপনায় ইরান নিখুঁত ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা এই ব্যাপারে খতিয়ে দেখছেন যে রাশিয়া কোনও ধরনের টার্গেটিং ইনফরমেশন কিংবা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করেছে কি না।
এ তথ্যটি ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স চার জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তির বরাতে জানিয়েছে, যাঁরা মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের বিষয়ে অবগত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা বলেছেন, সিআইএ’র স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।
তবে হামলাগুলোর কার্যকারিতা, নিখুঁত নিশানা এবং ইরানের প্রতি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তাকে সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত, রয়টার্সসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে আসছে রাশিয়া।
অথচ সিআইএ’র স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার এই তদন্তের বিষয়টি আগে প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে ইরান সিআইএ’র অন্তত দু’টি গোপন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সেগুলোর মধ্যে একটি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে থাকা সিআইএ স্টেশন এবং অন্যটি পূর্ব ইরাকে অবস্থিত একটি আলাদা ঘাঁটি ছিল।
কিছু সূত্র জানাচ্ছে যে, সিআইএ’র আরও কিছু ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, তবে তারা বিস্তারিত ভুল করেনি।
নথি দেখার সুযোগ রয়েছে এমন এক কর্মকর্তার বর্ণনায় পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে যে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ওই কর্মকর্তা মেমোটির নির্দিষ্ট রচয়িতার নাম জানাননি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে নিয়োজিত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে তাদের যে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে, তাতে বিশ্লেষকদের ধারনা যে সৌদি আরবে হামলায় শাহেদ ড্রোনের উন্নত দুটি রুশ সংস্করণ ব্যবহার হয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাসের বাইরের দেয়ালের একটি দুর্বল অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গর্ত তৈরি করে।
আর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ও বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গত সপ্তাহে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সেনা ব্যারাক লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।
এই ঘটনার পর ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার জন্য রাশিয়া সহায়তা করছে বলার আশঙ্কা অনেক বেড়ে গেছে।
অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে যে, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ‘কোমেটা-এম’ সরবরাহ করার মাধ্যমে ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নিখুঁত নিশানাভেদের ক্ষমতা উন্নত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তুলনায় এই ব্যবস্থা অনেক বেশি নিখুঁত এবং জ্যাম করা (বাধাগ্রস্ত করা) কঠিন।
যদিও ইরানকে সমরাস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করার বিষয়টি রাশিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন