বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৩১ পি.এম
২০২৬ সালের সর্বভারতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) বিষয়ক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এবার সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কলকাতায় মিছিল করেছেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাস থেকে ‘মহা মিছিল সংহতি সভা’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করার দাবি জানান। পাশাপাশি, তারা বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, গত সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির কারণে দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে, মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তুলে নেন। প্ল্যাকার্ডে ‘মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও’ এবং ‘স্বৈরাচারী সরকার আর নয়’ সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
এদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নতুন একটি গান প্রকাশ করেছেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী রূপম ইসলাম। গানটির অংশ তিনি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন। একই দাবিতে মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগরে নীরব কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। তার কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের দাবিতে ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের বক্তব্য এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। পরে, তারা প্ল্যাকার্ড হাতে সংসদের ভেতরে বিক্ষোভে অংশ নেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী দিল্লি ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শহর, যেমন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, কলকাতা, এসব স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তাই নরেন্দ্র মোদির কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার নিজেদের সুর অনেকটাই নরম করেছে। তারা এখন আন্দোলনকারীদের ‘সুবিধাজনক যেকোনও সময়ে’ আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, বুধবার থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য চারটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনরত গোষ্ঠীগুলো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ‘যন্তর মন্তর’ কিংবা অন্য কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছে।
জিতেন্দ্র সিং আরো বলেন, “বুধবার দুপুর থেকে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনার জন্য চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার আপনাদের সুবিধামতো যেকোনও সময় সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।”
মন্ত্রী আরও জানান, আলোচনার সময় তার সহকর্মী মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “আলোচনা জেপি নাড্ডার কার্যালয় বা বাসভবনে হতে পারে। আমরা অহমিকা বা মর্যাদার লড়াইয়ে বিশ্বাসী নই। আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং আমি উভয়েই উপস্থিত থাকব। ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি সমাধানের দিকে এগিয়ে যাব। এটি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপেরই একটি অংশ। আমি আপনাদের সকলকে বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন এবং আলোচনায় বসুন।”
এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ককারোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়ি বা অফিসের পরিবর্তে, তারা যন্তর মন্তরে কিংবা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠকে বসবে। সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত ৩ মে ভারতে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে গত আড়াই মাস ধরে চলা আন্দোলন শেষ পর্যন্ত চরম রূপ নিয়েছে। গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের মাধ্যমে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করে। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানসহ রাজনৈতিক মহলে টনক নড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘প্রশ্নফাঁস মহাপাপ, এরজন্য দায়ীদের সাজা পেতে হবে।’
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে তারা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শিক্ষার্থীরা জবাবদিহিতা পাবেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা শিক্ষার্থীদের সাথে বসে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন এবং বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী বাসার সামনে ধর্নায় বসেছেন।
মূলত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৩ মে ব্যবহৃত পরীক্ষাটি বাতিল হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ওপর প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিল। এর পর ২১ জুন কঠোর নিরাপত্তায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর আগে, ৭ জুন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করে নবগঠিত করোচ জনতা পার্টি। এরপর ২৮ জুন লাদাখের অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আমরণ অনশন শুরু করলে এই আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা পায়। ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে সিজেপি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু কর্মসূচি আটকাতে পুলিশ দুদিন আগে ভোরে সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুক ১৯ জুলাই রাতেও জানিয়েছিলেন, সরকার হাসপাতালে তার সাথে দেখা করলে সংসদে আলোচনা আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙতে রাজি থাকবেন। কিন্তু সরকার সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। ২০ জুলাই সোমবার ভোরে যখন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী যন্তর-মন্তরে সমবেত হয়েছেন, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা দুই ছাত্রনেতাকে ডেকে আলোচনার আশ্বাস দেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যাওয়ার কারণে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের উদ্দেশে বের হয়ে পড়ে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশি হামলার পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অভিনেত্রী শাবানা আজমী এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ সুশীল সমাজ তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যদি ৭ জুনের পর সঠিক পদক্ষেপ নিত, তবে নিরীহ শিক্ষার্থীদের রাজপথে মার খেতে হতো না। একেই বলে, সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কোমরপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে পারভীনা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধূ পারভীনা খাতুন, একই গ্রামের আজিজুল হকের স্ত্রী।
দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দীন জানিয়েছেন, দুপুরে তিনি গৃহস্থালির কাজ করার জন্য নিজ বাড়িতে ছিলেন। এ সময় পারভীনা খাতুন ঘরের একটি টিন সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত টিনটি বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে এবং তার ছিঁড়ে যায়। এর ফলে টিনটি বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। এ বিষয় নিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে গাজীপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ‘সমাজসেবায় তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজদিঘীর পাড়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের জেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় সংগঠনের সদস্য, স্থানীয় তরুণ-তরুণী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ জেলা শাখার সভাপতি মো. ইমরান হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, 'তরুণরাই একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সম্ভাবনা। একটি মানবিক, সচেতন ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর, দায়িত্বশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।'
সংগঠনের জেলা শাখার ইভেন্ট সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; সমাজের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই একজন তরুণ প্রকৃত নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারে। শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই একজন প্রকৃত স্বেচ্ছাসেবকের জন্ম হয়’।
ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক রুবেল হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা যেকোনো মানবিক সংকটে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগ মোকাবিলা, ত্রাণ বিতরণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন স্বেচ্ছাসেবকের সবচেয়ে বড় পরিচয়’。
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা সমাজসেবার বিভিন্ন দিক, তরুণদের দায়িত্ববোধ, স্বেচ্ছাসেবার গুরুত্ব এবং সামাজিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। বক্তারা বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং স্বেচ্ছাসেবার সংস্কৃতি তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হলে নিয়মিত এমন সচেতনতামূলক আলোচনা ও কার্যক্রম আয়োজনের বিকল্প নেই’।
এ সময় সংগঠনের জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক তানজিনা আক্তার জেরিন, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আওয়াল বিপ্লব, ইভেন্ট সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রাকিব, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক রুবেল হোসেন, কার্যকরী সদস্য আনিকা তাবাসসুম, সিয়াম, আসলাম শিকদার রিফাত, মিথিলা, ইমা, সুমাইয়া, বিথী, রিমাসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ