বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১০ পি.এম
তীব্র গরমে হাঁটতে বের হলে হাঁপিয়ে ওঠা, শরীর ঘেমে যাওয়া অথবা মাথা ঝিমঝিম করা—এটি এখন অনেকের জন্য একটি সাধারণ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হওয়ার আগেই শরীরকে ঠান্ডা রাখার কিছু সহজ কৌশল জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, দিনের সবচেয়ে গরম সময় এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমাতে পারে। ঘরে কিংবা বাইরে—দুই জায়গাতেই কার্যকরী হতে পারে এমন ১৪টি সহজ উপায় রয়েছে।
দিনের গরমের সময়টা আগে থেকেই জেনে নিন।
দিনের কোন সময়ে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে, তা আগে থেকে জেনে নেওয়া উচিত। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে ঘণ্টাভিত্তিক তাপমাত্রার দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে বের হওয়া বা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা উচিত।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার সময় শরীরের তাপও কিছুটা কমে যায়। তাই ঘামের সাথে হারানো পানি পূরণ করা জরুরি।
সাধারণভাবে নারীদের দিনে প্রায় ১১ কাপ এবং পুরুষদের প্রায় ১৫ কাপ তরল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে প্রচণ্ড গরমে বাইরে থাকলে বা বেশি ঘাম হলে আরও বেশি তরল প্রয়োজন হতে পারে। পানির পাশাপাশি পানি-সমৃদ্ধ খাবারও শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।
অতিরিক্ত গরমে ঠান্ডা জায়গায় থাকুন
দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে যতটা সম্ভব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার চেষ্টা করুন। ঘরে এমন ব্যবস্থা না থাকলে বিপণিবিতান, গণগ্রন্থাগার, প্রেক্ষাগৃহ কিংবা স্থানীয় শীতল আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু সময় কাটানো যেতে পারে।
গরমে পাখা ব্যবহারে কৌশলী হোন
পাখার বাতাস শরীরের কাছাকাছি জমে থাকা তাপ সরিয়ে দিতে পারে। তবে আশপাশের বাতাস খুব গরম হলে শুধুমাত্র পাখার বাতাস সবসময় যথেষ্ট নাও হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে পানি দিয়ে শরীর ভিজিয়ে নিয়ে পাখার সামনে বসলে ঘাম দ্রুত শুকাতে সাহায্য করবে। স্প্রে করার বোতল বা ভেজা কাপড় দিয়েও শরীর ভেজানো যেতে পারে।
কাজের মধ্যে বিরতি নিন
গরমের মধ্যে শারীরিক পরিশ্রম করলে বাইরে থেকে আসা তাপের সঙ্গে শরীরের নিজস্ব তাপও যুক্ত হয়। ফলে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই একটানা কাজ না করে অল্প সময় কাজ করে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেওয়া ভালো।
বাইরে বের হলে সঙ্গে রাখুন ঠান্ডা করার সামগ্রী।
বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখা উচিত। সম্ভব হলে হাতপাখা, ভেজা কাপড় বা বরফের প্যাকও সঙ্গে রাখা যেতে পারে। হঠাৎ বেশি গরমে আটকে পড়লে এগুলো শরীর ঠান্ডা রাখতে কাজে আসবে।
ঢিলেঢালা পোশাক পরুন
গরমের সময় হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা আরামদায়ক। এ ধরনের পোশাকের মধ্য দিয়ে বাতাস সহজে শরীরে পৌঁছাতে পারে। ফলে ঘাম শুকাতে সুবিধা হয় এবং শরীরের তাপ কমতে সাহায্য করে।
পানিতে ঠান্ডা রাখা পোশাক ব্যবহার করতে পারেন।
বর্তমানে এমন কিছু পোশাকও পাওয়া যায়, যেগুলো পানিতে ভিজিয়ে দীর্ঘ সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে পারে। বিশেষ ধরনের কাপড় দিয়ে তৈরি এসব পোশাক শরীরের তাপ টেনে নিয়ে দীর্ঘ সময় ভেজা বা ঠান্ডা অবস্থায় থাকতে পারে।
ভেজা তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার করুন
ঘরে থাকা তোয়ালে বা সুতির জামা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে মাথা, ঘাড় কিংবা শরীরে জড়িয়ে রাখা যেতে পারে। কাপড় শুকিয়ে গেলে আবার পানিতে ভিজিয়ে নেওয়া যায়। এতে শরীরের তাপ কমাতে সহায়তা করবে।
ঠান্ডা পানি বা বরফ খান
ঠান্ডা পানি, বরফের ছোট টুকরা কিংবা বরফজাতীয় খাবার শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে এবং শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে খুব দ্রুত বেশি পরিমাণে ঠান্ডা কিছু খাওয়া ঠিক নয়। এতে পেটে অস্বস্তি হতে পারে।
গোসল বা পানিতে শরীর ডুবিয়ে রাখুন
শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা শরীর ঠান্ডা করতে সাহায্য করতে পারে। পানি একেবারে বরফঠান্ডা হওয়া জরুরি নয়; স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ঠান্ডা বা কুসুম ঠান্ডা পানিও ব্যবহার করা যায়।
গোসলের পর পাখার সামনে দাঁড়ালে শরীরের পানির বাষ্পীভবনের মাধ্যমে আরও দ্রুত ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বরফ পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখুন
গোসলের সুযোগ না থাকলে হাত, কনুইসহ দুই হাতের নিচের অংশ প্রায় পাঁচ মিনিট বরফ পানিতে ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে হাতের রক্তনালির ভেতর দিয়ে ঠান্ডা রক্ত শরীরের অন্য অংশে চলাচল করতে সাহায্য করে।
শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে বরফের প্যাক দিন।
বড় রক্তনালির কাছাকাছি জায়গায় বরফ বা ঠান্ডা প্যাক ব্যবহার করেও শরীর ঠান্ডা করা যায়। কনুই, বগল, ঘাড় এবং দুই পায়ের মাঝের কুঁচকির কাছাকাছি অংশে ঠান্ডা প্যাক রাখা যেতে পারে।
শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন
অনেক চেষ্টা করার পরও শরীর ঠান্ডা না হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। অতিরিক্ত ঘাম, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান লাগা, ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে ত্বক, দ্রুত বা দুর্বল নাড়ির স্পন্দন, প্রচণ্ড ক্লান্তি এবং পেশিতে টান—এসব অতিরিক্ত গরমে শরীর খারাপ হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অবস্থা গুরুতর হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও নবজাতক, গর্ভবতী নারী, অতিরিক্ত গরমে বাইরে কাজ করা মানুষ এবং এমন কিছু ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তি যারা সহজে ঘামতে পারেন না—তাদের গরমে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। হৃদ্রোগসহ কিছু শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও অতিরিক্ত গরমে ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে।
তাহলে শুধু নিজের শরীরের দিকেই নজর না দিয়ে আশপাশের বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিরাও গরমে কেমন আছেন, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
গরমে অসুস্থ হওয়ার পর ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা না করে আগে থেকেই সতর্ক থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিনের তীব্র গরম এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শরীর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করলেই গরমের অস্বস্তি ও ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: হার্ভার্ড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষার তথ্য জানার জন্য গিয়ে এক নারীর ওপর কয়েকজন দালালের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কানিজা আফরোজ (৪০) নামে ওই নারী আহত হয়েছেন এবং তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আহত কানিজা আফরোজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা।
তার অভিযোগ, ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা ও পরীক্ষার তথ্য জানার জন্য তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) যান। সেখানে সিবিসি পরীক্ষা করা হয় কি না জানতে চাইলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে এবং তার ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।
ওই ব্যক্তিরা তাকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন। তিনি হাসপাতালেই পরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হলে তাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
কানিজা আফরোজ বলেন, একপর্যায়ে কয়েকজন প্লাস্টিকের পাইপ ও রডসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিলে তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।
কানিজা আফরোজ বলেন, "আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না। এরপর কয়েকজন আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চান। আমি বলি, আগে তথ্যটা জেনে নিই। তখন তারা বলে, এখানে পরীক্ষা হয় না, ক্লিনিকে যেতে হবে। আমি যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়। আমরা বাঁচাও বলে চিৎকার করেছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে সাহায্য করেনি।"
কানিজার অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালটিতে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তারা বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনকে নানা কথা বলে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন কানিজা আফরোজ।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান বলেন, হাসপাতালে কোনো কর্মচারী সেখানে না থাকায় এবং কেউ এগিয়ে না আসায় দালালরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আহত নারী আইনি ব্যবস্থা নিলে তাকে সহায়তা করা হবে।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরামুল হোসেন জানান, হাসপাতালে মারধরের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাদক শনাক্তকরণের (ডোপ টেস্টে) খবর শুনে দুই দিন ধরে গা ঢাকা দিয়েছেন চাঁদপুর নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন উর রশিদ।
এটি জানা গেছে যে, নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ১৮ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে এসআই মামুন উর রশিদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডোপ টেস্টের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ১৫ সেপ্টেম্বর ফাঁড়ি থেকে চলে যান।
এদিকে, তার গা ঢাকা দেওয়ার বিষয়টি জানার পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা তাকে খুঁজে বের করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসার জন্য তার বাসায় যান। তবে সেখানে গিয়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার এবং বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদিনই তার বাসায় পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটিও মঙ্গলবার থেকে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশ ফাঁড়ি থেকে জানানো হয়েছে যে, ফাঁড়িতে কর্মরত সদস্যদের মধ্যে যাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হবে, তাদের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মক্কার পবিত্র স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্ট শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস। তিনি মুসলিমদের ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি যাচাই ছাড়া তথ্য প্রচার না করার এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
একটি বিবৃতিতে শায়খ সুদাইস উল্লেখ করেন, পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। ইসলাম আগ্রাসন নিষিদ্ধ করেছে এবং মানুষের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে পবিত্র স্থানগুলোর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এসব স্থানের নিরাপত্তার জন্য যেকোনো ধরনের হুমকি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন শায়খ আল-সুদাইস। তিনি জাতীয় সংহতি বজায় রাখতে সহযোগিতা করার এবং তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গুজব বা যাচাই না করা কোনো তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানদের উচিত আগ্রাসন থেকে বিরত থাকা, বিশৃঙ্খলা ও অনাচার প্রতিরোধ করা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকা।
শায়খ সুদাইস আরও বলেন, তথ্যের জন্য সরকারি ও বিশ্বস্ত সূত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে। বিভ্রান্তি, বিভাজন বা অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এমন কোনো সংবাদ প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিবৃতির শেষে সৌদি আরব, দেশটির নেতৃত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকার জন্য দোয়া করেন তিনি। পাশাপাশি পবিত্র স্থানগুলো এবং সেগুলোর সেবা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্যও দোয়া করেন।
এ ছাড়া মুসলিম বিশ্বে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ক্ষতি ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন শায়খ আল-সুদাইস।
সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়া ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ইলিশ (রাজা ইলিশ) ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা হিসেবে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা-মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান।
মাছটি নিয়ে আসা জেলে সোহরাফ গাজী জানান, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পায়রা বন্দর সংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে জাল ফেলেছিলেন তিনি। জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় ইলিশটি উঠে আসে। পরে বুধবার সকাল ৯টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে যান তিনি।
সোহরাফ গাজী আরও জানান, তিনি প্রায় এক দশক ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে মাছ ধরছেন। তার ভাষ্য, সাধারণত এত বড় ইলিশ জালে পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর এবার আবার বড় আকৃতির একটি ইলিশ পেয়েছেন তিনি।
মাছটির ক্রেতা কুয়াকাটা মিজান বলেন, বাজারে বর্তমানে এ আকারের ইলিশ খুব বেশি পাওয়া যায় না। এ কারণে নিলামে মাছটি কিনেছি। মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাড়িতে পাঠানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বড় ইলিশ বাজারে উঠলেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার জানান, বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ছোট ইলিশ নির্বিচারে আহরণ, নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনার ঘাটতি বড় ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ ছাড়া পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের স্বল্পতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের মতো পরিবেশগত বিষয়গুলোও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, গভীর সমুদ্রে এ ধরনের বড় ইলিশ ধরা পড়া ইতিবাচক বিষয়। এটি ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার সুফলের একটি দিক হতে পারে। বড় ইলিশে তুলনামূলক বেশি ফ্যাট থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ