বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৯ পি.এম
বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়া ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ইলিশ (রাজা ইলিশ) ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা হিসেবে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা-মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান।
মাছটি নিয়ে আসা জেলে সোহরাফ গাজী জানান, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পায়রা বন্দর সংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে জাল ফেলেছিলেন তিনি। জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় ইলিশটি উঠে আসে। পরে বুধবার সকাল ৯টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে যান তিনি।
সোহরাফ গাজী আরও জানান, তিনি প্রায় এক দশক ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে মাছ ধরছেন। তার ভাষ্য, সাধারণত এত বড় ইলিশ জালে পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর এবার আবার বড় আকৃতির একটি ইলিশ পেয়েছেন তিনি।
মাছটির ক্রেতা কুয়াকাটা মিজান বলেন, বাজারে বর্তমানে এ আকারের ইলিশ খুব বেশি পাওয়া যায় না। এ কারণে নিলামে মাছটি কিনেছি। মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাড়িতে পাঠানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বড় ইলিশ বাজারে উঠলেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার জানান, বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ছোট ইলিশ নির্বিচারে আহরণ, নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনার ঘাটতি বড় ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ ছাড়া পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের স্বল্পতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের মতো পরিবেশগত বিষয়গুলোও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, গভীর সমুদ্রে এ ধরনের বড় ইলিশ ধরা পড়া ইতিবাচক বিষয়। এটি ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার সুফলের একটি দিক হতে পারে। বড় ইলিশে তুলনামূলক বেশি ফ্যাট থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এহসান মাহমুদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, এহসান মাহমুদকে তার যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে যে, তাকে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার শর্ত হলো, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।
উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাড়িতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য অনেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তবে বাড়ির বাইরে পা রাখার সাথে সাথে নতুন বিপদের সম্মুখীন হতে হতে পারেন। পিচ্ছিল মেঝে, ভেজা স্থান, অসমান পথ, সিঁড়ি, অথবা মানুষের ভিড়—যেকোনো জায়গায় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙা, মাথায় আঘাতসহ গুরুতর শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়। তাই বাইরে বের হওয়ার পর কোথায় কী ধরনের বিপদ থাকতে পারে তা আগে থেকেই জানা এবং সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দোকানে কেনাকাটার সময়
দোকানের মেঝে অনেক সময় মসৃণ ও পিচ্ছিল হয়ে থাকে। কোথাও পানি পড়ে থাকলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই কেনাকাটার সময় এমন জুতা পরা উচিত, যার তলা সহজে পিছলে যায় না।
যাদের ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হয়, তারা কেনাকাটার গাড়ি ধরে হাঁটতে পারেন। প্রয়োজনে চার চাকার হাঁটার সহায়ক যন্ত্রও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে শরীর স্থির রাখতে সুবিধা হয়। একই সঙ্গে এতে বসার ব্যবস্থা থাকলে প্রয়োজনের সময় বিশ্রামও নেওয়া যায়।
দোকানের উঁচু তাক থেকে কোনো জিনিস নামানোর সময়ও সাবধান হতে হবে। কাঁধের ওপরের উচ্চতায় থাকা জিনিস নিতে গেলে ভারসাম্য হারিয়ে পেছনে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কোনো কিছু ধরতে গেলে এক পা সামনে ও অন্য পা পেছনে রেখে দাঁড়ানো ভালো। প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নেওয়া নিরাপদ।
ভিড়ের জায়গায় বাড়তি সতর্কতা
বিমানবন্দর, বিপণিবিতান, প্রেক্ষাগৃহ কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো জায়গায় অনেক মানুষের ভিড় থাকে। এ সময় অন্যের ধাক্কায় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এ ধরনের জায়গায় সঙ্গীর হাত ধরে হাঁটা যেতে পারে। যাদের ভারসাম্যের সমস্যা রয়েছে, তারা হাঁটার সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। এতে আশপাশের মানুষও বুঝতে পারবেন যে আপনার চলাফেরায় বাড়তি জায়গা প্রয়োজন।
পার্ক ও খেলার মাঠে
পার্কে হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা ঘুরতে গেলে মাটির অসমান অংশের দিকে নজর রাখা জরুরি। শিশুদের বা নাতি-নাতনিদের নিয়ে খেলার মাঠে গেলেও সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ করে দুই ধরনের পথ বা মাটি যেখানে মিলেছে, যেমন গাড়ি রাখার জায়গা থেকে নরম মাটির খেলার মাঠে যাওয়ার অংশ—সেখানে হোঁচট খাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
তাহলে পার্কে হাঁটার সময় ভালোভাবে মাটিতে আঁকড়ে থাকা এমন জুতা পরা উচিত। হাঁটার উপযোগী জুতা বা পাহাড়ি পথে হাঁটার জুতাও ব্যবহার করা যেতে পারে।
সিঁড়িতে ওঠানামার সময়
সিঁড়িতে ওঠানামার সময় শরীর অস্থির লাগলে, সম্ভব হলে সিঁড়ির বদলে লিফট ব্যবহার করা ভালো। লিফটের সুযোগ না থাকলে ধীরে ও বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।
বাইরের সিঁড়ির ধাপ বাড়ির সিঁড়ির মতো একই মাপের নাও হতে পারে। তাই অবশ্যই হাতল ধরে উঠতে বা নামতে হবে। চোখের সমস্যা থাকলে প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহার করুন।
সিঁড়ি অন্ধকার হলে এক হাতে হাতল ধরে অন্য হাতে ছোট আলো রাখুন। প্রয়োজনে মুঠোফোনের আলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।
শৌচাগারেও লুকিয়ে বিপদ
সর্বসাধারণের ব্যবহারের শৌচাগারে ভেজা ও পিচ্ছিল মেঝে পড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে কম আলো এবং নিচু কমোড থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তাহলে শৌচাগারে ঢোকার সময় ধীরে ও সতর্কভাবে হাঁটুন। সঙ্গে মুঠোফোন রাখা ভালো। নিচু কমোড থেকে উঠে দাঁড়াতে সমস্যা হলে সাহায্যের জন্য ফোন করতে হতে পারে।
আলো কম থাকলে মুঠোফোনের আলো ব্যবহার করা যেতে পারে। সুযোগ থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগার ব্যবহার করা যেতে পারে। সেখানে সাধারণত ধরার হাতল এবং তুলনামূলক উঁচু কমোড থাকে।
ভেজা মেঝে পার হওয়ার সময় ধীরে হাঁটুন। ভারসাম্য বাড়াতে পায়ের পাতার সামনের অংশ সামান্য বাইরের দিকে রেখে হাঁটতে পারেন।
গাড়ি রাখার জায়গায়
দোকান থেকে দূরে গাড়ি রেখে বেশি হাঁটা শরীরচর্চার জন্য ভালো হতে পারে। তবে যাদের দীর্ঘক্ষণ হাঁটলে দুর্বল লাগে কিংবা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বেশি দূরে গাড়ি রাখলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাহলে প্রয়োজন হলে গন্তব্যের কাছাকাছি গাড়ি রাখা ভালো। চলাফেরায় বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত গাড়ি রাখার অনুমতিপত্র নেওয়া যেতে পারে।
গাড়ি রাখার সময় অন্য গাড়ির একেবারে পাশে গাড়ি রাখা উচিত নয়। দুই গাড়ির মাঝখান দিয়ে বের হওয়ার সময় শরীর ঘোরানো বা পাশ ফিরে হাঁটতে হতে পারে। এতে পা পিছলে বা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
তাহলে গাড়ি থেকে নামার সময় শরীর সহজে ঘোরানো এবং হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা জরুরি। নির্ধারিত বিশেষ জায়গা খালি থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি ব্যবহার করুন।
অফিস ভবনেও রয়েছে নানা ঝুঁকি
অফিস ভবনেও বাড়ির মতো সিঁড়ি, পিচ্ছিল মেঝে, ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র, কম আলো এবং আলগা কার্পেট থেকে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এর পাশাপাশি চলন্ত সিঁড়ি, মই, নির্মাণকাজের জায়গা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রীও বিপদ তৈরি করতে পারে।
নিজের কর্মস্থলে মেঝেতে পড়ে থাকা জিনিসপত্র ও লম্বা বৈদ্যুতিক তার সরিয়ে রাখুন। কোনো বিপজ্জনক জায়গা চোখে পড়লে কর্তৃপক্ষকে জানান।
কোনো কাজে অফিস ভবনে গেলে তাড়াহুড়া করে হাঁটবেন না। ধীরে ও সচেতনভাবে চলুন। চারপাশ দেখে কোথায় হোঁচট বা পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তা আগে থেকেই খেয়াল করুন।
আবহাওয়ার কারণেও বাড়তে পারে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি।
বাইরে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।
তীব্র গরম ও রোদে শরীরে পানির ঘাটতি হলে মাথা ঘুরতে বা শরীর দুর্বল লাগতে পারে। এতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাইরে যাওয়ার সময় মাথায় টুপি ব্যবহার করুন, সঙ্গে পানির বোতল রাখুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সম্ভব হলে ছায়ায় থাকুন বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম নিন।
অন্যদিকে বৃষ্টি বা বরফের কারণে রাস্তা ও মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে। এ সময় পিছলে যায় না এমন জুতা পরা জরুরি। জুতার তলা যেন মাটিতে ভালোভাবে আঁকড়ে থাকতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে জুতার ওপর বিশেষ রাবারের আবরণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখাও জরুরি
বাইরে কোথাও গেলেই পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত ভারসাম্যের অনুশীলন করলে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শরীরকে সামলে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে।
শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখার ক্ষেত্রে পায়ের পেশি ও শরীরের মধ্যবর্তী অংশের পেশির শক্তি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি, ভেতরের কানের সুস্থতা এবং পা ও অস্থিসন্ধির অনুভূতিও ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
কারও যদি মনে হয় তার ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হচ্ছে, তাহলে শারীরিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
সুস্থ ব্যক্তিরা নিয়মিত ব্যায়ামের অংশ হিসেবে পায়ের পেশি ও শরীরের মধ্যবর্তী অংশ শক্তিশালী করার কিছু সহজ অনুশীলন করতে পারেন। যেমন—একটি চেয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে বসে আবার উঠে দাঁড়ানো। এভাবে পরপর পাঁচ থেকে ১০ বার করা যায়। এছাড়া এক পা সামনে রেখে শরীর নিচু করার অনুশীলন এবং পা ওঠানোর অনুশীলনও করা যায়।
ভারসাম্য বাড়াতে এক পায়ে ৩০ সেকেন্ড করে দাঁড়িয়ে থাকার অনুশীলন করা যেতে পারে। ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এমনভাবে হাঁটার চেষ্টা করা যায়, যেন সরু দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটছেন।
নিয়মিত শরীরচর্চা, নিজের শারীরিক সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং বাইরে চলাফেরার সময় আশপাশের ঝুঁকি আগে থেকে বুঝে চলাই পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
সূত্র: হার্ভার্ড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুরাদনগরে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়া, তার স্ত্রী হনুফা বেগম এবং পালিত মেয়ে ইতিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কুমিল্লায়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিহত খালেদা আক্তার ও তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর ফলস্বরূপ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার এবং তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালান আবু মিয়া। এক পর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।
নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত মেয়ে ইতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেন থেকে মামলার মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার তিনজনকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মলাশয়ের ক্যানসারে (রেকটাল ক্যানসার) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন জাপানি-কোরিয়ান অভিনেত্রী নাকামুরা ইউরি। তিনি ৪৪ বছর বয়সে গত ১ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনেত্রীর এজেন্সি আলফা ১৪ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১৩ বছর আগে নাকামুরা ইউরির শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। তখন তিনি এবং তার এজেন্সির প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেন, কর্মক্ষেত্রে তার অসুস্থতার বিষয়টি প্রকাশ করা হবে না। কারণ, এতে সহকর্মীরা অপ্রয়োজনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন।
পরবর্তীতে চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে আসে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নাকামুরা ইউরি অভিনয় অব্যাহত রাখেন। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবারও তার শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরীক্ষায় জানা যায়, রোগটি শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।
পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব নয় বুঝতে পেরে, তখন ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে মনোযোগ দেন অভিনেত্রী। এজেন্সির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আরও দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত জীবনযাপনের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। চিকিৎসকের উৎসাহে অসুস্থতার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যান তিনি।
তবে চলতি বছরের আগস্টে অন্ত্রে বাধা সৃষ্টি হলে নাকামুরা ইউরি জানতে পারেন যে, তার জীবনের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। এজেন্সি জানিয়েছে, খবরটি তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে গ্রহণ করেছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় তার মুখে ছিল সুন্দর ও স্নিগ্ধ হাসি।
এজেন্সির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাকামুরা ইউরির ৩০ ও ৪০-এর দশকের বড় একটি সময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে কেটেছে। তবে সেই সময়টিই একই সঙ্গে অসংখ্য চমৎকার মানুষের সঙ্গে পরিচয়, আনন্দ ও পরিপূর্ণতায় ভরা ছিল।
জাপানের ওসাকা প্রিফেকচারের নেয়াগাওয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন নাকামুরা ইউরি। তিনি ছিলেন মিশ্র বংশোদ্ভূত। তার বাবা ছিলেন তৃতীয় প্রজন্মের জাইনিচি কোরিয়ান, অর্থাৎ জাপানে বসবাসকারী কোরিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যক্তি। তার মা ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান দুই দেশের নাগরিক।
অভিনয়ে আসার আগে সংগীতের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন নাকামুরা ইউরি। ১৯৯৬ সালে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘আছায়ান’-এ গান গাওয়ার অডিশনে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে বান্ধবী মারি ইজাওয়ার সঙ্গে ‘ইউরিমারি’ নামে সংগীতজুটি গড়ে তোলেন। ১৯৯৮ সালে জুটিটির অভিষেক হলেও এক বছর পরই তা ভেঙে যায়। এরপর অভিনয়ে মনোযোগ দেন নাকামুরা ইউরি।
২০০০ ও ২০১০ এর দশকে উৎসবমুখী সিনেমার পাশাপাশি মূলধারার বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘আফটার দ্য স্টর্ম’ (২০১৬), দুর্যোগভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ফুকুশিমা ৫০’ (২০২০) এবং সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ‘আর্ক’ (২০২১)।
এ ছাড়া নেটফ্লিক্সের ‘বিয়ন্ড গুডবাই’ (২০২৪) এবং ‘রোমান্টিকস অ্যানোনিমাস’ (২০২৫) সিরিজেও অভিনয় করেছেন নাকামুরা ইউরি। অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণে তার মৃত্যুতে জাপানি বিনোদন অঙ্গনে শোক নেমে এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ