ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর হতে যাচ্ছেন আবদুল এল-সায়েদ


প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর হতে যাচ্ছেন আবদুল এল-সায়েদ

ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার বাকি দুই বছরের জন্য কংগ্রেস কোন দল নিয়ন্ত্রণ করবে, তা এখন মোটামুটি পরিষ্কার। একইসঙ্গে একটি নতুন ইতিহাসও সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ, মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ দেশের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

এল-সায়েদ পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি আগে কখনো কোনো নির্বাচনী পদে ছিলেন না। এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম ‘কাদা ছোড়াছুড়ির’ প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সায়েদ।

আবদুল এল-সায়েদের প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যখন তার ডেমোক্র্যাট সহকর্মী হ্যালি স্টিভেন্স, যাকে তিনি দলীয় মনোনয়নের জন্য অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি সমর্থন জানান।

আরও পড়ুন: ‘কামানের গোলা’ নাকি ‘মদের বোতল’, চীনের বিপাকে ছবি

ভোট গণনার এক পর্যায়ে এল-সায়েদ নিজের বিজয় দাবি করে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণা ছিল তাদের জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে কদর্য প্রচারণাগুলোর একটি। তবে তিনি সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে, ১ নভেম্বর, এল-সায়েদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এটি এক কোটি মানুষের একটি রাষ্ট্র, যারা তাদের সরকারের কাছ থেকে আরও অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। আমি বরং সেই ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ জনের ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছি, যাদের কথা আপনারা বলছেন না।’

কে এই এল-সায়েদ

১৯৮৪ সালে ডেট্রয়েটের উপশহর রচেস্টার হিলসে আবদুল এল-সায়েদের জন্ম হয়। তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তিনি তার বাবা ও সৎমা জ্যাকুলিন জনসনের কাছে বেড়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে ভরাডুবি, ফক্স নিউজের ঘাড়ে দায় চাপালেন ট্রাম্প

এল-সায়েদ মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যায় লেখাপড়া করেন এবং মহামারীবিদ্যায় বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০১৫ সালে ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তার নিয়োগ জাতীয় সংবাদে শিরোনাম হয়।

তিন বছর পর, এল-সায়েদ মিশিগানের গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন, কিন্তু গ্রেচেন হুইটমারের কাছে ২০ শতাংশেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন, যিনি পরবর্তীতে দুই মেয়াদে গভর্নর নির্বাচিত হন।

হুইটমার ২০২৬ সালের সেনেট নির্বাচনের প্রাইমারিতে স্টিভেন্সকে সমর্থন করলেও, এল-সায়েদ মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে তার প্রচারণাকে সমর্থন করে আসছেন।

তিনি সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের মতো প্রগতিশীলদের সমর্থন পান।

আরও পড়ুন: নিউ মেক্সিকোর ডেব হাল্যান্ড প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর নির্বাচিত

তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ আরও মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাটরাও এল-সায়েদের প্রচারণাকে সমর্থন জানিয়েছেন, কারণ মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দলের পরিকল্পনার জন্য মিশিগানের এই প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এল-সায়েদ একটি বামপন্থি প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালিয়েছেন, যেখানে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অর্থায়নের জন্য ধনকুবেরদের ওপর কর আরোপের মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি ইসরাইলে মার্কিন সামরিক সাহায্যের সমালোচনাও উচ্চ স্থান পেয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর এক নির্বাচনি সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে এল-সায়েদ বলেন, ‘কর দেয়া এবং এটা জানা যে সেই টাকা অন্য কারও এবং তাদের সন্তানদের ওপর বোমা ফেলার পরিবর্তে আপনার ও আপনার সন্তানদের জন্য ব্যয় করা হবে, এটা এতটা কঠিন হওয়া উচিত নয়।’

তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের অভিযানকে গণহত্যা বলেও আখ্যা দিয়েছেন, যে অভিযোগ ইসরাইল প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তিনি আরও বলেছেন, দেশটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্ণবৈষম্য চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইলহান ওমর পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত

সামরিক সাহায্যের প্রতি এল-সায়েদের বিরোধিতা তেল আবিবের বাইরেও বিস্তৃত। ৪২ বছর বয়সি এই নেতা প্রায়শই বলেন, তিনি চান মার্কিন করের অর্থ ‘বিদেশে কারও ওপর বোমা ফেলার জন্য পাঠানোর পরিবর্তে স্কুল ও সুযোগ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হোক’।

গত ২৮ অক্টোবর এল-সায়েদ বলেন, ‘আমি মনে করি না যে সাধারণভাবে আমাদের বিদেশি সামরিক বাহিনীকে অর্থায়ন করা উচিত। এরা হলো ইসরাইল। মিশরও তাই। সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাই।’

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এল-সায়েদকে ‘সন্ত্রাসীদের পক্ষে থাকার’ জন্য অভিযুক্ত করেছেন, যিনি মিশরীয় অভিবাসীদের সন্তান।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ১৫ অক্টোবর রজার্সের এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, ‘আপনারা এমন এক ধূর্ত লোকের চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য, যার উচিত নিজের মুখ বন্ধ রাখা এবং যে দেশ তাকে সবকিছু দিয়েছে, তার প্রতি সামান্য কৃতজ্ঞতা দেখানো।’

আরও পড়ুন: ইরান রাসায়নিক অস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে বলে দাবি ইসরাইলের, সন্দেহ যুক্তরাষ্ট্রের

আর রজার্স, ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলেও, এল-সায়েদের প্রচারণাকে উগ্রপন্থি ও চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত দাতাদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা গ্রহণের জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

রিপাবলিকানরা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে মিশরের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম ইসলামপন্থি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও করেছে, যেটি ২০১১ সালের আরব বসন্তের অভ্যুত্থানের পর আফ্রিকার এই দেশটিতে অল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় ছিল।

যদিও এল-সায়েদ এই ধরনের কোনো সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ২০১২ সালের একটি খোলা চিঠিতে তার স্বাক্ষরের বিষয়টি তুলে ধরেছেন, যেখানে ইসলামপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ‘যত দ্রুত সম্ভব গণমাধ্যম ও পুলিশকে শুদ্ধ করার’ আহ্বান জানানো হয়েছিল।

বামপন্থি ভাষ্যকার হাসান পাইকারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণেও এল-সায়েদ সমালোচিত হয়েছেন, যিনি বলেছিলেন যে ৯/১১ হামলার শিকার যুক্তরাষ্ট্র ‘হওয়ার যোগ্য’ ছিল।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হলেন রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস

আর গত আগস্টে, ডেট্রয়েটের একটি সিনাগগে একজন আরব আমেরিকানের সহিংস হামলার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য এল-সায়েদ মিশিগানের ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।

দ্য জিউইশ ইনসাইডারের অনুমান অনুযায়ী, তার প্রার্থিতা মিশিগানের ইহুদি ভোটকে বিভক্ত করেছে, যা ঐতিহাসিকভাবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষেই থাকে। কমিউনিটি নেতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ ওয়েবসাইটটি রিপাবলিকান প্রার্থীর দিকে ভোট ঝুঁকে পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল।

তবে প্রচার অভিযান চলাকালীন এল-সায়েদ ঘোষণা করেন, তার আনুগত্য মার্কিন সংবিধানের প্রতি। তিনি ভোটারদেরকে তার অতীত নয়, বরং নীতির ভিত্তিতে তাকে বিচার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমার নাম বা আমার বিশ্বাসের কারণে মানুষ যে গাড়িতে তেল বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারে না, ডাক্তার দেখাতে পারে না কিংবা যে বাতাসে শ্বাস নেয় ও যে পানি পান করে তা নিয়ে চিন্তিত থাকে, তা নয়।’

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া তরুণী দিশা আবারও রিমান্ডে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া তরুণী দিশা আবারও রিমান্ডে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনীম দিশাকে (১৯) আদালত আবারও রিমান্ডে পাঠিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত এ রিমান্ড আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে, মামলার তদন্তের স্বার্থে চার দিনের রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। তিনি আবারও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ যান জেরিকা তাসনিম দিশা। ঘটনার আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’ এ গিয়েছিলেন। মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গেও দিশাকে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এছাড়া, ভিকটিম তাহসিফের সঙ্গে দিশা রেস্টুরেন্টে অবস্থানসহ মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেছিলেন। নিহত তাহসিফের মোবাইল কললিস্ট (সিডিআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে তাহসিফের একাধিকবার ফোনালাপের প্রমাণ রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, অন্যান্য অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ, আলামত উদ্ধার এবং অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য ক্রস-চেক (মুখোমুখি যাচাই) করার জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় ৩০ অক্টোবর রাতে মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর আমার ছেলে কে এম তাহসিফ সাউরি আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার পর দীপ নামে তার এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বাইরে যায়। রাত বেশি হলেও ছেলে ফিরে না আসায় তার মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করলে সে জানায়, কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবে। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার ফোন থেকে মায়ের ফোনে ভয়েজ মেসেজ পাঠায়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু রাত পেরিয়ে পরের দিন বিকেল হলেও সে ফিরে আসেনি।

২৮ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোনের মাধ্যমে আমাকে জানায়, রাজারবাড়ি ঘাট উত্তরখান এলাকায় তুরাগ নদ থেকে আমার সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে নৌপুলিশ আমার কাছে আমার সন্তানের মরদেহ হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় রীতি সম্পন্ন করে ২৯ অক্টোবর বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবি

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সহস্রাধিক শিক্ষার্থী আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা চীন মৈত্রী সিগন্যালে অবস্থান নেন।

সেখানে সড়ক অবরোধ করে তারা কর্মসূচি পালন করেন। এর ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে, শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে কুশপুত্তলিকা দাহ করারও ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর সকল ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে আন্দোলনরত সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন।

এই প্রেক্ষাপটে বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর থেকে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। ওই দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে তারা ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।

পরদিন মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২৯ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। ওই দিনই জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে মাঠটি নিজেদের দখলে নেন আন্দোলনকারীরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলহান ওমর পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


ইলহান ওমর পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল আসনে জয়লাভ করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ইলহান ওমর। রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেলকে পরাজিত করে তিনি টানা পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইলহান ওমরের জয় নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। বুধবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, তিনি ৭৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ ভোট (২ লাখ ৬৩ হাজার ১৬৬টি) অর্জন করেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেল ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট (৫৫ হাজার ৮০৫টি) পেয়েছেন। মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের শহরতলি নিয়ে গঠিত এই আসনটি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের অন্যতম ডেমোক্র্যাট-প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত।

২০১৯ সাল থেকে ইলহান ওমর এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। গত আগস্টে তিনি দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হন। মে মাসে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক-ফার্মার-লেবার পার্টির রাজ্য সম্মেলনে তার প্রতি সমর্থন জানানো হয়।

সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছেন। ট্রাম্প পূর্বে তাকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন এবং তাকে আবর্জনা বলেও অভিহিত করেছিলেন, এমনকি তদন্তের দাবি তুলেছিলেন।

গত মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তকারীরা। শৈশবে তার মৃত বাবার জমা দেওয়া অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্রের বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে এ অভিযানটি পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার সমালোচনা করে ইলহান ওমর বলেন, এটি ক্ষমতার ভয়াবহ অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহারের নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেল মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। নির্বাচনী প্রচারে তিনি সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকানো, চিকিৎসা সুবিধা সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন ষষ্ঠ দিনে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার সকালে মহানগরীর বড়বাড়ী এলাকায় শ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা শুরু হয়। শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

এদিকে গাজীপুর মহানগরীর হারিকেন, ভোগড়া বাইপাস, বাসন ও কোনাবাড়ী এলাকাতেও শ্রমিকদের বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনের শুরু থেকে রাজধানীর প্রবেশমুখ শিল্পনগরী টঙ্গীতে পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থান ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম-সেবা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%