ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাপাসিয়ায় স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিকে অনুদানের চেক বিতরণ


কাপাসিয়ায় স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিকে অনুদানের চেক বিতরণ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুদানের চেক বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুল হক।

উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে মহিলা উদ্যোক্তাদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা। নিবন্ধনকৃত ১০ টি সমিতির মধ্যে ৪ টি সমিতির প্রত্যেককে ২২ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য মাওলানা শেফাউল হক, গাজীপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রেহান উদ্দিন, সমবায় কার্যালয়ের সহ পরিদর্শক রায়হান উদ্দিন, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব আলম, এনজিও প্রতিনিধি মোর্শেদা আক্তার প্রমুখ।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

অনুদানের চেক প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন কাপাসিয়া সদরের বরুন উদ্যোগী নারী উন্নয়ন সংগঠনের সভানেত্রী খাদিজা খানম, টোক ইউনিয়নের বীর উজলী পল্লী নারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ফাতেমা খাতুন, চাঁদপুর ইউনিয়নের নলগাঁও মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী মাহবুবা জান্নাত শিখা, বারিষাব ইউনিয়নের চরদুর্লভ খাঁ ভাওয়ালী নারী উন্নয়ন সংগঠনের সভানেত্রী রহিমা খাতুন প্রমুখ।

এছাড়া কাপাসিয়া উপজেলার প্রাক্তন ও প্রয়াত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার এবং একজন মহিলা উদ্যোক্তার মৃত্যুতে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতি নিবন্ধন ও পরিচালনা নির্দেশিকা, ২০২১ অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মূল কার্যক্রম ছয়টি প্রধান গুচ্ছ বা খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে মানব সম্পদ উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করা অন্তর্ভুক্ত। দরিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে হতদরিদ্র নারীদের জন্য আয়বর্ধক কার্যক্রম ও ছোট ঋণ বা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় সমাজে নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানোও এই কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রমে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন রোধে সচেতনতা তৈরি এবং আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাদি ও সেবা প্রদানে সদস্যদের জন্য বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ও জনকল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করা হয়। সচেতনতা বৃদ্ধি ও জেন্ডার সমতামূলক কার্যক্রমে সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে এবং জেন্ডার সমতা আনয়নমূলক সভা ও প্রচারণা চালানো হয়।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজিতপুরে হাওরের বুকে গড়ে উঠেছে শিক্ষার আলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


বাজিতপুরে হাওরের বুকে গড়ে উঠেছে শিক্ষার আলো

একটি স্কুল হাওরের বুকে গড়ে উঠেছে। পিছিয়ে পড়া জনগণের ছেলেমেয়েরা বাহের বালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গরিব কৃষকের সন্তান ও নদীর তীরে জেলে সমাজের ছেলে-মেয়েরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারা খুব কষ্টে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

শুকনো মৌসুমে তাদের জন্য কিছুটা সুবিধা হলেও বর্ষাকালে খেয়া নৌকা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে গরিব অভিভাবকদের জন্য খরচ বাড়ে। তবুও তারা ফলাফলের দিক থেকে পিছিয়ে নেই।

এই উপজেলার কয়েকটি নামি বিদ্যালয়ের মধ্যে এস.এস.সি ফলাফলের দিক থেকে তারা অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ে যেতে তাদের প্রতিদিন ৩০ মিনিট সময় লাগে।

৩০০ শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য দুটি নৌকা রয়েছে। বাহের বালী ও আশেপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে এসে পড়াশোনা করেন।

বর্ষাকালে চারপাশে পানিতে থই থই করে থাকে তিন তলা ভবনটি। নিচতলা অধিকাংশ সময় হাওরের পানিতে ডুবে থাকে।

শিক্ষকরা শুধুমাত্র দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পাঠদান করেন। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো রাস্তা নেই।

বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নে অবস্থিত বাহের বালী এসইএসডিপি মডেল হাইস্কুলে প্রতিদিন নিয়মিত ক্লাস চলে। স্কুলের চারপাশ জলমগ্ন থাকায় কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে নৌকার ব্যবস্থা করেছেন।

এভাবেই হাওর অঞ্চলে পানি ঘেরা পরিবেশে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী জানান, নৌকা ধরতে তাদের অনেক সময় চলে যায়। বাহের বালী, পুরাকান্দা, আইনারগোপ, শিবপুর ও বোয়ালী এই ৫টি গ্রামের ৩ শতাধিক ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করে আসছেন।

তাদের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য অভিভাবকরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

রফিক উদ্দিন বলেন, "স্কুল টা হওয়ায় বাজিতপুরে কোনো বিদ্যালয়ে যেতে হয় না। খরচ তাদের খুব কম পড়ে।" শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন এসডিপি প্রকল্পের অধীনে বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়।

প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১১ সালে এসে শেষ হয়। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়।

এই সুবিধাবঞ্চিত অনগ্রসর এলাকায় বিদ্যালয়টি হওয়ায় তারা শিক্ষার আলো পেয়ে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে সারা দেশে ৮৩টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।

২০১৭ সালে এই ৮৩টি বিদ্যালয়কে এমপিও ভূক্ত করা হয়। তবে বাহের বালী স্কুলটি এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ এমপিও ভূক্ত স্বীকৃতি পায়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিপন চন্দ্র দাস জানান, ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ৯ম-১০ম পর্যন্ত বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, "সে সময় একটি চিঠি ইস্যু করা হলেও তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি।" যার কারণে স্কুলটি এমপিও ভূক্ত হয়নি।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তবর্তীকালিন সরকারের অধীনে নতুন করে এমপিও ভূক্ত আবেদনের জন্য আহ্বান করা হয়। সেই সুযোগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনে আবেদনও করেন।

বর্তমানে এটি স্থগিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিআইজি-এসপিসহ ৩১ পুলিশ কর্মকর্তার রদবদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


ডিআইজি-এসপিসহ ৩১ পুলিশ কর্মকর্তার রদবদল

সরকার ৩১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদায়ন করেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের তিনটি পৃথক আদেশে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বদলির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে ঢাকার পুলিশ ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুল (টিডিএস)-এর কমান্ড্যান্ট হিসেবে নতুন পদায়ন করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হককে সুপারনিউমারারি ডিআইজি হিসেবে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের ডিআইজি পরিতোষ ঘোষ, এনডিসিকে এপিবিএন (পার্বত্য জেলাসমূহ) কার্যালয়ের ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।

ঢাকার এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, বিপিএম-সেবাকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে নতুনভাবে পদায়ন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ওএসডি হিসেবে থাকা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএমকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে র‍্যাবের উপপরিচালক (পুলিশ সুপার) মো. বদরুদ্দোজাকে নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। নেত্রকোণা জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম, পিপিএম-সেবাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

র‍্যাবের উপপরিচালক (পুলিশ সুপার) মীর মনির হোসেনকে রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, বিপিএম-সেবাকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

মেহেরপুর জেলার পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়কে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার পদে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি আলী হায়দার চৌধুরী, বিপিএমকে মেহেরপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নতুনভাবে পদায়ন করা হয়েছে।

এদিকে, সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং লিয়েন শেষে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করা পুলিশ সুপার মো. নূরুল আমীন হাওলাদারকে ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) পদে পদায়ন করা হয়েছে।

সরকারের এই তিনটি আদেশে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসব আদেশ কার্যকর হবে অবিলম্বে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটুয়াখালীতে ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় বাদী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


পটুয়াখালীতে ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় বাদী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সত্যতা পায়নি। তদন্তের পর আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। একই সাথে, মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অভিযোগে বাদী জাহানারা বেগমের (৬৩) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন যে, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়া পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে তাকে মক্তবের পাশে একটি স্টোররুমে নিয়ে মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহ ধর্ষণ করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, পরে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের উপর ন্যস্ত হয়। তদন্তের সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা হয়। তদন্ত শেষে গত ২৯ জুন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মামলায় আনা ধর্ষণের অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগটি মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আলামত বা তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা যায়, জাহানারা বেগমের নাতির মডেল মসজিদে যাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তবে মামলায় করা ধর্ষণের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা জজ পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের ওই নির্দেশের পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। দীর্ঘদিন আসামি পলাতক থাকার পর সোমবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর মডেল মসজিদের মালামাল চুরির অভিযোগে জাহানারা বেগমের দুই নাতিকে আটক করা হয়েছিল। মসজিদের খাদেম সাব্বির ও মুসল্লি আলহাজ শাহ আলম তাদের আটক করে বিষয়টি মসজিদের পেশ ইমামকে জানান। পরে ইমাম বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এবং সহকারী পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) অবহিত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়। তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর প্রায় ১৫ দিন পর মডেল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন জাহানারা বেগম।

মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেনের দাবি, মসজিদের বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটছিল। স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় জাহানারা বেগমের নাতিকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে বয়স কম হওয়ায় পুলিশ তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এর কিছুদিন পরই তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়।

তবে জাহানারা বেগমের বক্তব্য, চুরির অভিযোগে তার দুই নাতিকে আটকে রাখার ঘটনায় তিনি মামলা করেছেন।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সোমবার রাতে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেঁতুলিয়া নদীতে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা, ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন তলব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


তেঁতুলিয়া নদীতে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা, ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন তলব

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারির পর ‘বুড়া গৌরাঙ্গ বালুমহাল’ সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের কাছে চেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সারায়াত-২ শাখা পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে হাইকোর্টের রিটের আদেশের কপি সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে ‘বুড়া গৌরাঙ্গ বালুমহাল’ ঘোষণার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ওই এলাকায় বালুমহাল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

রিটের শুনানি শেষে গত ১৬ আগস্ট বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন ও অপসারণ বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে রুল জারি করেন আদালত।

রিটে অভিযোগ করা হয় যে, নদীভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদীর এলাকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ নামে বালুমহাল ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুমহাল ঘোষণার আগে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

হাইকোর্টের আদেশে সরকারি দপ্তরের নথিতে ভুল বা অপ্রচলিত নামে রেকর্ডভুক্ত এলাকাগুলো যাচাই করে প্রকৃত ‘তেঁতুলিয়া নদী’ নামে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও প্রদান করেছে।

তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ চিঠিতে সরাসরি ‘বুড়া গৌরাঙ্গ বালুমহাল’ বাতিলের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং বালুমহালটি ঘোষণার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

সরকারি নথিতেও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর তালিকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ ও ‘তেঁতুলিয়া’, দুটি পৃথক নদীর নাম রয়েছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত নদ-নদীর তালিকায় বাউফলের একটি নদীকে ‘তেঁতুলিয়া (বরিশাল)’ থেকে ‘বুড়িশ্বর পায়রা’ পর্যন্ত প্রবাহিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে দশমিনা, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী এলাকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ নদীর উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%