প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারির পর ‘বুড়া গৌরাঙ্গ বালুমহাল’ সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের কাছে চেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সারায়াত-২ শাখা পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে হাইকোর্টের রিটের আদেশের কপি সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে ‘বুড়া গৌরাঙ্গ বালুমহাল’ ঘোষণার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ওই এলাকায় বালুমহাল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে গত ১৬ আগস্ট বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন ও অপসারণ বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে রুল জারি করেন আদালত।
রিটে অভিযোগ করা হয় যে, নদীভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদীর এলাকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ নামে বালুমহাল ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুমহাল ঘোষণার আগে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
হাইকোর্টের আদেশে সরকারি দপ্তরের নথিতে ভুল বা অপ্রচলিত নামে রেকর্ডভুক্ত এলাকাগুলো যাচাই করে প্রকৃত ‘তেঁতুলিয়া নদী’ নামে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও প্রদান করেছে।
তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ চিঠিতে সরাসরি ‘বুড়া গৌরাঙ্গ বালুমহাল’ বাতিলের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং বালুমহালটি ঘোষণার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
সরকারি নথিতেও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর তালিকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ ও ‘তেঁতুলিয়া’, দুটি পৃথক নদীর নাম রয়েছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত নদ-নদীর তালিকায় বাউফলের একটি নদীকে ‘তেঁতুলিয়া (বরিশাল)’ থেকে ‘বুড়িশ্বর পায়রা’ পর্যন্ত প্রবাহিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে দশমিনা, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী এলাকায় ‘বুড়া গৌরাঙ্গ’ নদীর উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন